যদি কোন দিন

যদি কোনদিন দিগন্তের উপরে মাথা তুলে দাড়াতে পারি আমি তোমাদের সব হিসেব মিটিয়ে দিয়ে দেবো । মেঘ বরণ কাঁশ ফুলের মত আঙুলে ক্যারাম খেলা দেখেছি জানালার বাইরে থেকে চোখ তুলে নিঃশব্দে কতদিন বলতে চেয়েছি শুধু ১ বার তোমরা আমাকে খেলতে নাও দেখেও দেখেনি তারা কোনোদিন । গোঁয়াল ঘরের পেছনে পোষা কুকুরের গলায় মুখ রেখে অস্ফুটে […]

জলের গজল

আকার ইকার আমি ভুল করি শুধু ভুল করি যতবার ভুল করি ততবার সেই নাম ধরি। ধরতে ধরতে আমি ধরা পড়ি নিজের কাছেই, যতবার ধরা পড়ি ততবার সেই নাম ধরি। কি আছে অধরা বলো ধূলিহীন ধরার কুলায় যতই সধরা হই ততবার সেই নাম ধরি। বুকের গভীরে সুখ ধুকপুক শুধু জ্বলে যায় জ্বলে জ্বলে ছাই হয়ে ততবার […]

গাঢ় সন্ধ্যার অমাবস্যা

শব্দের দোকান খুলে সেই কোন প্রথম প্রহরে অপেক্ষায় আছি, আর এখন দুপুর, কেউ তো আসেনি, শুধু এক ক্ষুধার্ত কুকুর— তাকেই দিয়েছি সব শব্দধ্বনি দুই থালা ভরে। নদীতে নির্জন নৌকো, জলের নূপুর স্তব্ধতাকে চুমো খেয়ে শীর্ণ খাতের ভেতরে শুয়ে আছে—চোখে দেখা যায় যত দূর দীর্ঘ ছায়া পড়ে আছে মানবের পাঁজরে পাঁজরে। আমি তো এখন শুয়ে চৌকিতে […]

থানা গারদ থেকে

তুমি এখন ছাদের আলসেতে হয়ত কাপড় মেলছো ,মাগো । আমাদের বাড়ীর সামনের কাঠাল গাছটার ভারী ভারী পাতাগুলোর বুকে সুর্যের কিরণ হয়ত এখন ছক ছক করছে । আর একটু পরে হয়ত তুমি লাল পেড়ে সেই গরদের শাড়িটা পরে আহ্নিক সারতে বসবে তোমার ভেজা ভেজো এলো চুল গুলো থাকবে পিঠের উপর ছড়িয়ে আর আমি অন্ধকারের চেয়েও কালো […]

বাঙালির নববর্ষ

আজকের এ প্রভাত ঘোষণা করেছে যে সূর্য, দুই বাহু প্রসারিত করে আমরা সবাই আজ আলিঙ্গন করব তাকে। আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব তার বুকে, আমরা তাকে জড়িয়ে ধরব ছোট্ট শিশুরা যেভাবে জড়িয়ে ধরে তার মাকে। আজ পহেলা বৈশাখ। আজ বাঙালির জন্মদিন।… ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ বাংলার আকাশে-বাতাসে আজ শুধু তাপস-নিশ্বাস। আজকের এই পোয়াতি আকাশ প্রসব করেছে […]

এই শ্রাবণের বুকের ভিতর আগুন আছে

সেই কবে ‘জ্যোতির্ময় রবি ও কালো মেঘের দল’ নামের একটি নাতিবৃহৎ বই হাতে এসেছিল— পাঠ শেষে এতটাই নির্বাক আর বাঙালি জিবের বিদ্বেষ-বিষের লালায় এতটাই আক্রান্ত হয়েছিলাম, কেন? বইটির শিরোনামই বলে দেয়; ‘জ্যোতির্ময় রবি’কে সারাটা জীবনে কতটা ঘাত-প্রতিঘাত সইতে হয়েছিল—সত্যি বলতে কি, রবি যখন আপন জ্যোতিতে দেদীপ্যমান তখন স্বদেশে তার সম্পর্কে কটু-কাটব্য, এমনকি ব্যক্তিগত শোক-দুঃখের মাঝেও […]

চলে আয় বন্ধু তুই

কবিতাঃ চলে আয় বন্ধু তুই কবিঃ নিলয় ———————-♪♪♪💛❤) ফুটুক গোলাপ, বা না ফুটুক জুঁই – চলে আয় বন্ধু চলে আয় তুই। এই অবেলায় আমাদের এই বন্ধুমেলায় ইচ্ছেঘুড়ির নাটাই হাতে চল ফিরে যাই শিশু মেলায়, মাতাবো ভুবন, বিভুঁই – চলে আয় তুই! আমরা সবাই মিলে তুমুল আড্ডায় হারাবো ইচ্ছে হলেই দৌড় ইচ্ছে হলেই দাঁড়াবো! যাবো বন […]

তোমাকে ছোঁব

শুধু তোমাকে একবার ছোঁব, ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন। শুধু তোমাকে একবার ছোঁব, অহংকারে মুছে যাবে সকল দীনতা। শুধু তোমাকে একবার ছোঁব, স্পর্শসুখে লিখা হবে অজস্র কবিতা। শুধু তোমাকে একবার ছোঁব, শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ। শুধু তোমাকে একবার ছোঁব, অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়। শুধু তোমাকে একবার ছোঁব, তারপর হব ইতিহাস।

ব্যস্ততা

তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, যা কিছু নিজের ছিল দিয়েছিলাম, যা কিছুই অর্জন-উপার্জন ! এখন দেখ না ভিখিরির মতো কেমন বসে থাকি ! কেউ ফিরে তাকায় না। তোমার কেন সময় হবে তাকাবার ! কত রকম কাজ তোমার ! আজকাল তো ব্যস্ততাও বেড়েছে খুব। সেদিন দেখলাম সেই ভালবাসাগুলো কাকে যেন দিতে খুব ব্যস্ত তুমি, যেগুলো তোমাকে আমি দিয়েছিলাম।

মহা নিমগাছ

ঈশানে নৈঋতে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে মাটির উপর মুখ রেখে সে এখন শুয়ে আছে শেষ রাতের খোলা প্রান্তরে আর কেউ নেই শুধু তার পিঠের দিকে তাকিয়ে আছে লক্ষ লক্ষ তারা হাতের ডানায় লেগে আছে ঘাসের সবুজ, বুকে ভেজা মাটি এইটুকু ছাতা যেন কোনো কোমলতা ছিল না কোথাও কোনোখানে তারপর আকাশ আর পৃথিবীর ঢাকনা খুলে বেরিয়ে […]