বড় দীর্ঘতম বৃক্ষে ব’সে আছো, দেবতা আমার |
শিকড়ে, বিহ্বল প্রান্তে, কান পেতে আছি নিশিদিন
সম্ভ্রমের মূল কোথা এ-মাটির নিথর বিস্তারে ;
সেইখানে শুয়ে আছি মনে পড়ে, তার মনে পড়ে ?
যেখানে শুইয়ে গেলে ধিরে-ধিরে কত দূরে আজ !
স্মারক বাগানখনি গাছ হ’য়ে আমার ভিতরে
শুধু স্বপ্ন দীর্ঘকায়, তার ফুল-পাতা-ফল-শাখা
তোমাদের খোঁডা-বাসা শূন্য ক’রে পলাতক হলো |
আপনারে খুঁজি আর খুঁজি তারে সঞ্চারে আমার
পুরানো স্পর্শের মগ্ন কোথা আছো ? বুঝি ভুলে গেলে |
নীলিমা ঔদাস্তে মনে পড়ে নাকো গোষ্ঠের সংকেত ;
দেবতা সুদূর বৃক্ষে, পাবো প্রেম কান পেতে রেখে |
Related Articles
হৃদয়বোধ্য
আর কিছুই হই বা না হই হই যেন ঠিক হৃদয়বোধ্য এই যে বুকে অশ্রু-আবেগ, জলের ধারা অপ্রতিরোধ্য; আকাশে এই মেঘ জমে আর পাতায় জমে শিশির কণা, এই জীবনে তুমি আমার যা কিছু এই সম্ভাবনা। সব ছেড়েছি তুমিই কেবল এখন আমার অগ্রগণ্য, আর কী চাই হই যদি এই তোমার ভালোবাসায় ধন্য! সব মুছে যাই, সব ঝরে […]
কোথাও কেউ নেই
স্বপ্নের ভিতর থেকে হেঁটে আসে এক সিদ্ধ পুরুষ; সস্নেহে হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘চলো’ । অমোঘ নির্দেশের মতো শোনায় তাঁর কণ্ঠস্বর – যেমন বলতেন বাবা ছোটবেলায় ! মন্ত্রাবিস্টের মতো উঠে বসি আমি আর অনুগামী হই নিঃশব্দে অনন্তের পথ ধরে অনন্তকাল – গন্তব্য কোথায় জানিনা । না আলো না আঁধার, অসীমের মতো নিরাকার নির্ভার মনে হয়, ভূত […]
মুনি রূপে গণ্য
ঊনিশশত পঁয়তাল্লিশ, একুশ তারিখ, জুন বৃহস্পতিবারে জন্ম নির্মলেন্দু গুণ। বারহাট্টা, কাশতলা, জেলা নেত্রকোণা জন্ম দিলো এমন শিশু, ইতিহাসে গোণা। কংশতীরে হংস তিনি, বাংলাজোড়া ডানা কাল পেরিয়ে ডাল পেরিয়ে মহাকালে হানা। একাত্তরে কম-বা-বেশি একাত্তরটি তূণ শব্দে-ছন্দে ছুঁড়েছিলেন নির্মলেন্দু গুণ। বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতা’র গল্পটি তার বুকে সত্তুরটি বছর কাটে সুখ মিশিয়ে দুখে। হৃদয়টা তার কাটাকুটি, শিরায় নীরার ব্রীড়া […]


