কথোপকথন-৩৪

-বল তো কত বয়স হল তার? -কার? -যার মাথাভর্তি সবুজ দেবদারু চুল যার টলমলে পা কেবল ভুল পথের কাঁটার উপরে যার সমস্ত কথাই অস্পষ্ট,সন্ত্রাসবাদীদের মত সংকেতময় এবং বিস্ফোরক যে কেবল হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় এমন বাগানে যেখানে ফুলের গায়ে হাত ছোঁয়ালেই অট্টহাসির বিদ্যুৎ যেখানে লতাগুল্মের আড়ালে পিছলে পড়ার গোলাপী গহ্বর আর ফুসলিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে […]

কথোপকথন-৩৩

খবর্দার। হাত সরিয়ে নাও। ব্যাগে ভরে নাও টাকাগুলো। আজ সমস্ত কিছুউর দাম দেব আমি। কী হচ্ছে কি শুভঙ্কর? কেম এমন পাগলামির ঢেউয়ে দুলছো? এই জন্যেই তমার উপর রাগ হয় এমন। মাঝে মাঝে অর্থমন্ত্রীদের মতো গোঁয়ার হয়ে ওথো তুমি। কাল কতবার বলেছিলুম,চলো উঠি,চলো উঠি। এখুনি সেনা বাহিনীর মত ঝাপিয়ে পড়বে বৃষ্টি,চলো উঠি। তুমি ঘাসের উপর বুড়ো […]

কথোপকথন-৩২

তোমার জন্য এনেছি যে উপহার বলতে পারবে নাম? রামধনু? ধেৎ,চাইলে কি কেউ তার ধরাছোঁয়া পায় নাকি? অভ্রের খনি? নীল পাহাড়ের চুড়ো? আমি কি বিড়লা টাটা? তোমার জন্যে এনেছি রক্ত খুঁড়ে চন্দন এক বাটি ।

কথোপকথন-৩১

-যতক্ষন পাশে থাকো,যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি আমি যেন মেঘে জলে মেশা কোনো আত্মহারা পাখি। বলতো কী পাখি ? -যতক্ষন পাশে থাকো,যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা উলাক্র স্ফুলিঙ্গ দিয়ে অন্ধকারে দীর্ঘ ছবি আঁকা । বলতো কী ছবি? -যতক্ষন কথা বলো,হাসো ও ঝরাও ধারাজল বীজ থেকে জেগে ওঠে অফুরন্ত গাছ,বনতল। বলতো কী গাছ? -যতক্ষন পাশে থাকো ভুমিকম্প,সুখের সন্ত্রাস […]

কথোপকথন-২৯

-দুরে চলে যাও। তবু ছায়া। আঁকা থাকে মেঘে।যেন ওড়ে বাতাসের সাদা বারান্দায় বালুচরী বহু বর্ণময় । গান শেষ তবু তখনো তার প্রতিধ্বনিরা দশ দিকে। যেন শুধু তুমি তোমারই সব মুরররতিতে ঠাসা মিউজিয়াম ট্রামলাইনের,ছাইগাদার গর্তে গভীর কলকাতায়। কী করে এমন পারো তুমি নন্দিনী? -সহজ ম্যাজিক।শিকবে কি? রুমালটা দাও,ঘন গিঁটে চোখ দুটো বাঁধি।তারপরে যাদুকাঠিটাকে ছুঁইয়ে দি, কাছে […]

কথোপকথন-২৬

আমার চিঠিটার জবাব কই ? যদি না এনে থাকো তাহলে আজ তুলবো এমন ঝড় বসন ঊড়ে যাবে চন্ডীগড় খোঁপার খিল খুলে বন্দী চুল হানবে চোখে মুখে আক্রমণ। কেউটে সাপ হবো।সাত পাকে নগ্ন দৃশ্যের চূড়া ও তল জড়াবো,এমনই সে আলিঙ্গন ভাঙবে হাড়-গোড়। আমার কি ? -এমন ছটফটে ধৈর্যহীন মানুষ কোন্দিন দেখিনি আর। শুনেছি আজকাল বোদলেয়ার রাঁবো […]

কথোপকথন-২৫

-হাত ঘড়িটা কি ছোঁ মেরেছে গাংচিলে? শকুন্তলার আংটির মত গিলেছে কি কোনো রাঘব বোয়াল-টোয়াল? -কেন? আসবার কথা কখন,এখন এলে? বসে আছি যেন যুগযুগান্ত,ভাঙা মন্দিরে উপুড় শালগ্রাম। চা খেলাম,খেয়ে সিগারেট,খেয়ে আবার-বেয়ারা,কফি। আর ঘড়ি দেখা এবং যে কোনো জুতোর শব্দে চমকে ওঠা। মনে হচ্ছিল অনন্তকাল প্রতীক্ষাটারও অন্য নামটা প্রেম । -স্যরি,সত্যিই। কী করব বল রাস্তায় যেন মাছি-থকথকে […]

কথোপকথন-৩৮

-নন্দিনী! আমার খুব ভয় করে ,বড় ভয় করে! কোনও একদিন বুঝি জ্বর হবে ,দরজা দালান ভাঙ্গা জ্বর তুষার পাতের মত আগুনের ঢল নেমে এসে নিঃশব্দে দখল করে নেবে এই শরীরের শহর বন্দর। বালিশের ওয়াড়ের ঘেরাটোপ ছিঁড়ে ফেলা তুলো এখন হয়েছে মেঘ,উঁড়ো হাস, সাঁদা কবুতর। সেই ভাবে জ্বর এসে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে অন্য কোন ভুমন্ডলে […]

কথোপকথন-২৪

-তোমাকে আজকাল এত রোগা লাগে কেন শুভঙ্কর? খুব ম্রিয়মান লাগে যেন ঘন বর্ষাকাল,মেঘের ধুসর ডানা,জল-কোলাহল ছিড়ে-খুঁড়ে ফেলেছে তোমাকে। ভাঙা কোন মন্দিরের পুরনো গন্ধের মত লাগে। অতীত কালের কনো স্তম্ভে আঁটা শ্যাওলার মতো অতীতে সবুজ ছিলে,এখন শোকের মতো হীন। তোমাকে কি ঘিরে আছে কোন কারাগার? গ্রাদের কালো হাত,ঘন বৃক্ষজাল? অথবা তুমি কি হারিয়েছ,অত্যন্ত আপন কোন কিছু? […]

কথোপকথন-২২

তেরোই জুলাই কথা দিয়েছিলে আসবে । সেই মত আমি সাজিয়েছিলাম আকাশে ব্যস্ত আলর অজস্র নীল জোনাকি। সেই মত আমি জানিয়েছিলাম নদীকে প্রস্তুত থেকো,জলে যেন ছায়া না পড়ে মেঘ বা গাছের।তেরোই জুলাই এলে না। জ্বর হয়েছিল? বাড়িতে তো ছিল টেলিফোন। জানালে পারতে।থার্মোমিটার সাজাতাম। নীলিমাকে ছুঁয়ে পাখি হতো পরিতৃপ্ত