ব্যস্ততা

তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, যা কিছু নিজের ছিল দিয়েছিলাম, যা কিছুই অর্জন-উপার্জন ! এখন দেখ না ভিখিরির মতো কেমন বসে থাকি ! কেউ ফিরে তাকায় না। তোমার কেন সময় হবে তাকাবার ! কত রকম কাজ তোমার ! আজকাল তো ব্যস্ততাও বেড়েছে খুব। সেদিন দেখলাম সেই ভালবাসাগুলো কাকে যেন দিতে খুব ব্যস্ত তুমি, যেগুলো তোমাকে আমি দিয়েছিলাম।

মহা নিমগাছ

ঈশানে নৈঋতে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে মাটির উপর মুখ রেখে সে এখন শুয়ে আছে শেষ রাতের খোলা প্রান্তরে আর কেউ নেই শুধু তার পিঠের দিকে তাকিয়ে আছে লক্ষ লক্ষ তারা হাতের ডানায় লেগে আছে ঘাসের সবুজ, বুকে ভেজা মাটি এইটুকু ছাতা যেন কোনো কোমলতা ছিল না কোথাও কোনোখানে তারপর আকাশ আর পৃথিবীর ঢাকনা খুলে বেরিয়ে […]

মাত্র এই এক জীবনে

অনেক গোপন কথা আছেমাত্র এই এক জীবনে কিছুই হবে না বলানদীর এক ধারে শুধু সারিবদ্ধ গাছ রুদ্ধবাকআমাদের দিনগুলি জলের ভেতরে জলতারও নীচে জলরোদ্দুরের পাশাপাশি ছায়ার নির্মাণ তারা ক্রমশই গাঢ়অনেক গোপন কথা আছেমাত্র এই এক জীবনে কিছুই হবে না বলাযে-কথা তোমার নয়, যে-কথা আমার নয়সকলেই সেই কথা বলেকেউ চলে যায় দূরে একা মুখ লুকোবার ছলেপিঁপড়ের সংসার […]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রদ্ধাস্পদেষু

আকাশ বাতাস যারযে পার হবে কান্তার সে তো আমার মধ্যে আমার কাঁধের উপরথাকুক তোমার ভারআমি হাঁটতে থাকি বকুল ঝরে ঝরুকআমি হাঁটতে থাকি 

বুঝলে রাধানাথ

একটা সাইকেল থাকলে বড় ভালো হতোবুঝলে, রাধানাথ,আরো ভালো হতো একটা মোটরবাইক থাকলে। নিজস্ব রেলগাড়ি ছাড়া,বুঝলে রাধানাথএত সব লাঞ্চ এবং ডিনারএত সব ক্লাব, কনফারেন্স, সেমিনারএত সব সিড়ি, সুড়ঙ্গ এবং রঙ্গীন চোরাবালির কাছেঝট ঝট পৌছনো বড় হাঙ্গামার ব্যাপার।একটা অ্যামবাসাডার থাকলে বড় ভালো হতোবুঝলে রাধানাথ,আরো ভালো হতো ছেলেবেলার শালিকের মতোএকটা পোষা হেলিকপ্টার থাকলে। কাঠের বাকসে কুতকুতে খরগোসসে-রকম আতুপুতু […]

আমরা তো অল্পে খুশি

আমরা তো অল্পে খুশি,কী হবে দুঃখ করে?আমাদের দিন চলে যায়সাধারণ ভাতকাপড়ে। চলে যায় দিন আমাদেরঅসুখে ধারদেনাতেরাত্তিরে দুভায়ে মিলেটান দিই গঞ্জিকাতে। সবদিন হয়না বাজার,হলে হয় মাত্রাছাড়া –বাড়িতে ফেরার পথেকিনে আনি গোলাপচারা। কিন্তু পুঁতব কোথায়?ফুল কি হবেই তাতে?সে অনেক পরের কথাটান দিই গঞ্জিকাতে। আমরা তো অল্পে খুশি,কী হবে দু : খ করে?আমাদের দিন চলে যায়সাধারণ ভাতকাপড়ে। মাঝে […]

নিজের সঙ্গে

আকাশের কোলে মেঘের স্তম্ভ বিদ্যুৎ চমকায় বুঝি ওই আসে কাল বৈশাখী দমকে গমকে ধবংসের গরিমায়। ঝরো বৃষ্টির ঘূর্নি উঠেছে- মাথা খুঁটে গাছপালা, বাজে ধমকে গমকে কাঁপছে আমার বুকের জ্বালা। কালো হয়ে আসে মেঘের স্তম্ভ, নাচের মুদ্রা তুলে নাচে নটরাজ দু’পায়ে আওয়াজ হাত দুটি তুলে ঐ কারা যেন বলে আমি তো এখানে ঝনজা কেহ নই নাচের […]

আত্মগোপন

নিজের মাঝেই লুকোতে চাই নিজেই আমি কই লুকোবো আড়াল খুঁজি, অস্তগামী আলোর গোলক নামছে নিচে, নীল পিরিচে ডিমের শোভা দেখছি বসে; অনেক দূরে তারা খসে মিলিয়ে গেল অস্তাচলে। হঠাত্ শুনি নাম ধরে কে ডাকছে আমায়? এই তো আমি এই পৃথিবীর একটি কোণে দাঁড়িয়ে আছি সঙ্গোপনে। গোপনও নয়, আলোর নিচে খুঁজছি আমি হারিয়ে যাওয়া চাবি আমার। […]

আমাদের ভালোবাসা

আপন আলোয় আমি নেমে আসি তোমার দক্ষিণে যেমন সূর্যাস্ত এসে ঘিরে নেয় মন্দির, বটতলা গ্রামান্তে মন্থর দিন নতজানু নদীর কিনারে এই প্রেম, আমাদের ভালোবাসা। যদি বলো ব্যক্তিগত, তবে তাই; এরই তো বীজের মধ্যে দশ দিক ঘুরে আসা নিজেরই ধরনে আমি তাপ রেখে সবার দুহাতে ‘ভালো আছো? বন্ধু, ভালো আছো?’ অনেকেই ভালো নেই, ফিরে চলে আসি […]

প্রেমিক

তুমি আমাকে মেঘ ডাকবার যে বইটা দিয়েছিলে একদিন আজ খুলতেই দেখি তার মধ্যে এক কোমর জল। পরের পাতায় গিয়ে সে এক নদীর অংশ হয়ে দূরে বেঁকে গেছে। আমাকে তুমি উদ্ভিদ ভরা যে বইটা দিয়েছিলে আজ সেখানে এক পা-ও এগোনো যাচ্ছে না, এত জঙ্গল। গাছগুলো এত বড় হয়েছে যে মাটিতে আলো আসতে দিচ্ছে না। তুমি আমাকে […]