কবিতা

সংক্রান্তি

মেঘ ঝুঁকে আছে বহুতল সেই মানুষের
সিঁথির উপরে, যেখানে কখনো সিন্দুর
ছোঁয়াবেনা আর, বরং কাটাবে এরপর
চেতাবনি দিন, সাঁজোয়াজীবন অম্বার।
আমি তাকে বলি (প্রকরণগত কারণে
নীরব ভাষায়)—“স্বীকার করাই ভালো,
আমারও রক্তে গত কয়েকশো যুগ
দূর থেকে আসা অক্ষত আধিপত্য ;
তবু কি আমাকে একটুও ভালোবাসবে?
যদি কোনদিন নতুন বর্ষপঞ্জি
বিধান জানায়—আমি এতদূরই আমি
হয়ে উঠেছি যে, আজ থেকে সংক্রান্তি।
সেদিন বাসবে? যেদিন বিপত্তারণে
সময় ফুরোবে দশপ্রহরণধারণের?”

জয়দেব বসু
জয়দেব বসু
১২ মে ১৯৬২ জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। তিনি ছিলেন বাবা-মার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পিতা পরিতোষ বসু ছিলেন নড়াইল জেলার সিঙিয়া গ্রামের মানুষ। মাতা বেলা বসু টাঙ্গাইল জেলার সাজানপুর গ্রাম নিবাসী। জয়দেব শিক্ষালাভ করেন পাঠভবন (শান্তিনিকেতন), প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশা হিসেবে বেছে নেন অধ্যাপনা। ৫০ বছর বয়সে জয়দেব বসু হারিয়ে যাবেন কেউ ভাবেনি, কেউ কল্পনা করেনি। এ বয়সেও তিনি ছিলেন যেন তারুণ্যে উজ্জ্বল, রঙিন-আলোকময়। তাঁর শৈশব কাটে দার্জ্জিলিং এবং শান্তিনিকেতনে। স্কুল শেষ করে যোগ দেন কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে বাংলা নিয়ে। স্নাতকোত্তর পড়া শেষ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এর পর তিনি দমদম মোতিঝিল কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত দীর্ঘ কবিতা “মেঘদূত” যা প্রকাশিত হয়েছিল । ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১২ জয়দেব বসু মৃত্যু বরন করেন ।