বস্তুরা পতিত হয় অথবা মলিন বিস্ফোরিত হয় না কখনো যে রকম সূর্যালোকে ফিকে হয় দ্রুত যেমন বালুকারাশি শুষে নেয় ফেনা এমন কি প্রেমের বিদ্যুচ্ছটা সাঙ্গ হয় না বজ্রের গর্জনে ঝামাপাথরের রুক্ষ মালিনো ফুলের সৌন্দর্য যেন সশব্দে বিলীন সবকিছু এমনই তো অবিকল এমনই রূপ নিতে থাকে। আমরা নিপতিত নৈঃশব্দে এমন বেটোফেনের মাথার চারপাশব্যাপী যে অপার নিঃশব্দ […]
কবিতা
বাংলা কবিতা সংকলন
নীলের শিথানে
যে শাদা দেখি ঐ বকের পাখাতে সে রঙ চায় ওকি আকাশে মাখাতে বোঝে না পাখি সে কি নীলের শিথানে কী ফুল ফুটে আছে আকাশে-বিতানে? আলেয়া ঝিকিমিকি সন্ধ্যারাতে যে নদী বয়ে যায় মনের অতলে কে গোনে ঢেউ তার রূপালি সে জলে। কে অাঁকে বনে ঐ সবুজ কাহিনী লাজুক চোখ তুলে আজও তো চাহিনি, কী মায়া আছে […]
জননী
অথচ জননী জানি সাংবুগীন কারু পারঙ্গমা প্রসন্ন প্রভায় বৃক্ষ করেছেন পিঙ্গল শিশুকে রাত্রির মমতা পর্ণে ব্রহ্মব্রতে কজ্জলে কিংশুকে বিমলিন স্তনধারে সে আমার প্রথম পরমা আমাকে নন্দিত করে হিরন্ময় প্রভাতের ফুলে ওষুধির সন্ধা হলো, অন্তজলি সুরভি সুষমা আমার ইন্দ্রিয়ে অন্ধ দেহভরে বিষণ্ন বকুলে স্বৈরাচারী অস্ত্রী রাম স্বপ্নে বলে, অবিপ্রের ক্ষমা? অবিপ্র তোমায় বলি সর্বস্ব দেহের দাসী, […]
তাপমাত্রা
আমি তোমার বাসায় এক হাঁড়ি শীত পাঠিয়ে দেবো, তুমি শীতপিঠা ভেবে ঢাকনা খুলতেই শীতের কুন্ডুলী অজগরের মতো তোমার কামিজের তলা দিয়ে ঢুকে যাবে অন্ধকার শরীরে, যেখানে যেখানে উত্তাপ লুকিয়ে আছে ছড়ানো-ছিটানো খুচরা পয়সার মতো, সেগুলো গিলে খাবে গোগ্রাসে, ঠান্ডা কুয়াশায় ঢেকে যাবে তোমার মায়াবি স্তন, ফালি ফালি শীত শুয়ে পড়বে ঠোঁটের চাদরে ভুল করে তুমি […]
যোগসূত্র
তোমার ভেতরে আগুন আমি জেনেছি তোমার ভেতরে সাগর আমি জেনেছি তোমার ভেতরে শূন্যতা আমি জেনেছি তোমার ভেতরে মৌনতা আমি জেনেছি তোমার ভেতরে আকাশ আমি জেনেছি তোমার ভেতরে জমিন আমি জেনেছি তোমার ভেতরে ক্ষমতা আমি জেনেছি তোমার ভেতরে মমতা আমি জেনেছি। তোমার ভেতরে বছর নিয়েছি লীজ তোমার ভেতরে বপন করেছি বীজ।
একুশের কবিতা
সভ্যতার মণিবন্ধে সময়ের ঘড়ি শিশুর জন্ম থেকে জরাদেহ ক্ষীণশ্বাস মানবের অবলুপ্তির সীমারেখায় বলে গেল সেই কথা। সেই কথা বলে গেল অনর্গল_ তপ্তশ্বাস হাহুতাশ পাতাঝরা বিদীর্ণ বৈশাখীর জ্বালাকর দিনের দিগন্তে আষাঢ়ের পুঞ্জীভূত কালো মেঘ আসবেই ঠিক। সাগরের লোনাজলে সি্নগ্ধ মাটীর দ্বীপ শ্যামলী স্বপ্নের গান বুকে পুষে নবীন সূর্য্যেরে তার দৃঢ় অঙ্গীকার জানাবেই। সংখ্যাহীন প্রতিবাদ ঢেউয়েরা আসুক, […]
প্রতিদান
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী_ পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি। দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হয়েছে মোর; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর। আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি, […]
তুমি অথবা তোমার ছায়া
এখন আমি ধরতে পারি আকাশ, হাত বাড়ালেই চাঁদ ছোঁয়া যায়, মেঘের বাড়ির উঠোনজুড়ে বিছিয়ে রাখা শীতল পাটি উল্টে দিয়ে ভিজতে পারি, তাম্রলিপি পড়তে পারি চশমা ছাড়াই, ফুঁ দিয়ে ঢেউ তুলতে পারি নীল সাগরে, হাত দিলে সব কুঁড়িগুলো ফুল হয়ে যায় বাগানজুড়ে, এখন আমি পড়তে পারি তোমার দু’চোখ। তুমি আমার শপথনামায় সই করেছো, ভয় কি আমার? […]
ক্যামোফ্লাজ
নিজেকে বাঁচাতে হলে পরে নাও হরিৎ পোশাক সবুজ শাড়িটি পর ম্যাচ করে, প্রজাপতিরা যেমন জন্ম-জন্মান্তর ধরে হয়ে থাকে পাতার মতন। প্রাণের ওপরে আজ লতাগুল্ম পত্রগুচ্ছ ধরে তোমাকে বাঁচতে হবে হতভম্ব সন্ততি তোমার। নিসর্গের ঢাল ধর বক্ষস্থলে যেন হত্যাকারীরা এখন ভাবে বৃক্ষরাজি বুঝি বাতাসে দোলায় ফুল অবিরাম পুষ্পের বাহার। জেনো, শত্রুরাও পরে আছে সবুজ কামিজ শিরস্ত্রাণে […]
আমার পহেলা বৈশাখ
ঠিক সূর্যোদয়ের মুহূর্তে রমনা বটমূলে তোমাকে দেখে আমার মনে হলো, একটা পাখি ভুল করে এসে বসেছে ভোরের প্রচ্ছদে, জলরং ছবিটা প্যাস্টেলে হলে ভালো হতো, ইলিশের কারবারি ভুল করে দোকান খুলেছে মলাটের শিরোনামে। তোমার তো এখন পাঁচতলার বন্ধ জানালা খুলে শোনার কথা ছিলো বুড়োটার গান, কালো শার্সির ওপাশে শীতল রোদ তোমার শরীর থেকে খুলে রাখতো রাতের […]
