তুই তো আমার ঘাম জিভ দিয়ে ছুঁয়ে বলেছিলি অবন্তিকা, ‘আহ কি নোনতা অন্তরতমের প্রাণ– পুরুষালি ঘ্রাণ’ ; সেইদিন, লক-আপ থেকে আদালতে হাতে হাতকড়া আর কোমরে দড়ির ফাঁসে বাঁধা, হেঁটেছি ডাকাত-খুনিদের সাথে, রাজপথে সার্কাসপ্রেমীদের ভিড়– বিশ্বাসঘাতক যারা, আমার বিরুদ্ধে আদালতে রাজসাক্ষী হয়েছিল, তারা কাঠগড়া থেকে নেমে বলেছিল, নুন তো পায়নি, মিষ্টি ছিল আমার ঘামেতে : তাই […]
কবিতা
বাংলা কবিতা সংকলন
সমুদ্রকাল
অভিঘাত ভেদ করে কাঠ ও কিউবিকল পলিমার। জভিঘাত ঢেউ জাহাজের খোল ইম্প্যাক্ট জোন। টানা গুঞ্জন সচল ইঞ্জিন রুম। অপার সাগরে মিউজিক সিস্টেম রবীন্দ্রসঙ্গীতঃ ‘কে সে যায় ফিরে ফিরে ব্যাকুল নয়ন নীরে’ অভিঘাত মরণশীল হার্ট বিট। পেট, নোঙ্গর-বন্ধ অধুনা বন্দরে খোল তবুও ঘুরছে ফিরছে ছড়াচ্ছে নোম্যাড মেঘের পুলিশ ওরা খুঁজছে কৃষ্ণগহ্বর দেশ ও কালে […]
একটি টাই…নীলাঞ্জনা নীলা
ছোট্ট একটি টাইয়ের নট এখনও বাঁধতে শেখোনি অথচ কি অনায়াসে গভীর বন্ধন খুলে ফেলতে শিখেছো আমি দেখি আর ভাবি কতোটা অতলে তলিয়ে গেলে আর ভেসে ওঠা যায়না ? আর কতোটুকু বিলিয়ে দিলে নিজেকে , নিজের থাকে না কিছুই শুনেছি অগভীর সম্পর্কের কোনো নাটাই থাকেনা কিন্তু এ চোখের দিঘীতে তুমি ছাড়া কোনো পানকৌড়িও কখনো সাঁতার কাটেনি […]
রাবণের চোখ
শৈশবের কথা। সদ্যপ্রসূত কালো ছাগলির গা থেকে রক্ত-ক্বাথ পুঁছে দিতে-দিতে বলেছিল কুলসুম আপা, ‘এ ভাবেই প্রাণ আসে পৃথিবীতে ; আমরাও এসেছি একইভাবে’। হাঁস-মুর্গির ঘরে নিয়ে গিয়ে আপা আমার বাঁ-হাতখানা নিজের তপ্ত তুরুপে চেপে বলেছিল, ‘মানুষ জন্মায় এই সিন্দুকের ডালা খুলে’। রাবণের দশ জোড়া চোখে আমি ও-সিন্দুক আতঙ্কিত রুদ্ধশ্বাসে দ্রুত খুলে বন্ধ করে দিই ।
মেরু বিপর্যয়
অবন্তিকা, হিপি বিদেশিনী, স্লিপিং ব্যাগেতে তোর চুপচাপ ঢুকে যেতে দিয়েছিলি শুনে আমি কবি, টাইম পত্রিকা ফোটো ছাপিয়েছে , বিটনিকরাও লিখেছে আমার কথা বড়ো করে তাদের কাগজে– হ্যাশ টেনে ভোম মেরে দু-ঠ্যাং ছড়িয়ে সে-প্রণয় গিঁথে আছে চেতনায় কবিতা ভাঙিয়ে তোর শ্বাস না-মাজা দাঁতের ভাপ সোনালি শুকনো চুল ধরে বুকে ময়লাটে তাপে মুখ গুঁজে কবিত্ব করেছি– বলেছিলি, […]
