আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে, আজি হতে শতবর্ষ পরে! আজি নব বসন্তের প্রভাতের আনন্দের লেশমাত্র ভাগ, আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান, আজিকার কোনো রক্তরাগ_ অনুরাগে সিক্ত করি পারিব কি পাঠাইতে তোমাদের করে, আজি হতে শতবর্ষ পরে? তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার বসি বাতায়নে সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি […]
কবিতা
বাংলা কবিতা সংকলন
কবির ইচ্ছা
হাঁটতে হাঁটতে পার হয়ে গেছি তপ্ত দুপুর; এখন বিকেল। সামনে সন্ধ্যা। কার যেনো সুর_ ইশারায় ডাকে, আয় আয় হাঁকে আমার নামেই আসছে রাত্রি গভীর কালো কে যেনো বলছে, দুয়ারে অতিথি প্রদ্বীপ জ্বালো। আলোর খেলাতো দেখেছি আগেও অনেক আমি। এখন রাতের উষ্ণ হাতের স্পর্শ কী পাবো? পাই বা না পাই, আমি চলে যাই দূর দিগন্তে খেলা […]
বৈশাখ
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ, ধুলায় ধূসর রুক্ষ উড্ডীন পিঙ্গল জটাজাল, তপঃক্লিষ্ট তপ্ত তনু, মুখে তুলি বিষাণ ভয়াল কারে দাও ডাক_ হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ। ছায়ামূর্তি যত অনুচর দগ্ধতাম্র দিগন্তের কোন্ ছিদ্র হতে ছুটে আসে! কী ভীষ্ম অদৃশ্য নৃত্যে মাতি উঠে মধ্যাহ্ন-আকাশে নিঃশব্দ প্রখর_ ছায়ামূর্তি তব অনুচর মত্তশ্রমে শ্বসিছে হুতাশ। রহি রহি দহি দহি […]
আর কেহ নয় [কবি বুলবুল খান মাহবুব শ্রদ্ধাভাজনেষু ]
ইচ্ছা থাকিলেই উপায় হয়, কথাটি সর্বৈব মিথ্যা। আমার ইচ্ছা থাকিতে থাকিতেই, একদিন ইচ্ছা হইলো, রাজপুত্র হইবো, রাজপুত্র হইলে রাজকন্যা পাইবো, পাইবো রাজত্ব। সেদিন রাজবাড়ীর নিকটস্থ হইতেই পাইক, বরকন্দাজ আসিয়া আমাকে হাতির মাহুত বানাইয়া দিয়া, কানে কানে বলিলেন, হস্তিপৃষ্ঠে রাজকন্যা থাকাবস্থায় কক্ষনোই তাহাকে দেখিবার চেষ্টা করিও না, রাজকন্যা যদি ঘুণাক্ষরে বুঝিতে পারেন তাহা হইলে তোমার জীবন […]
জলভরা মেঘ চাই যখন খরায়
সবকিছু ডুবে যাক আজ : চেতনা, চিত্রিত নদী, গৃহস্থের ঘরদোর, ফসলের ক্ষেত, গাছপালা, ধানী মরিচের টাল, মননের নিধুয়া পাথার… নদীনালা ব্যেপে চাই আজ অথৈ জলের বিস্তার, জল চাই জীবনে-যৌবনে_জীবনকে ঘিরে চাই পরিব্যাপ্ত স্থির জলরাশি_ জল-থৈ-থৈ সি্নগ্ধ শাপলা-শালুকে ভরা দীঘিটিও চাই; প্লাবনেও ক্ষতি নেই; ফসলবিনাশী জল জানি একদিন খুব ক’রে আমাদের ক্ষেতে-ক্ষেতে ফসল ফলাবে; আবেগের সীমা […]
এখনো সময় আছে
তখন তোমার বয়স আশী, দাঁড়াবে গিয়ে আয়নায় নিজেই ভীষণ চমকে যাবে, ভাববে এ কে ? সামনে এ কোন ডাইনী ? মাথা ভর্তি শনের নুড়ি, চামড়া যেন চোত-বোশেখের মাটি চক্ষু দুটি মজা-পুকুর, আঙুলগুলো পাকা সজনে ডাটা ! তোমার দীর্ঘষ্বাস পড়বে, চোখের কোণে ঘোলা জলের ফোটায় মনে পড়বে পুরনো দিন, ফিসফিসিয়ে বলবে তুমি, আমারও রূপ ছিল ! […]
বহুদিন পর প্রেমের কবিতা
বুকের ভিতরে যেন মুচড়ে উঠলো একুশে এপ্রিল একুশে এপ্রিল, ওকি চুলের ভিতরে কার ক্ষীণ বজ্রমুষ্টি? বিষম লোভের মধ্যে ছুটোছুটি – দূর শহর, অব্যক্ত মন্দিরে ব্রীজের অনেক নীচে চাঁদ, আঃ সহ্য হয় না এমন জ্যোৎস্নায় জলের বিমর্ষ শব্দ, এক আনার টিকিট পেরিয়ে ওপারে পৌঁছুলে ট্রেন, স্টেশনের একুশে এপ্রিল রাত্রি দিয়েছিল। চোরকাঁটা ভরা মাঠে মরা সাপ, যেও […]
জন্ম হয়না, মৃত্যু হয়না
আমার ভালোবাসার কোন জন্ম হয়না মৃত্যু হয়না– কেননা আমি অন্যরকম ভালোবাসার হীরের গয়না শরীরে নিয়ে জন্মেছিলাম। আমার কেউ নাম রাখেনি, তিনটে চারটে ছদ্মনামে আমার ভ্রমণ মর্ত্যধামে, আগুন দেখে আলো ভেবেছি, আলোয় আমার হাত পুড়ে যায় অন্ধকারে মানুষ দেখা সহজ ভেবে ঘুর্ণিমায়ায় অন্ধকারে মিশে থেকেছি কেউ আমাকে শিরোপা দেয়, কেউ দু’ চোখে হাজার ছি ছি তবুও […]
পর্বত
ছোটোবেলায় উঠোনের কোণে স্বপ্নের মতো একরত্তি লাল একটা ঘাসফুল দেখে বিভোর হ’য়ে গিয়েছিলাম। তারপর কতো ভোরে সেই একরত্তি ফুল হ’য়ে উঠোনের কোণে আমি অত্যন্ত নি:শব্দে ফুটেছি। আট বছর বয়সে আমার খুব ভালো লেগেছিলো ডালিমের ডালে ঘুমের মতোন ব’সে থাকা দোয়েলটিকে। তারপর অসংখ্য দুপুরে আমি ঘুম হ’য়ে ডালিমের শাখায় বসেছি। পুকুরে পানির সবুজ কোমল ঢেউ হয়েছি […]
আলোয়-আঁধারে
ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে গাঢ় অন্ধকার প্রগাঢ় ঘুমের থেকে এই জেগে-ওঠা অর্থময় হয়ে ওঠে নগরে ও গ্রামে! আড়ে-দিঘে বেড়ে যায় সুচির রজনী, রজনীর বাড়াবাড়ি মানুষের ঘরে বেমানান বরাবরই মানুষের চোখে; চোখগুলি দোষী নয় বরং নির্দোষ মানুষের চোখ চায় কনে-দেখা আলো! কোন আলো লাগল তবে মানুষের চোখে? মানুষীর চোখে জাগে অনন্ত আঁধার! ভোরের কাগজ : শুক্রবার, […]
