কবিতা

বিবর্তন

ফাঁকা বুলির ক্রসফায়ার শেষে আমরা জমাট অাঁধার চাদরাবৃত
অবস্থায় গুটিসুটি মেরে শুয়েছিলাম কাঁটারো শয্যায়
ভেবেছিলাম রণক্লান্ত মূষিক বুঝি বা তুমি রয়েছ গহন গভীর ঘুমের ঘোরে,
অচেনা অজানা কোনো প্রেতিনীর কাতর বিলাপ শুনতে শুনতে
যা ছিল হয়তো কামজ্বরতপ্ত সার্জার যুগলের আজব শীৎকার ধ্বনি
কিংবা কোনো ধাড়ি নিষ্কর্মা বুড়ো হাবভার প্রবল আকাঙ্ক্ষার অনুপ্রবেশ।

আমি ধরে নিয়েছিলাম তোমারই কথা কতো এ অঞ্চলের কোনো
বৃক্ষচরই হবে হয়তো- ওদের কাবু করতে হলে পাততে হবে ফাঁদ
নয়তো দিতে হবে রামধোলাই, যেন তাই হয় ওদের মরণ সঙ্গীত-
এদিকে গভীর সুশুপ্তি মগ্নতায় মনে হলো আমার দেহ পিঞ্জরে
খাঁচা ছেড়ে সমুদ্র তরঙ্গ ভঞ্জে ধৌত হতে হতে চলেছে অতল জলাধ পানে
না সাম্প্রতিক ঝড়-ঝঞ্ঝায় হারিয়ে যাওয়া স্বরূপ আমার
যার প্রবেশ পথটি ছিল মৃত্যুর বৃক্ষরাজি শীর্ষে রাতের শূন্য গর্ভ সসীমতায়,
একটানা উল্লাস ধ্বনি তুলতে তুলতে …

বেলাল চৌধুরী
বেলাল চৌধুরী
জন্ম: ১২ নভেম্বর ১৯৩৮। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভূত একজন আধুনিক বাঙ্গালী কবি যাকে ষাট দশকের সঙ্গে চিহ্নিত করা হয়। তিনি সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং সম্পাদক হিসাবেও খ্যাতিমান। তাঁর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১২ই নভেম্বর বাংলাদেশের ফেনী উপজেলার অন্তর্গত শর্শদি গ্রামে। তাঁর পিতা রফিকউদ্দিন আহমাদ চৌধুরী ও মা মুনীর আখতার খাতুন চৌধুরানী। তিনিঁ দীর্ঘকাল ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃক প্রকাশিত ভারত বিচিত্রা পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।