কবিতা

বৃষ্টি হয়েছিল পথে সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে

বৃষ্টি হয়েছিল পথে সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে বাসা ভেঙে গিয়েছিল, গাছগুলি পেয়েছিল হাওয়া সুপুরিডানার শীর্ষে রূপোলি জলের প্রভা ছিল আর ছিল অন্ধকারে – হদৃয়রহিত অন্ধকারে মাটিতে শোয়ানো নৌকো, বৃষ্টি জমে ছিল তার বুকে ভেজা বাকলের শ্বাস শূন্যের ভিতরে স্তব্ধ ছিল মাটি ও আকাশ শুধু সেতু হয়ে বেঁধেছিল ধারা জীবনমৃত্যুর ঠিক মাঝখানে বায়বীয় জাল কাঁপিয়ে নামিয়েছিল অতীত, […]

উপন্যাস কবিতা কেরানি ও দৌড়ে ছিল

কেরানিও দৌড়ে ছিল

১৯ বিজলির থাম চলতি বুলিতে খাম্বা। খাম্বা সামাদ! আমরা জেনেছি, কাউকে সিধে করতে হলে সে তাকে একটা থামের সঙ্গে বেঁধে পেটায়। কখনও সঙ্গে সঙ্গেই, কখনও পেটাবার আগে দিন কয়েক বিনা দানাপানিতে সে মানুষটাকে বেঁধে রাখে। খুব রোষ হলে নিজ হাতে সে পেটায়, নইলে সঙ্গী-সাথীরাই কাজটা সারে। পুরনো ঢাকার লালবাগ মহল্লা ছাড়িয়ে দূর এক গলির ভেতরে […]

কবিতা

শীতপাখি

শীতপাখির চোখে কী অরণ্যঘুম, কী জলস্বপ্ন তার কিছুই জানা হয় না, একেকটি দুপুর শেষ হয়ে যায়; শীতপাখির ঠোঁটে ঘাসের ভেতর কুড়িয়ে পাওয়া শিশিরবিন্দুর মত শাদা বোতাম, এই বোতাম আমি কবে হারিয়ে ফেলেছিলাম সন্ধেবেলা, কবে কাক-জ্যোৎস্নায় খুঁজতে বেড়িয়েছিলাম হাতের এই হারানো আংটি এবার এই মধ্যশীতে বিদেশি শীতের পাখিকে একখণ্ড ঘুঙুর পরিয়ে দেবো। এই শীতপাখি যখন গ্রীষ্ম […]

কবিতা

অস্পষ্ট স্টেশন

আমি সারা জীবন একটা স্টেশনের জন্য ধাবমান গাড়ির জানালায় বসে থাকি। বাইরে কত গ্রাম আর চাষা জমির চলচ্চিত্র। কুয়াশার ভেতর মানুষের অস্পষ্ট নড়াচড়া। ভোরের মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসা কর্মনিপুণ কিষানের মেহেদিরাঙা দাড়ির মতো ভেজা বাতাস। আর সদ্য দুইয়ে নেওয়া গাভীর বাঁটের মতো হাল্কা মেজাজের বাংলাদেশ। আমি সব পেরিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি স্টেশন আমার চেনা। আখ মাড়াইয়ের […]

কবিতা

পাঁচালী : দম্পতিকথা

পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম। অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন। […]

কবিতা

শীতের মর্সিয়া

কখনো কখনো সিলভিয়া প্লাথের মৃত্যুর মতো এই কঠিন শীতকাল শতাব্দীর এই ভয়াবহ তুষারপ্রবাহ; এই শীতে উলঙ্গ গাছের মতো দাঁড়িয়েছি আমরা দু’জনে। এখানে কেবল সব মৃত পূর্বপুরুষের ঠাণ্ডা হাত, মৃত রমণীদের ঠাণ্ডা স্তন আজ উভয় গোলার্ধে মৃত মানুষের শরীরের মতো শীত অবিরাম শৈত্যপ্রবাহ; এই শীত সব মৃত নক্ষত্রের ঘোলা চোখ, বরফে ঢাকা মাছের আড়ত মানুষে মানুষে […]

উপন্যাস কবিতা কেরানি ও দৌড়ে ছিল

কেরানি ও দৌড়ে ছিল

১৮ ভোরবেলা। জিপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নাসির। আমাদের কেরানি রওনা হবে ঢাকার দিকে। উঠানে নেমে তরতর করে জিপের দিকে এগিয়ে যায় কেরানি। হঠাৎ তার মনে হয়, আর কবে হস্তিবাড়ি ফিরে আসা হয় কে জানে। মাকে একবার সালাম করে যাওয়া ভালো। কতকাল মাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে নাই সন্তান। ভোরের পাখিটাও যেন এই সৎ খেয়ালে […]

কবিতা

আবার আসবো ফিরে

হাতের মুঠোয় রোদ্দুর ছিল দুচোখ জুড়ে স্বপ্ন ছিল হৃদয়ে ভালবাসার উত্তাপ ছিল হেরে যাওয়া পৌরুষের অহঙ্কার ভালবাসার বুক চিরে রক্ত ঝরালো আমার গোপন লজ্জার অশ্রুপাতে আদিম রিপুর উল্লাস ছিন্নভিন্ন করে দিল তোমাদেরই জন্মের পথ । মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বলে যাই – ফিরে আসবো আবারও জন্ম নেবো , বারবার জন্ম নেবো , আমি থাকবো তোমাদেরই বুকের […]

কবিতা

মেঘবালিকার জন্য রূপকথা

আমি যখন ছোট ছিলাম খেলতে যেতেম মেঘের দলে, একদিন এক মেঘবালিকা, প্রশ্ন করলো কৌতুহলে- “এই ছেলেটা নাম কি রে তোর??” আমি বললেম, “ফুসমন্তর” মেঘবালিকা রেগেই আগুন- “মিথ্যে কথা, নাম কি ওমন হয় কখনো??” আমি বললেম, “নিশ্চই হয়, আগে আমার গল্প শোন!!” সে বললো, “শুনব না যা-” “সেই তো রাণী, সেই তো রাজা-” “সেই তো একি […]

কবিতা

সাড়ে তিন হাত ভূমি

১১ আর আমি! মা, আমি! আমি বারবার ফিরে আসতে চেয়েছি তোমার কাছে। বাবাকে যেমন ভালোবাসি আমি, তোমাকে কি তার চেয়ে কম ভালোবাসি! না মা, না। একদম না। একদম না। তোমাদের দুজনার জন্যই আমার ভালোবাসা এক রকম। ছোটবেলায় হয়তো আমার আচরণে, বাবার জন্য অস্থিরতা দেখে তোমার মনে হয়েছে আমি আমার বাবার জন্য পাগল, তাঁকেই বেশি ভালোবাসি। […]