চলো গুলফিঘাট
কেউ মরলেই তার শব ঘিরে মৃত্যু উৎসব ছিল ইমলিতলায় বয়ঃসন্ধির পর দেহের ভেতর অহরহ উৎসব চলে তাই তারা মারা গেলে কান্নাকাটি চাপড়ানি নয় বিলাপ কেবল শিশুদের জন্য করো বাচা-বুতরুর জন্য কাঁদো যত পারো শবখাটে চারকোণে মাটির ধুনুচি বেঁধে গুলফি ঘাটের শমসানে ঢোলচি ঢোলকসহ সানাই বাজিয়ে নেচে আর গেয়ে পাড়ার ছেলেরা কুড়োতুম ছুঁড়ে-ফেলা তামার পয়সা প্যাঁড়া […]
আবার সন্ধ্যা হয় চারিদিকে
আবার সন্ধ্যা হয় চারিদিকে । নিথর দেহ হারিয়ে যায় রাত্রির অতলে কোথাও বেচে থাকে একটা শকুনের ডাক ! বেচে থাকার ব্যকুলতায় কি অভিশাপ ! নিদ্রাহীন – রাত্রিদিন এই অস্তাচলে, আবার সন্ধ্যা হয় চারিদিকে । ফিস ফিস করে কথা বলে; শ্মশানের মরাগুলো – বাতাশের গুঞ্জনে – হারিয়ে যাওয়া মুখগুলো । কোথাও পরে থাকে একটা মায়াবী […]
সমুদ্রকাল
অভিঘাত ভেদ করে কাঠ ও কিউবিকল পলিমার। জভিঘাত ঢেউ জাহাজের খোল ইম্প্যাক্ট জোন। টানা গুঞ্জন সচল ইঞ্জিন রুম। অপার সাগরে মিউজিক সিস্টেম রবীন্দ্রসঙ্গীতঃ ‘কে সে যায় ফিরে ফিরে ব্যাকুল নয়ন নীরে’ অভিঘাত মরণশীল হার্ট বিট। পেট, নোঙ্গর-বন্ধ অধুনা বন্দরে খোল তবুও ঘুরছে ফিরছে ছড়াচ্ছে নোম্যাড মেঘের পুলিশ ওরা খুঁজছে কৃষ্ণগহ্বর দেশ ও কালে চেতনার […]
দ্রোহ
এ নৌকো ময়ূরপঙ্খী তীর্থযাত্রী ব্যাঁটরা থেকে যাবে হরিদ্বার এই গাধা যেদিকে দুচোখ যায় যায় যাযাবর ঘাট বা আঘাটা যেখানে যেমন বোঝে ঘুরতে চাই গর্দভের পিঠে মাথায় কাগুজে টুপি মুখে চুনকালি পিছনে ভিড়ের হল্লা
আমি ভঙ্গুর হে
আমি যে-নাকি গাইডের কাছে ইতিহাস-শেখা ফোস্কা-পড়া পর্যটক ছায়ায় হেলান-দেয়া বাতিস্তম্ভের আদলে গিসলুম পিতৃত্ব ফলাবার ইসকুলে জানতুম যতই যাইহোক ল্যাজটাই কুকুরকে নাড়ায় রে আমি যে-নাকি প্ল্যাটফর্মে ভবিষ্যভিতু কনের টাকলামাথা দোজবর বস্তাপ্রতিম বানিয়ার বংশে এনেছিলুম হাইতোলা চিকেন-চাউনি কাদাক্যাঙাল ঠ্যাং থেকে ঝরাচ্ছিলুম ঘেসো ঝিঁঝির সাম্ভা নাচ আমি যে-নাকি ফানুসনাভি ব্যাঙ-থপথপে শুশুক-মাথা আমলা মাটিমাখা নতুন-আলুর চোখে-দেখা দুটাকা […]
