সবিনের ঘরটা অন্ধকার

বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাতটা বড় বেশি স্তব্ধ। গাছের পাতাগুলো যেন রুদ্ধ নিঃশ্বাসে অপেক্ষা করছে—কি যেন একটা ঘটতে যাচ্ছে তারই অস্পষ্ট আভাস বুঝি বাতাসে মিশে আছে। তাই কোথাও শব্দ হচ্ছে না। সব কিছু বুঝি উত্কর্ণ হয়ে আছে। হাতের সিগারেটটা পুড়ে পুড়ে শেষ হয়ে আসছে। আঙুলে একটু ছেঁকা লাগল। ছুড়ে ফেলল ঘাসের ওপর। অন্ধকার রাতে সিগারেটের টুকরোটা দপদপ করে জ্বলছে। যেন অত্যাচারিত মানুষের নিঃশব্দ বিদ্রোহের অগ্নিচক্ষু। চমকে ওঠে সাদৎ আলী। একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখে ওইটুকু টুকরো এখনো নিভে যাচ্ছে না। এখনো পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে না। যেন সাদৎ আলীর দিকে চেয়ে নিঃশব্দ অট্টহাসিতে মেতে উঠছে—যেন বলছে, শেষ হওয়ার আগে সব জ্বালিয়ে দেব। হঠাৎ একটা দমকা বাতাস লাগে সাদৎ আলীর দেহে। থরথর করে কেঁপে ওঠে দেহটা। তাড়াতাড়ি জানালাটা লাগিয়ে দেয়। বাইরে তখনো পুড়ে যাচ্ছে সিগারেটের টুকরোটা আর বাতাসে কেমন যেন একটা ঝিম ধরা গন্ধ আসছে।

ঘরের ভেতর পায়চারি করে সাদৎ আলী। মনের আনাচে, কানাগলিতে গজিয়ে উঠেছে বিশ্রী চিন্তার চারাগাছ। কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না সাদৎ আলী কালকে কী হবে? কালকে কী ঘটবে? সবিনের জন্য বড্ড চিন্তা হচ্ছে। বুঝতে পারছে ছেলেকে মানা করতে যাওয়া অন্যায়। ও তো কোনো অপরাধ করছে না—কোনো অন্যায়কে মাথা পেতে নিচ্ছে না। বরং বুক ফুলিয়ে গর্ব কণ্ঠে নিজের দাবি আদায়ের সংগ্রাম করতে যাচ্ছে। বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে সাদৎ আলীর। বুঝতে পারে মনের কোণে ওই কচি প্রাণগুলোর জন্য অনেক সহানুভূতি— অনেক ভালোবাসা জমে আছে। অথচ কর্তব্যকে ছাপিয়ে হূদয়ের সহানুভূতিটাকে কিছুতেই প্রশ্রয় দিতে পারছে না সাদৎ আলী। এ সাদৎ আলী পিতা সাদৎ আলী নয়, এ সেই সাদৎ আলী, যে পুলিশ হিসেবে কর্তব্যপরায়ণের জন্য তিন তিনবার অফিস থেকে পুরস্কার পেয়েছেন।

সবিন তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। কী করছে ছেলেটা এত রাত পর্যন্ত? হয়তো মিটিং করছে কিংবা হয়তো কালকের প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছে।

সাদৎ আলী ভাবছে এ সবিনের কর্তব্য—নিশ্চয়ই কর্তব্য। কী সুন্দরভাবে একটা ভাবনামুক্ত মন নিয়ে ও ওর কর্তব্যপথে এগিয়ে গেছে—কোথাও কোনো পিছুটান অনুভব করছে না, কোথাও কোনো বন্ধন রাখেনি। আর সাদৎ আলী যেন নিজের কর্তব্য করতে গিয়ে প্রতি পদক্ষেপে বাধা পাচ্ছে—পায়ে পায়ে গ্লানি এসে জড়িয়ে ধরছে, মন থেকে সাড়া পাচ্ছে না। একটু একটু কাঁপছে সাদৎ আলী। মনের এ দোলাচলবৃত্তি তাকে ব্যাকুল করে তুলেছে।

রান্নাঘর থেকে তরকারির গন্ধ আসছে। এক পা এক পা করে এগিয়ে যায় সাদৎ আলী। ছোট রান্নাঘরটায় বিশ্রী কেমন দম আটকানো ধোঁয়া। চুলোটা গনগন করে। আমিনা খাতুন ব্যস্ত। চুলোর ওপর কী যেন রান্না হচ্ছে। সাদৎ আলী খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। একবার থেমে নিয়ে বলে, ‘শুনছো, সবিন আসছে না কেন বলো তো?’

