একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট

একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট অন্যটিতে আরম্ভের ডানা ছড়ানো ঈগল ছোঁ মেরে ওঠে আবার, তার নখে সরীসৃপ পায়ের গোছে শিকল একটি শুভ আরম্ভের মাঙ্গলিক ঘট ঘটের নীচে সাপের চোখ, মণি বুড়ো আঙুল কেটে দেওয়ার পরেও বাকি থাকে কলম, তর্জনী মাটির কান, মাটির নীচে রক্ত চলাচল– ভূর্গভের হৃদয় নড়ে–ওষ্ঠ? নড়ে তা-ও! দুঃখ তার কণ্ঠা ক্ষুর দিয়ে ফাঁক করেছে–খাও

এই শেষ পায়রা

এই শেষ পায়রা। এই শেষ শান্তির পতাকা। ঘাড়ে পোঁতা। কিন্তু তার ছুঁচালো লোহার দণ্ড ঘাড়ে ঢুকে থামে না–এগোয়। খোঁজে শিরদাঁড়া–ইলেকট্রোড। পায়। ছোঁয়। গর্ত করে আর দিন চলে যায় শতলক্ষ বছরের পার তারপর যারা আসে, তারা দেখে বসে আছে একটু মনুষ্যমূর্তি, কাঁধে পাখি– দুজনই অঙ্গার!

প্রেমিক

তুমি আমাকে মেঘ ডাকবার যে বইটা দিয়েছিলে একদিন আজ খুলতেই দেখি তার মধ্যে এক কোমর জল। পরের পাতায় গিয়ে সে এক নদীর অংশ হয়ে দূরে বেঁকে গেছে। আমাকে তুমি উদ্ভিদ ভরা যে বইটা দিয়েছিলে আজ সেখানে এক পা-ও এগোনো যাচ্ছে না, এত জঙ্গল। গাছগুলো এত বড় হয়েছে যে মাটিতে আলো আসতে দিচ্ছে না। তুমি আমাকে […]

স্বপ্নে

স্বপ্নে তোকে বাড়ির দিকে এগিয়ে দিতে যাই স্বপ্নে এসে দাঁড়াই পাড়ার মোড়ে কখন তুই ফিরবি ভেবে চারিদিকে তাকাই টান লাগাই তোর বিনুনি ধরে । স্বপ্নে আমি ভিক্টোরিয়ায় তোর পাশে দাঁড়াই স্বপ্নে বসি ট্যাক্সিতে তোর পাশে স্বপ্নে আমি তোর হাত থেকে বাদাম ভাজা খাই কাঁধ থেকে তোর ওড়না লুটোয় ঘাসে । তুলতে গেলি –কনুই ছুঁলো হাত […]

ঝাউ গাছের পাতা, তোমার মিত্রা দিদি ভালতো শিলচরে ?

মিত্রা দিদি, তোমাকে নিয়ে কাব্য লেখেনি কোন পুরুষ কোন দিন। গলির মোড়ে বাজেনি সম্মিলিত শীৎকার, বখাটে ছেলেদের। তোমাকে দেখতে আসেনি পাত্রপক্ষ, এসেছিল শুধু মেপে নিতে, তোমার বুক, চুল, নিতম্ব যাবতীয় সব শারিরিক। কত বার গেছ তুমি কামরূপ-কামাক্ষা ? কত বার ছুঁয়েছ তুমি কাম পীঠে সিঁদুর ? কত বার পাল্টেছ জ্যোতিষি তুমি ? কত বার করিয়েছ […]

ঈশ্বর আর প্রেমিকের সংলাপ

– ‘সে যদি তোমাকে অগ্নিতে ফেলে মারে?’ বিনা চেষ্টায় মরে যাব একেবারে — ‘সে যদি তোমাকে মেঘে দেয় উত্থান?’ বৃষ্টিতে, আমি বৃষ্টিতে খানখান — ‘সে যদি তোমাকে পিষে করে ধুলোবালি?’ পথ থেকে পথে উড়ে উড়ে যাব খালি — ‘উড়বে?– আচ্ছা, ছিঁড়ে দেয় যদি পাখা?’ পড়তে পড়তে ধরে নেব ওর শাখা — ‘যদি শাখা থেকে নীচে […]

স্নান করে উঠে কতক্ষণ

স্নান করে উঠে কতক্ষণ ঘাটে বসে আছে এক উন্মাদ মহিলা মন্দিরের পিছনে পুরনো বটগাছ। ঝুরি। ফাটধরা রোয়াকে কুকুর। অনেক বছর আগে রথের বিকেলে নৌকো থেকে ঝাঁপ দিয়ে আর ওঠেনি যে-দস্যি ছেলেটা এতক্ষণে, জল থেকে সে ওঠে, দৌড় মারে, ঝুরি ধরে খুব দোল খায় সারা গা শ্যাওলায় ভরা, একটা চোখ মাছে খেয়ে গেছে কেউ তাকে দেখতে […]

প্রাক্তন

ঠিক সময়ে অফিসে যায়? ঠিক মতো খায় সকালবেলা? টিফিনবাক্স সঙ্গে নেয় কি? না ক্যান্টিনেই টিফিন করে? জামা কাপড় কে কেচে দেয়? চা করে কে আগের মতো? দুগগার মা ক’টায় আসে? আমায় ভোরে উঠতে হত সেই শার্টটা পরে এখন? ক্যাটকেটে সেই নীল রঙ টা? নিজের তো সব ওই পছন্দ আমি অলিভ দিয়েছিলাম কোন রাস্তায় বাড়ি ফেরে? […]

কীভাবে এলাম এই শহরে

কীভাবে এলাম এই শহরে, সে মস্ত ইতিহাস! হামাগুড়ি দিয়ে আর ট্রেনের পিছনে ট্রেন ধরে রেললাইনে হাতেপায়ে তালা ও শিকল বেঁধে শুয়ে ট্রেন এসে পড়ামাত্র চক্ষের নিমিষে ড্রাইভারের কেবিনের জানলা দিয়ে জনতার প্রতি হাত নেড়ে টুপির ভেতর থেকে পায়রা খরগোশ ধরে, ছেড়ে, মাথার এদিক দিয়ে রড ঢুকিয়ে ওদিকে বার করে সম্মোহন করে নিজ সহকারিণীকে বাক্সে ভরে […]

ময়না

এই যে কাকভোরে উঠে দরজা ঝাঁট দিই এই যে হাজারবার গিন্নিমার মুখ শুনি বৌদির কাপড় আর দাদার ফুলপ্যান্ট কেচে নড়া ব্যথা করি বাবুর ধমক খাই অপিসের আগে, বাচ্চা সামলাই আর এই যে সাতবার ক’রে দোকানে দৌড়োই, সে তো মোড়ে তুই রিক্সা নিয়ে আছিস ব’লেই, সে তো পাসিঞ্জার তুলে কি নামিয়ে তুই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিস ব’লেই, […]