কবিতা

দুর্দিন চিরকাল থাকে না

যখন দুর্দিন ঘনিয়ে আসে তখন মাথা ঠান্ডা রাখাই সবচেয়ে জরুরী কাজ। যাঁদের মুখে সব সময় কথার খই ফোটে তাঁদের দরকার তখন কিছুদিনের জন্যে বাক্‌সংযম অভ্যাস করা। দুর্দিন আসছে, এই খবরটুকু যাঁদের কানে পৌঁছে দেওয়ার মানুষ ছিল না, তাঁরা কবি, অধ্যাপক, রাজনীতির পন্ডিত অথবা নেতা যা-ই হোন না কেন, তাঁদের উচিত এখনও কিছুদিন নিজেদের ভাবনাগুলিকে যাচাই […]

কবিতা

ঋতুর প্রহারেও ঋজু উন্নত শির

রতনপুর কত দূর মাইলের দূরত্ব দিয়ে না মেপে নদীমাতৃক বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামের নিভৃত কোণের একটি ধরে নেয়াই ভালো_ একাত্তরে, সেখানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীরও হিম্মতে কুলোয় নি, এমনই প্রত্যন্ত এক অঞ্চল, অথচ সেখানেই আজ থেকে কমের ভেতর বছর শ’দুই আগে ছিল আমার নিজেরই শিকড় বা উৎস যাই বলা যাক; আজ এত এত বছরের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে […]

কবিতা

কাশফুলের কবিতা

আকাশ আমার নদীর ধারের কাশবন। কাশবনে খেলা করে স্বর্গের শিশুরা, খেয়াঘাটে বসে আমি সাদা মেঘের বাগান দেখেছি। কোনটা আকাশ কোনটাবা নদী বোঝার আগেই হিমে সাদা তুষারে বরফে ভরে উঠেছে আমার চোখ, তুমি কলপ না দিয়ে চুলে ভালোই করেছো। আমি জানি, আকাশটা কেবল ছেলেবেলার রূপকথা কিন্তু মেঘগুলি আকাশের সাদা কাশফুল। আমি তোমার পায়ের ঘুঙুর হবো, মেঘ […]

কবিতা

দিন শেষে

আলো আঁধারির খেলায়, দাঁড়িয়েছি শেষ বেলায় চোখে মুখে এসে পড়েছে তোমার কেশ পাখিরা গাইছে বেলা শেষ; খেলা শেষ। তবু যে কিসের গন্ধে উতলা মন আমাকে টানছে ইশারায় অনুক্ষণ আমিও চলেছি প্রবল হাওয়ার ঠেলায় কোথায় চলেছি; অদৃষ্টের কোন মেলায়।

কবিতা

সন্ধ্যা ও প্রভাত

এখানে নামল সন্ধ্যা। সূর্যদেব, কোন্ দেশে, কোন্ সমুদ্রপারে, তোমার প্রভাত হল। অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের দ্বারের কাছে অবগুণ্ঠিতা নববধূর মতো; কোন্‌খানে ফুটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা। জাগল কে। নিবিয়ে দিল সন্ধ্যায়-জ্বালানো দীপ, ফেলে দিল রাত্রে-গাঁথা সেঁউতিফুলের মালা। এখানে একে একে দরজায় আগল পড়ল, সেখানে জানলা গেল খুলে। এখানে নৌকো ঘাটে বাঁধা, মাঝি ঘুমিয়ে; সেখানে পালে […]

কবিতা

পৃথিবী

আজ আমার প্রণতি গ্রহণ করো, পৃথিবী, শেষ নমস্কারে অবনত দিনাবসানের বেদিতলে। মহাবীর্যবতী, তুমি বীরভোগ্যা, বিপরীত তুমি ললিতে কঠোরে, মিশ্রিত তোমার প্রকৃতি পুরুষে নারীতে; মানুষের জীবন দোলায়িত কর তুমি দুঃসহ দ্বন্দ্বে। ডান হাতে পূর্ণ কর সুধা বাম হাতে চুর্ণ কর পাত্র, তোমার লীলাক্ষেত্র মুখরিত কর অট্টবিদ্রূপে; দুঃসাধ্য কর বীরের জীবনকে মহৎজীবনে যার অধিকার। শ্রেয়কে কর দুর্মূল্য, […]

কবিতা

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েলপাখি — চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ জাম — বট — কাঠালের — হিজলের — অশখের করে আছে চুপ; ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে; মধুকর ডিঙা […]

কবিতা

আকাশলীনা

সুরঞ্জনা, অইখানে যেয়োনাকো তুমি, বোলোনাকো কথা অই যুবকের সাথে; ফিরে এসো সুরঞ্জনা : নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে; ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে; ফিরে এসো হৃদয়ে আমার; দূর থেকে দূরে – আরও দূরে যুবকের সাথে তুমি যেয়োনাকো আর। কী কথা তাহার সাথে? – তার সাথে! আকাশের আড়ালে আকাশে মৃত্তিকার মতো তুমি আজ : তার প্রেম […]

কবিতা

বনলতা সেন

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল-সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয়-সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার-অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি; আরও দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে; আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন । চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের […]

কবিতা

নাবিক

কবে তব হৃদয়ের নদী বরি নিল অসম্বৃত সুনীল জলধি! সাগর-শকুন্ত-সম উল্লাসের রবে দূর সিন্ধু-ঝটিকার নভে বাজিয়া উঠিল তব দুরন্ত যৌবন! পৃথ্বীর বেলায় বসি কেঁদে মরে আমাদের শৃঙ্খলিত মন! কারাগার-মর্মরের তলে নিরাশ্রয় বন্দিদের খেদ-কোলাহলে ভ’রে যায় বসুধার আহত আকাশ! অবনত শিরে মোরা ফিরিতেছি ঘৃণ্য বিধিবিধানের দাস! -সহস্রের অঙুলিতর্জন নিত্য সহিতেছি মোরা-বারিধির বিপ্লব-গর্জন বরিয়া লয়েছ তুমি, তারে […]