আমি সব ভিসা অফিসের অনলাইন তোমার জন্য
খোলা রেখেছি
তুমি পৃথিবীর যে-কোনো শহরে ঘুরে বেড়াতে পার;
আমি বহুদিন ভিসার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত
তুমি যাও আমি চুপচাপ বসে থাকি।
কোথায় ঘুরবো আমি, শহরগুলো সব ডিশলাইনের বিজ্ঞাপন
পৃথিবীর বেশিরভাগ নদী এখন ঘুমের দেশের মতো
পাহাড়গুলো এতো নির্জন যে সেদিকে বেশিক্ষণ তাকানো যায় না;
হয়তো শিশুর মতো তোমার এখনো সবকিছু দেখতে ইচ্ছে করে
আমার ছোটাছুটির কথা শুনলেই দম আটকে আসে,
শিশুর মতো বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে
আমার কান্না থামাতে পারবে না।
তুমি যাও পাহাড় লেক সমুদ্র দেখতে থাকো
আমি ততোক্ষণ একলা একলা ঘুমাই;
তুমি যেখানে যেতে চাও যাও, উড়তে উড়তে
ব্রিটিশ কলম্বিয়া
এই শহর নদী আকাশ
তোমার চোখেই দেখবো আমি প্রিয়া।
মহাদেব সাহা
(জন্ম: ৫ আগস্ট ১৯৪৪) বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালের একজন অন্যতম প্রধান কবি।১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট পাবনা জেলার ধানঘড়া গ্রামে পৈতৃক বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বগদাধর সাহা এবং মাতা বিরাজমোহিনী।তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯৩ টি।
কাব্যগ্রন্থ
এই গৃহ এই সন্ন্যাস (১৯৭২),
মানব এসেছি কাছে,
চাই বিষ অমরতা,
কী সুন্দর অন্ধ,
তোমার পায়ের শব্দ,
তবু স্বপ্ন দেখি,
সোনালী ডানার মেঘ,
পৃথিবী তোমাকে আমি ভালোবাসি,
কে পেয়েছে সব সুখ, সবটুকু মধু,,
শুকনো পাতার স্বপ্নগাঁথা,
দুঃসময়ের সঙ্গে হেঁটে যাই,
দুঃখ কোন শেষ কথা নয়,
ভালোবাসা কেন এতো আলো অন্ধকারময়,
লাজুক লিরিক-২,
দূর বংশীধ্বনি,
অর্ধেক ডুবেছি প্রেমে - অর্ধেক আধারে,
কালো মেঘের ওপারে পূর্ণিমা,
সন্ধ্যার লিরিক ও অন্যান্য,
মহাদেব সাহার রাজনৈতিক কবিতা (কাব্য-সংকলন),
মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা (কাব্য-সংকলন),
মহাদেব সাহার কাব্যসমগ্র (কাব্য-সংকলন) - ১ম খণ্ড, ২য় খন্ড, ৩য় খন্ড, ৪র্থ খন্ড,
মহাদেব সাহার শ্রেষ্ঠ কবিতা (কাব্য-সংকলন),
প্রেম ও ভালবাসার কবিতা (কাব্য-সংকলন),
নির্বাচিত ১০০ কবিতা (কাব্য-সংকলন),
নির্বাচিত একশ (কাব্য-সংকলন),
প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা(কাব্য-সংকলন),
প্রবন্ধ
আনন্দের মৃত্যু নেই
মহাদেব সাহার কলাম
কবিতার দেশ ও অন্যান্য ভাবনা
মহাদেব সাহার নির্বাচিত কলাম
শিশুসাহিত্য
টাপুর টুপুর মেঘের দুপুর
ছবি আঁকা পাখির পাখা
আকাশে ওড়া মাটির ঘোড়া
সরষে ফুলের নদী
আকাশে সোনার থালা
মহাদেব সাহার কিশোর কবিতা
পুরস্কার ও সম্মাননা
---------------------------------
মহাদেব সাহা তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি ১৯৮৩ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মননার মধ্যে ১৯৯৫ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে বগুড়া লেখকচক্র পুরস্কার, ২০০২ সালে খালেদদাদ চৌধূরী স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার অন্যতম।
Related Articles
মানে আছে
আচমকা স্রোতের পাশে হেলে পড়া কম বৃক্ষটি এরও কোনো মানে আছে। নির্জন মাঠের পোড়োবাড়ি- হা হা করে ভাঙা পাল্লা এরও কোনো মানে আছে? ঠিক স্বপ্ন নয়- মাঝে মাঝে চৈতন্যের প্রদোষে সন্ধ্যায় শিরশিরে অনুভূতি কি যেন ছিল বা আছে অথবা যা দেখা যায় না দুরস্ত পশুর মতো ছুটে আসে বিমূঢ়তা জানলার পর্দাটা দোলে, থেমে যায়, দুলে […]
গান
আমার খবর পাবে গানে। আমার খবর সমুদ্র উপুর হয়ে যেখানে মোচড়ায় তার বালিতে ফেনায় পাবে__ আমার খবর পাবে শুকনো পাতা ও ডালপালায় যেখানে বাকলরঙা গিরগিটি লাফ দিয়ে গাছের গুঁড়িতে উঠল, পুরোনো বেড়াল গৃহস্তের বাড়ি ছেড়ে এসে, এক পা এক পা করে যে জায়গাটা বেছে নিল মরবার আগে, সেইখানে__ আমার খবর পাবে__ আমার খবর পাবে লোকালয়হীন […]

