কবিতা

জননী

অথচ জননী জানি সাংবুগীন কারু পারঙ্গমা
প্রসন্ন প্রভায় বৃক্ষ করেছেন পিঙ্গল শিশুকে
রাত্রির মমতা পর্ণে ব্রহ্মব্রতে কজ্জলে কিংশুকে
বিমলিন স্তনধারে সে আমার প্রথম পরমা

আমাকে নন্দিত করে হিরন্ময় প্রভাতের ফুলে
ওষুধির সন্ধা হলো, অন্তজলি সুরভি সুষমা
আমার ইন্দ্রিয়ে অন্ধ দেহভরে বিষণ্ন বকুলে
স্বৈরাচারী অস্ত্রী রাম স্বপ্নে বলে, অবিপ্রের ক্ষমা?

অবিপ্র তোমায় বলি সর্বস্ব দেহের দাসী, বুকে
অশুচি শিখায় জ্বলো ব্রাজক বীতংস ব্রত ভুলে
নির্জন দ্বীপের শব তুমি নগ্ন কামনার কূলে
বিলসিত ঋতুরঙ্গে সলীলা কায়িক কৌতুকে।

ঘৃণায় স্মরণ করি যৌবনের পৃথুল রঙ্গমা
জননী তোমায় নতি, তুমি এক নারীর উপমা।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শক্তি চট্টোপাধ্যায় (জন্ম নভেম্বর ২৫, ১৯৩৪ - মৃত্যু মার্চ ২৩, ১৯৯৫) বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দ - উত্তর যুগের একজন প্রধান লিরিক কবি । পারিবারিক পরিচয়ঃ শক্তি চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের জয়নগর - মজিলপুরের দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । দারিদ্রের কারণে তিনি স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাড়েন, এবং সাহিত্যকে জীবিকা করার উদ্দৈশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন । প্রথম উপন্যাস লেখেন কুয়োতলা । কিন্তু কলেজ - জীবনের বন্ধু সমীর রায়চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বনাঞ্চল - কুটির চাইবাসায় আড়াই বছর থাকার সময়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় একজন সফল লিরিকাল কবিতে পরিণত হন । একই দিনে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখে ফেলার অভ্যাস গড়ে ফেলেন তিনি । শক্তি নিজের কবিতাকে বলতেন পদ্য । হাংরি আন্দোলনঃ ১৯৬১ সালের নভেম্বরে ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে যে চারজন কবিকে হাংরি আন্দোলন - এর জনক মনে করা হয় তাঁদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অন্যতম । অন্য তিনজন হলেন সমীর রায়চৌধুরী, দেবী রায় এবং মলয় রায়চৌধুরী । শেষোক্ত তিনজনের সঙ্গে সাহিত্যিক মতান্তরের জন্য ১৯৬৩ সালে তিনি হাংরি আন্দোলন ত্যাগ করে কৃত্তিবাস গোষ্ঠীতে যোগ দেন । তিনি প্রায় ৫০টি হাংরি বুলেটিন প্রকাশ করে ছিলেন । পরবর্তীকালে কৃত্তিবাসের কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধধ্যায়ের নাম সাহিত্যিক মহলে একত্রে উচ্চারিত হতো , যদিও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হাংরি আন্দোলন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং কৃত্তিবাস পত্রিকায় ১৯৬৬ সালে সেই মনোভাব প্রকাশ করে সম্পাদকীয় লিখে ছিলেন । পুরস্কারঃ সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার সহ তিনি একাধিক পুরস্কারে সন্মানিত ।