‘মনে রাখার দিন গিয়েছে, এখন ভোলার পালা!’ _প্রশ্ন আমার : ভুলতে কি পেরেছিলেন কাজী কবি স্বয়ং? বর্ণহীন জীবনে কেউ ভুলতে পারে ভালোবাসার রঙ? মালার স্মৃতি থেকেই যায়, যতো শুকোক মালা!
কবিতা
বাংলা কবিতা সংকলন
বলেছিলাম
সমস্ত আবর্ত থেকে ফিরে আসো, বলেছি কি ? সে কথা বলিনি৷ বলেছিলাম, আমাদের কালপর্বে যে-ভাঙন উত্স কোথায় এই চণ্ড-সামাজিকতার ? আজকে যে-স্তরগুলি তৈরি হয়ে আছে আমরাই কি নির্মাণ করিনি ঘূর্ণিপাক ? শববাহকেরা এখন বৃত্তের ভিতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে শ্মশানযাত্রীরা নদীর ঠিকানা ভুলে দণ্ডকারণ্যের দিকে ধাবমান আর দ্যাখো, ভূমিকে নির্ভূম করে ভূস্বামীরা আগুন দিচ্ছে চুল্লীতে সব প্রতিরোধ […]
কেন বলেছিলাম
পরমাণু-দেশে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কথা বলতে চাই। বেয়োনেট উঁচিয়ে আমার অস্থি-মজ্জা পাহারা দেবে, এটাই তবে সাংবিধানিক? কীভাবে গর্দান নেবে, ভাবছো? তুমি কি সেই অস্ত্রধারী, আধিকারিক? আজ রাতে পাখিদের উৎসব চলছিল আমন্ত্রিত আমাকে একটি খড়কুটো দিল, তাই নিয়ে উৎসাহে মেতে উঠি −লক্ষ করি, চারপাশে বিরুদ্ধ ভ্রুকুটি নিরস্ত্রীকরণে কেন আমি পাখির সঙ্গ নিয়েছিলাম কেন বলেছিলাম, চাই বনজঙ্গলঘেরা একটি […]
অভিধান
ঘরময় একটি পাতাবাহার। আজ, জন্মদিন অরুণার চোখ দুটি যামিনী রায়ের আঁকা, মুখখানি প্রথম কদমফুল। মন্দাক্রান্ত ছন্দ-মাখা আষাঢ়স্য প্রথম দিবস। বিরহের গান আজ তার জন্মদিন। নদীও আবেগে ছন্দময়। দু’কূল প্লাবিত। সূর্যাস্তেও সূর্যোদয় তোমাকেই জানি জীবনের চলন্তিকা, অভিধান
বৃষ্টির সন্ধ্যায়
ভীষণ ক্ষুধার্ত, ভীষণ তৃষিত। দিন যায় অনাহারে। অক্ষর বর্জিত জ্বলন্ত সময়। ব্রাত্য মানুষের গল্প কে লেখে?_ যেটুকু লেখা হয় অতীব সামান্য, অল্প নিকট স্মৃতির মধ্যে জেগে আছে একটি ঘটনা। বাকি সব গৌণ। মাতৃভাষায় যে শব্দ কাম, তথা যৌন উথালপাতাল হলো বৃষ্টির সন্ধ্যায়। মেঘের গর্জন। জলের নষ্টামি। বারান্দায়। নস্টালজিয়ার নিম্নচাপ-উচ্চচাপ আছে। ভাবানুষঙ্গে হঠাৎ জড়ো হলে বেড়ে […]
ধৃতরাষ্ট্র-বিলাপ
জন্মান্ধ বললে ভুল হবে৷ ইদানীং আমার চোখ ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাতাস কি মুখরিত, আর্তনাদে? সঞ্জয়, যুদ্ধের গতি কোন দিকে? পাণ্ডবরা কী রচনা করেছে বূ্হ্য? অর্জুণ কী এখনো কুরুক্ষেত্রে? কোন্ মন্ত্রবলে প্রতিপক্ষ দুর্জয়, সঞ্জয়? বলো, তবে কী শূন্য হাতে কেবলি বিলাপ, আমার? গর্ভগৃহে পালিয়ে জীবন? না-কি অন্ধতাই জীবন, করুণাঘন মৃত্যু?
পরমাপ্রকৃতি
মেঘের রঙ দিয়ে ছুঁয়ে দিস অবন্তিকা চামড়া বাঘের ডোরা ধরে হাওয়ার রেশম দিয়ে চুল আঁচড়ে দিস অবন্তিকা মাথা বেয়ে ওঠে বুনোমহিষের শিং ঝড়ের মস্তি দিয়ে পাউডার মাখিয়ে দিস অবন্তিকা গায়ে ফোটে গোখরোর আঁশ হরিণের নাচ দিয়ে কাতুকুতু দিস অবন্তিকা ঈগলপাখির ডানা পাই রোদের আঁশ দিয়ে নখ কেটে দিস অবন্তিকা গজায় নেকড়ের থাবা হাতে-পায়ে নদীর ঢেউ […]
জ্যামিতির উৎস
অবন্তিকা বললি তুই: নৌকো মাতাল হতে যাবে কেন ? এ-যুগে সমুদ্রটা নিজেই মাতাল। আমি বললুম: যত জ্যামিতি কি শুধু তোরই দখলে ? কার কাছ থেকে পেলি ? অবন্তিকা বললি তুই: আর্কিমিডিস দিলেন দেহের ঘনত্ব ! রেনে দেকার্তে দিলেন দেহের বাঁকগুলো ! ইউক্লিড দিলেন গোপন ত্রিভুজ ! লোবোচেভস্কি দিলেন সমন্বিত আদল ! ব্রহ্মগুপ্ত দিলেন মাংসময় বুকের […]
লেখা আমার মা,
লেখা আমার মা, আমায় ছেড়ে যেন তুমি কোথাও যেও না …. এই যে এত আলস্য আর নিজেকে এত ঘৃণা ঘোষিত নির্বিবেক থেকে অমানদক্ষিণা, এ-সব থেকে নিষ্ক্রমণের তেমন কোনো ভূমি থাকলে পরে সেই মাটিতে পৌঁছে দিও তুমি। লেখা আমার মা, আঁচল দিয়ে আগলে রেখো, কোথাও যেও না। বাতাস যদি নিজেকে দেয় বীজন গন্ধ যদি নিজের ঘ্রাণে […]
ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা
ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা মন জানো না …… দিব্যি আছো, খাচ্ছো-দাচ্ছো সকাল-বিকেল জল মাপাচ্ছো। বাঁও মিলছে, মনে ভাবছো, আসলে বাঁও মিলছে না। ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা …. ভাবছো এমন কাটবে বঁধু ঝোলে লাউ, অম্বলে কদু, বাড়িওয়ালার বিপত্তারণ ভাড়াটের লর্ড শ্রীকৃষ্ণা। মন জানো না, ঘরে তোর ভোটার আছে কয়জনা ? বলছো বটে “একটু-একটু” আসলে […]
