কবিতা

রাষ্ট্র মানেই লেফ্ট রাইট লেফ্ট

রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে স্বাধীনতা দিবসের

সাঁজোয়া বাহিনী,

রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে রেসকোর্সের কাঁটাতার,

কারফিউ, ১৪৪-ধারা,

রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে ধাবমান খাকি

জিপের পেছনে মন্ত্রীর কালো গাড়ি,

কাঠগড়া, গরাদের সারি সারি খোপ

কাতারে কাতারে রাজবন্দী;

রাষ্ট্র বললেই মনে হয় মিছিল থেকে না-ফেরা

কনিষ্ঠ সহোদরের মুখ

রাষ্ট্র বললেই মনে হয় তেজগাঁ

ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা,

হাসপাতালে আহত মজুরের মুখ।

রাষ্ট্র বললেই মনে হয় নিষিদ্ধ প্যামফ্লেট,

গোপন ছাপাখানা, মেডিক্যাল

কলেজের মোড়ে ‘ছত্রভঙ্গ জনতা-

দুইজন নিহত, পাঁচজন আহত’- রাষ্ট্র বললেই

সারি সারি ক্যামেরাম্যান, দেয়ালে পোস্টার!

রাষ্ট্র বললেই ফুটবল ম্যাচের মাঠে

উঁচু ডায়াসে রাখা মধ্য দুপুরের

নিঃসঙ্গ মাইক্রোফোন

রাষ্ট্র মানেই স্ট্র্রাইক, মহিলা বন্ধুর সঙ্গে

এনগেজমেন্ট বাতিল,

রাষ্ট্র মানেই পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত

ব্যর্থ সেমিনার

রাষ্ট্র মানেই নিহত সৈনিকের স্ত্রী

রাষ্ট্র মানেই ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে যাওয়া

রাষ্ট্র মানেই রাষ্ট্রসংঘের ব্যর্থতা

রাষ্ট্রসংঘের ব্যর্থতা মানেই

লেফট রাইট, লেফট রাইট, লেফট ।

শহীদ কাদরী
শহীদ কাদরী
জন্ম: ১৪ই আগস্ট, ১৯৪২ বাংলাদেশের একজন কবি ও লেখক। তিনি ১৯৪৭-পরবর্তীকালের বাংলা সংস্কৃতির বিখ্যাত কবিদের একজন যিনি নাগরিক-জীবন-সম্পর্কিত শব্দ চয়ন করে নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের সূচনা করে বাংলা কবিতায় সজীব বাতাস বইয়ে দিয়েছেন। তিনি আধুনিক নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক যন্ত্রণা ও ক্লান্তির অভিজ্ঞতাকে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। ভাষা, ভঙ্গি ও বক্তব্যের তীক্ষ্ণ শাণিত রূপ তাঁর কবিতাকে বৈশিষ্ট্য দান করেছে। শহর এবং তার সভ্যতার বিকারকে শহীদ কাদরী ব্যবহার করেছেন তাঁর কাব্যে। তাঁর কবিতায় অনূভূতির গভীরতা, চিন্তার সুক্ষ্ণতা ও রূপগত পরিচর্যার পরিচয় সুস্পষ্ট।কবি শহীদ কাদরী ৭৮ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের বাইরে। জার্মান, ইংল্যান্ড হয়ে তিনি এখন আমেরিকায় পাকাপাকিভাবে বসবাস করছেন। পঞ্চাশ উত্তর বাংলা কবিতা ধারায় আধুনিক মনন ও জীবনবোধ সৃষ্টিতে যে কজন কবির নাম করা যায় কবি শহীদ কাদরী ছিলেন তাঁদের মাঝে অন্যতম। বিশ্ব-নাগরিকতা বোধ, আধুনিক নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, রাষ্ট্রযন্ত্রের কূটকৌশল এসব কিছুই তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে স্বতস্ফূর্তভাবে। উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা এবং কোথাও কোন ক্রন্দন নেই এই তিনটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ দিয়ে কবি শহীদ কাদরী বাংলার কবিতায় একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত ঝলসে উঠে কবি যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ঠিক তখনি লেখালেখির জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ইউরোপ পাড়ি জমালেন। বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে কবি তাঁর ঠিকানাটি বেছে নিলেও দেশ থেকে বয়ে নিয়ে আসা স্মৃতিগুলো সবসময় তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, এক ধরনের নস্টালজিক আবেগ তাড়িত করে বেড়ায় ।