মগজ বারুদভরা। আত্মা যাচে তোমাতে আরাম তবুও তো হাতড়ে ফিরি, যদি পাই পল্লবের ছোঁয়া, তুমি তো গন্তব্য নও, মাত্র পান্থপাদপের নাম বৃক্ষতলে পড়ে থাক অবশিষ্ট উচ্ছিষ্ট মহুয়া। আমার চলার পথে যত গাছ দিয়েছিল ছায়া তাদের নামের স্মৃতি ভুলে গিয়ে এখন কাঙ্গাল শুধু মনে পড়ে এক আমলকী ধরে ছিল কায়া হরিণের খাদ্য হয়ে তারই রক্তে হলো […]
কবিতা
বাংলা কবিতা সংকলন
হৃদয়ের একদিকে
হৃদয়ের একদিকে গোল হয়ে রয়েছে বেদনা। উপশম খুঁজে আমি নাগালের সমস্ত গাছের মূল উৎপাটন করে নিংড়ে রস লাগিয়েছি বুকে। ওষুধের সাধ্য নেই, প্রকৃতি পারে না দিতে আর আহারের রুচি, ঘুম, স্বপ্নের মধ্যে হেঁটে যাওয়া। বারান্দার এক কোণে বসে আছি অচিকিৎস্য, কালো। স্পর্শ দাও হে বাতাস দক্ষিণের উলঙ্গ বাতাস দাও হাত এইখানে হৃদয়ের বামে, এইখানে যেন […]
হারানো বাড়ি
বেলা পড়ে আসে দেখি চোখ ভরে ভাবতে থাকি বাড়ি ফিরে যাই যেমন অতীতে খেলার পরেই ফিরতাম বাড়ি। এখন তেমনি জাগছে বাসনা সেই পথ ধরি। খেলা শেষ করে ধুলো ঝেড়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকি, বুঝি না কোথায়, কত দূরে সেই হারানো বাড়ি। হারিয়ে ফেলেছি চেনা বাড়ি ঘর সামনের দীঘি, দুটি তালগাছ, দীঘি ভরা আছে ঢেউয়ের নিচে মাছেদের […]
ধ্বনি তরঙ্গ
বহুদূর থেকে ভেসে আসে কানে ধ্বনিত রঙ্গ বুক কাঁপে আর সুখে কেঁপে ওঠে আমার অঙ্গ কবি আমি বটে সবার আগে আমি মনুষ্য দেখি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আমার শস্য গানের আকারে প্রাণের তাগিদে আমি বেঁচে আছি সময়ের মাঝে আমার মৃত্যু নিশ্চিত নয় মৃত্যু মানেই সমাপ্তি তাই গাহি জীবনের জয় আমাকে দেখেই হাত বাড়িয়েছে ঐযে আকাশ মাটি […]
পাঁচটি উজ্জ্বল মাছ
পাঁচটি উজ্জ্বল মাছ ঝর্না থেকে নেমে এসেছিলো। এখন, রহস্যময় জলে, খেলা করে অবিরল। পদ্মায় গিয়েছে একটি– মেঘনায়-যমুনায়-সুরমায়– আর-একটি গোপন ইচ্ছায়। পাঁচটি উজ্জ্বল মাছ ঝর্না থেকে নেমে এসে সাঁতরে চলে বিভিন্ন নদীতে। পাঁচটি উজ্জ্বল মাছ জলের রহস্য ভেদ করে এখন একাকী এক শব্দহীন সমুদ্রে চলেছে।
সোনালি আর ডালিয়া
সোনালির সঙ্গে ডালিয়ার দেখা হয়ে গেল একদিন। ডালিয়াকে জড়িয়ে ধরল সোনালি। ডালিয়া বলল—আপনি কে? সোনালি বলল—আমি সোনালি। কত নাম শুনেছি তোমার। তোমাকে তো দেখামাত্র চিনে ফেললাম। ডালিয়া বলল—কার কাছে নাম শুনেছেন আপনি? নাম বলল সোনালি। ছায়া নামল ডালিয়ার দুধের মতো ফরসা মুখমণ্ডলে। বলল শুধু—ও। সোনালি বলে—মুখ কালো হয়ে গেল কেন তোমার? উনি সারাক্ষণই তোমার কথা […]
সেরগেই এসেনিন বলছে
ইসাডোরা, বার্লিনে তোমার সঙ্গে আছি আমি। আমার সঙ্গে আরেক কবি – গাধাও বলতে পারো – গলায় ঝোলানো গিটার, খামোখাই, বাজাতে-টাজাতে পারে না। কোত্থেকে এলেন আমাদের সেই মহাকথাশিল্পী, ম্যাকসিম গোর্কি। চেহারা ভাঙাচোরা হলে কী হবে, চোখ দুটিতে তাঁর যেন ছুরির ঝলক, সেই চোখ সব-কিছুর অন্তস্তলে ঢুকে যায়। আমার দিকে তাকিয়ে গোর্কি, চোখে স্নেহ ঝরে পড়ছে, বললেন, […]
গ্রিনরোড
একদিন কুলিরোড ছিলে। হাঁটু অব্দি ডোবানো ধুলোয় ছিলে এক নির্জন তাপস। অড়হরখেতে একদিন দেখেছিলাম তরুণ খরগোশ যেন কোন প্রাকৃতিক নিবিড় নিখিলে বিদ্যুচ্চমক তুলে মিশে গিয়েছিলো মটরশুঁটির খেতে। লাল-কালো কুঁচফল পেড়েছি একদিন সান্দ্র ঝোপ থেকে দেখেছি ধানখেত, কামময়, গভীর খোড়ল, কৈশোরক নিরুদ্বেগে, কৌতূহলে। তারপর সপ্তর্ষির নৈশ সংকেতে আমগাছ জামগাছ কাঁঠালগাছের শ্যাম ক্রমাগত মুছে মুছে উঠে আসছে […]
আলোক সরকার আর অন্ধকার রায়
‘একি, আপনি বাজারে? কবিশাহেব, আপনিও কি বাজার করেন?’ –হ্যাঁ, আমাকেও বাজার করতে হয়, আমাকেও তেল-নুন-মাংসের হিশেব কষতে হয়– আমি নই বায়ুভুক রবীন্দ্রনাথ। কবিতাকেও হতে হয় পৌরুষেয়– শুধু নারীলাবণিগ্রস্ত নয়। বসন্তের সংঘর্ষে জ্বলে উঠতে হয় আগুনের মতো। জীবনানন্দকেও একদিন খালি গায়ে দুই হাতে দুই ভরা পানির বালতি বয়ে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন অনুজ কবি আলোক সরকার আর […]
সৃষ্টিশীলতার প্রতি
শুধু তোমাকে সালাম– আর কাউক্কে তোয়াক্কা করি না, আর-সব-পায়ে-দলা মুথাঘাস– শুধু তুমি ঘাসে রত্নফুল, আর-সব নোংরা টাকা-পয়সার মতো : হাতে-হাতে ঘোরে-ফেরে– শুধু তুমি অমল-ধবল তুমি, তোমার আহারে শুধু ঘড়ি লাগে– আর-কিছুই রোচে না তোমার, নামো ঝরনা ফাটিয়ে পাথর– সৃষ্টি তার মুখোশ ছিঁড়েছে, বস্তুর বিরুদ্ধে শুধু অফুরান প্রজাপতি ওড়ে ।
