শৈশবের কথা। সদ্যপ্রসূত কালো ছাগলির গা থেকে
রক্ত-ক্বাথ পুঁছে দিতে-দিতে বলেছিল কুলসুম আপা,
‘এ ভাবেই প্রাণ আসে পৃথিবীতে ; আমরাও এসেছি
একইভাবে’। হাঁস-মুর্গির ঘরে নিয়ে গিয়ে আপা
আমার বাঁ-হাতখানা নিজের তপ্ত তুরুপে চেপে
বলেছিল, ‘মানুষ জন্মায় এই সিন্দুকের ডালা খুলে’।
রাবণের দশ জোড়া চোখে আমি ও-সিন্দুক
আতঙ্কিত রুদ্ধশ্বাসে দ্রুত খুলে বন্ধ করে দিই ।
Related Articles
বেক্তিগত বিছানা
১. শুধু রাধিকাই নয় — গণিকাও ঋতুমতী হয় তিন সন্তানের পিতা — পরিবার পরিকল্পনার আদর্শপুরুষ কৈশোরে করে থাকে আত্মমৈথুন — করে না কি ? ২. আমি রবীন্দ্রনাথ হতে চাই না — হতে চাই না রঘু ডাকাত আমি ফালগুনী রায় হতে চাই — শুধুই ফালগুনী রায় ৩. আমি যে-রাস্তায় থাকি তার একপ্রান্তে প্রসূতিসদন অন্যপ্রান্তে শ্মশানঘাট ৪. […]
চিরকুট
শতকোটি প্রনামান্তে হুজুরে নিবেদন এই– মাপ করবেন খাজনা এ সন ছিটেফোঁটাও ধান নাই। মাঠেঘাটে কপাল ফাটে দৃষ্টি চলে যত দূর খাল শুক্নো বিল শুক্নো চোখের কোলে সমুদ্দুর। হাত পাতব কার কাছে কে গাঁয়ের সবার দশা এক তিন সন্ধে উপোষ দিলাম আজ খাচ্ছি বুনো শাক। পরনে যা আছে তাতে ঢাকা যায় না লজ্জা ঘটি বাটি বেচেছি […]
দিঘির ভিতরে ছায়া
দিঘির ভিতরে ছায়া ধীরে বড় হয়, ধীরে-ধীরে নিজেকে গুটিয়ে আনে ফের । মাঝে মাঝে হাওয়া দেয় । জালের শরীরে দোলা লাগে । ত্রিকালে দণ্ডায়মান বৃদ্ধ অশথের শাখা-প্রশাখায় ছড়ায় অস্ফুট কানাকানি । তীব্র নীল আকাশে নিঃসঙ্গ চিল উড়ে চলে যায় । জলের উপরে ভাসে অশথের শান্ত ছায়াখানি । আজও ছায়াখানি সেই জলের উপর শুয়ে আছে । […]
