কবিতা

সমুদ্রকাল

অভিঘাত ভেদ করে

কাঠ ও কিউবিকল পলিমার।

জভিঘাত ঢেউ

জাহাজের খোল ইম্প্যাক্ট জোন।

টানা গুঞ্জন সচল ইঞ্জিন রুম।

অপার সাগরে মিউজিক সিস্টেম

রবীন্দ্রসঙ্গীতঃ

‘কে সে যায় ফিরে ফিরে

ব্যাকুল নয়ন নীরে’

অভিঘাত মরণশীল হার্ট বিট।

 

পেট, নোঙ্গর-বন্ধ

অধুনা বন্দরে খোল

তবুও ঘুরছে

ফিরছে ছড়াচ্ছে নোম্যাড মেঘের পুলিশ

ওরা খুঁজছে কৃষ্ণগহ্বর

দেশ ও কালে চেতনার কোল

আমার মায়ের মুখ।

 

আনত পোর্ট সাইড আনত

যে পাশে দৃশ্যমানতা

স্টারবোর্ড উত্তাল গগনমুখী

ভীষণ রোলিং

ভয়েজ অন্তিম নেই।

 

পাবের সামনে দিয়ে চলে গেল

একচোখা দোতলা বাস।

পাঁজরে স্লট মেশিন

স্লটে ফেলা কারেন্ট চিরকুট

পুরনো প্রেমের নোট।

হাতের কাছেই আছে

মকবুলের পাগলা ঘোড়া

লাল ফিতের লাগাম।

স্বত: লাল চুল।

ফেনা কাটা বোবাভাঁড়।

অমিত সাগর কল্লোল।

 

অথচ বগলে অনধিগম্য দূরতা।

পাছায় গামছা

কাঁধে নেতিয়ে পড়া দালির ঘড়ি,

ল্যানোলিন স্পর্শ নীল।

আমার বগলে অন্ধকার হাঁড়িমাটি

ও উনুন।

খাঁচার ভেতরে গাছ

পোশাক-ফুলের বাগান

পোষা ফুল ও উল

ভেড়ার নক্ষত্র-জাতক।

আমার হাত ধরে গাছ হাঁটে,

হাঁটে ছবি,ছায়া ও ক্যানভাস।

 

থালার অপার কানায়

জল ও কাল অবিচ্ছিন্ন কালো।

চিতিয়ে ভাসমান মরা কাকের পেট,

সিল্যুট, ধুসর নয়।

সিল্যুট জাহাজের ডেক।

ভাঁজেভাঁজে পাভাঙ্গা

উর্ধমুখী পায়ের আঙুল

একদিন যারা পুণ্য খুঁটে খেত

সেই সব ডেরিক।

 

অন্ধকার গভীর।

দেখা যায় না নিজের

আঙুল ও লিখন।

নিকষ কালো আকাশ ও আর্ম স্পেস।

মা কালী

তোর গায়ে ছড়িয়ে দিলাম নক্ষত্রের ফুল।

ব্রিজে জেগে আছে বড় ম

ত্রিনয়ন।

 

অকারণ খেললি মন রুলেট

পোর্টে ও কিনারায়।

সঠিক নাবিক পিরামিড দেখে কোণাকুনি,

অঞ্জলিপুটে মধ্য আঙুল,একমুখী উর্ধমুখী।

নত হতে হতে বেঁকে যায় উটের গ্রীবা,

অন্বেষণ অনুগামী।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১ - ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক,১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গানযথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তাঁর "অভিলাষ" কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা। ১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তাঁর পত্নীবিয়োগ হয়। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তাঁর মৃত্যু হয়।