কবিতা

নারীর অস্ত্র

বিশ্বাসকে হতে দাও আমার ঢাল আনন্দকে আমার তুখোড় যুদ্ধাশ্ব ভয়ঙ্কর অই দানবটির নিদারুণ ক্রোধের প্রচণ্ড গৃধ্নুতা ও লোভের হাত হতে আমাকে মুক্ত হতে দাও অন্ধকারের দুর্গ থেকে আমার যৌবনের তরবারি দিয়ে এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় সদা সত্যের সামর্থ্য, তেজ আর শক্তিশালী পরাক্রমে।

কবিতা

বর্ষা, ও বরষা

বর্ষা, তোমাকে না হয় আরো একটু টেনে বলি বরষা, পদাবলীর ঢংয়ে, বর্ষা শুনে নাকি কারো কারো মন খারাপ হয়ে যায়, বিরহ জাগে; আমার কিন্তু বৃষ্টি খুব ভালো লাগে, বৃষ্টি আমার শৈশবের মতো মেয়েরা ভিজতে চায় বৃষ্টিতে, ভিজুক না, মেয়েরা জলে না নামলে পদ্মফুল ফুটবে কেন? এখানে এখন বুক-সমান জল, এখানে এখন সাঁতার, বর্ষা, ক্ষতি কী, […]

কবিতা

আলমারি

একটি চমৎকার কারুকাজময় আলমারি ঘরের ভেতর আছে চুপচাপ বহু বছরের প্রাচীনতা নিয়ে; আজকাল এ-রকম আলমারি বানানো হয় না আর চাহিদার অভাবে এবং আগেকার মতো কোনো কুশলী ছুতোর নেই, বলে কেউ কেউ আক্ষেপের স্বরে। সেই কবে মাতামহ আম্মাকে দিয়েছিলেন এই আলমারি ভালোবেসে দহেজ হিশেবে। এখন সে আমার কাছেই আছে। কাপড়-চোপড় কিংবা কাপ-ডিশ রাখি না কখনো এই […]

কবিতা

শেষ উপহার

যাহা-কিছু ছিল সব দিনু শেষ করে ডালাখানি ভরে_ কাল কী আনিয়া দিব যুগল চরণে তাই ভাবি মনে। বসন্তে সকল ফুল নিঃশেষে ফুটায়ে দিয়ে তরু তার পরে এক দিনে দীনহীন, শূন্যে দেবতার পানে চাহে রিক্তকরে। আজি দিন শেষ হলে যদি মোর গান হয় অবসান, কাল প্রাতে এ গানের স্মৃতিসুখলেশ রবে না কি শেষ। শূন্য থালে মৌনকণ্ঠে […]

কবিতা

তুমি বলেছিলে

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার। পুড়ছে দোকান-পাট, কাঠ, লোহা-লক্কড়ের স্তূপ, মসজিদ এবং মন্দির। দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার। বিষম পুড়ছে চতুর্দিকে ঘর-বাড়ি। পুড়ছে টিয়ের খাঁচা, রবীন্দ্র রচনাবলি, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মানচিত্র, পুরনো দলিল। মৌচাকে আগুন দিলে যেমন সশব্দে সাধের আশ্রয় ত্যাগী হয় মৌমাছির ঝাঁক, তেমনি সবাই পালাচ্ছে শহর ছেড়ে দিগ্গি্বদিক। নবজাতককে বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত […]

কবিতা

সফেদ পাঞ্জাবি

শিল্পী, কবি, দেশী কি বিদেশী সাংবাদিক, খদ্দের, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সমাজসেবিকা, নিপুণ ক্যামেরাম্যান, অধ্যাপক, গোয়েন্দা, কেরানি, সবাই এলেন ছুটে পল্টনের মাঠে, শুনবেন দুর্গত এলাকা প্রত্যাগত বৃদ্ধ মৌলানা ভাসানী কী বলেন। রৌদ্রালোকে দাঁড়ালেন তিনি, দৃঢ়, ঋজু, যেন মহা-প্লাবনের পর নূহের গভীর মুখ সহযাত্রীদের মাঝে ভেসে ওঠে, কাশফুল-দাড়ি উত্তুরে হাওয়ায় ওড়ে। বুক তাঁর বিচূর্ণিত দক্ষিণ বাংলার শবাকীর্ণ […]

কবিতা

তোমার দু’চোখ শুধু জেগে থাকে

তোমার দু’চোখ শুধু জেগে থাকে, অন্য কিছু নয়— নিভে গেছে সকল প্রদীপ, সভ্যতার সূর্যাস্তের পর চারদিক বড়বেশি শুনশান—উড়ে গেছে ‘মূল্যবোধ’-নাম্নী সংরক্ষিত গ্রন্থের সকল পাতা— পৃথিবীর মূল্যবান গ্রন্থগুলি সফেদ কাগজ ছাড়া আর কিছু নয়—বন্ধুত্বের সর্বশেষ রজ্জু ছিন্নভিন্ন, বিশ্বস্ত ব্যাংকের ভল্ট থেকে সঙ্গোপনে উধাও হয়েছে শেষ সোনাদানা, কংক্রিটের শক্ত বাড়িগুলি লন্ডভন্ড, মুখ থুবড়ে প’ড়ে আছে সব পথের […]

কবিতা

মাথিনের বৃষ্টি

বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে, ঘরে ঘরে, দরিয়ানগরে। বৃষ্টি পড়ে কিয়াঙে, মন্দিরে আর রোয়াং শহরে । বৃষ্টি পড়ে নারকেল জিনজিরা হয়ে জলের কবরে । নাফের হূদয় থেকে রক্তকণা উঠে আসে জলকণা হয়ে। জাতিযুবকের দা’য়ে ঐতিহ্যসম্মত ওই জাতিরক্ত যায় বয়ে বয়ে। ধীরাজ দেখে না কিছু, মাথিন-বর্ষণে ভেজে দিনরাত, নিবিড়-নির্ভয়ে। আকাশের বুকে দেখো হাজার হাজার বোঁটা যায় ছিঁড়ে […]

কবিতা

আফ্রিকার প্রেমের কবিতা

যে বয়সে পুরুষ ভালোবাসে নারীকে, সে বয়সে তুমি ভালোবেসেছিলে তোমার মাতৃভূমি, দক্ষিন আফ্রিকাকে। যে বয়সে পুরুষ প্রার্থনা করে প্রেয়সীর বরমাল্য, সে বয়সে তোমার কন্ঠ রুদ্ধ হয়েছে ফাঁসির রজ্জুতে যে বয়সে পুরুষের গ্রীবা আকাঙ্খা করে রমনীয় কোমাল বাহুর ব্যগ্র-মুগ্ধ আলিঙ্গন; সে বয়সে তোমাকে আলিঙ্গন করেছে মৃত্যুর হিমশীতল বাহু। তোমার কলম নিঃসৃত প্রতিটি পঙ্ক্তির জন্য যখন তোমার […]

কবিতা

বৃক্ষবন্দনা

অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ, ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ-‘পরে; আনিলে বেদনা নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে। সেদিন অম্বর-মাঝে শ্যামে নীলে মিশ্রমন্ত্রে স্বর্গলোকে জ্যোতিষ্কসমাজে মর্তের মাহাত্ম্যগান করিলে ঘোষণা। যে জীবন মরণতোরণদ্বার বারম্বার করি উত্তরণ যাত্রা করে যুগে যুগে অনন্তকালের তীর্থপথে নব নব পান্থশালে বিচিত্র নূতন দেহরথে, তাহারি […]