ওই কালস্রোত। আমি
সিমেন্ট বাঁধানো পাড় থেকে
হাত ডোবাই।
আমার আঙুল গলে যায়। কব্জি, বাহু
গলে যায়। ঘাড়ের উপরে মুণ্ডু নিয়ে
আমি হাত-পা-কাটে জগন্নাথ
নদী-নালা আঁকা এক ঘুরন্ত বলের পিঠে
বসে থাকি।
শূন্যে পাক খাই।
ওই কালস্রোত। আমি
সিমেন্ট বাঁধানো পাড় থেকে
হাত ডোবাই।
আমার আঙুল গলে যায়। কব্জি, বাহু
গলে যায়। ঘাড়ের উপরে মুণ্ডু নিয়ে
আমি হাত-পা-কাটে জগন্নাথ
নদী-নালা আঁকা এক ঘুরন্ত বলের পিঠে
বসে থাকি।
শূন্যে পাক খাই।
ডাইনে বাঁয়ে দুইদিকে দুই বাংলা আমার আপন স্বজন দুজন মাতা। ভালোবাসার সাঁকোর ওপর পা টলমল পা টলমল পা বাড়ালেই পদ্মা নদী হাত বাড়ালেই পদ্ম পাতা এবার পাবো। আজান-বাজান ভাটিয়ালীর কন্ঠনালীর ছন্দগাথা প্রবহমান নদীনালায় গুনতে যাবো। পাঁজর পোড়া গর্ত খোঁড়া হাটের মাঠের ঘরের ঘাটের সব দরজা জানলা খুলে খুঁজতে যাবো অগ্নিবরণ ভোরবেলাতে আমরা কজন আবহমান ভগ্নি-ভ্রাতা। […]
শতকোটি প্রনামান্তে হুজুরে নিবেদন এই– মাপ করবেন খাজনা এ সন ছিটেফোঁটাও ধান নাই। মাঠেঘাটে কপাল ফাটে দৃষ্টি চলে যত দূর খাল শুক্নো বিল শুক্নো চোখের কোলে সমুদ্দুর। হাত পাতব কার কাছে কে গাঁয়ের সবার দশা এক তিন সন্ধে উপোষ দিলাম আজ খাচ্ছি বুনো শাক। পরনে যা আছে তাতে ঢাকা যায় না লজ্জা ঘটি বাটি বেচেছি […]
( ১৯৬৩ সালে রচিত এবং ১৯৬৪ সালে ‘হাংরি বুলেটিন’-এ প্রকাশিত এই কবিতাটির জন্য মলয় রায়চৌধুরী গ্রেপ্তার হন– সাহিত্যে অশ্লীলতা ও সমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে । তাঁর বিরুদ্ধে ৩৫ মাস ব্যাপী মকদ্দমা চলে চলে। কলকাতার নিম্ন আদালতে তাঁর সাজা হলেও উচ্চ আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। মলয়ের পক্ষে আদালতে সাক্ষী ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তরুণ সান্যাল, জ্যোতির্ময় […]