একবার তাকিয়ে মুখটা ঘুরিয়ে নেয় আমিনা খাতুন। মুখটা কেমন ভেজা ভেজা। কোনো উত্তর করতে পারবে না। চুপচাপ কাজ করে যায়।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  লাল কাঁকড়া ও বুনোফুল

দরজার ওপর অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সাদৎ আলী। নিজেও জানত কোনো উত্তর করতে পারবে না আমিনা খাতুন। তবু মনের গোপন কোণে কোথায় যেন একটা তাগিদ অনুভব করে।

—তুমি কাল অফিসে যেয়ো না।

খসখস করে আমিনা খাতুনের কণ্ঠ। এ ঠিক অনুরোধও নয় আদেশও নয়। তবে জোর করে সাদৎ আলী বলে, ‘তা কি হয়? কর্তব্য যে আমার জীবনের চেয়ে বড়। কর্তব্য পালনে বিচ্যুত হলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।’

নিজেকে ভয়ানক অসহায় আর দুর্বল মনে হয় সাদৎ আলীর। চারপাশে বুঝি কেউ নেই। সাদৎ আলী ভয়ানক একা।

—তা বটে! আরেকটা প্রাইজ নেওয়ার লোভ হয়েছে।

একটা কথার তীব ছুড়ে মারে আমিনা খাতুন। খক্খক্ করে থুতু ফেলে ছাইয়ের মাঝে। একটা শুকনো খড়ি গুঁজে দেয় চুলোয়। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে কাঠ। মুহূর্তে রাঙিয়ে যায় আমিনা খাতুনের কঠিন চোয়াল।

দরজা ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় সাদৎ আলী। ওই আভা বুঝি তাকে পুড়িয়ে ফেলবে। অথচ কেউ বুঝতে চাইছে না সাদৎ আলী কত অসহায়। সাদৎ আলীর মনের কোণে কত সহানুভূতি জমে আছে। উঠোনটুকু পেরিয়ে এলো আস্তে আস্তে। ভাবছে চাকরিটা ছেড়ে দেবে কি না? এই জীবনটা আর ভালো লাগছে না। আজ মনে হচ্ছে পুলিশের পনেরো বছরের চাকরিটা ওকে বুঝি মনের দিক থেকে দেউলে করে দিয়েছে। শুধু আদেশ পালন। এ ছাড়া বুঝি সাদৎ আলীর আর কোনো অনুভূতি নেই। মনটা ভয়ানকভাবে পঙ্গু হয়ে আছে।

আবার বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। সবিনের ঘরটা অন্ধকার। কেউ বাতি জ্বালেনি। হতভাগা এখনো ফিরল না? কী যে করছে এত রাত পর্যন্ত? বিড়বিড় করে সাদৎ আলী। ওর ঘরে যায়। আলোটা জ্বালে। টেবিলের ওপর বইপত্র, কাগজ-খাতাগুলো সব এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। বিছানার চাদর কুঁচকে আছে, বালিশটা উল্টে আছে একধারে। ঘরের মেঝে লাল-নীল রঙের ছোপে রাঙানো। চৌকির নিচে বিরাট পোস্টার লিখে রেখেছে। একটা খুলে দেখে সাদৎ আলী। লেখা আছে—‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।

বুকটা তৃপ্তিতে ভরে যায়। ভাঁজ করে রেখে দেয় কাগজটা। সবিনের মুখটা মনে পড়ে। মায়া হয়। ছেলেটা সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে হয়তো অনেক রাতে ফিরবে। চোখ জড়িয়ে আসবে ঘুমে। ভাবতে ভাবতে সবিনের বিছানাটা পাট করে বিছিয়ে রাখে সাদৎ আলী। ছেলে এসে তার ঘুমাবে। ভয়ানক ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে।

রাত বেড়েছে। চারদিকে নিঝুম। বিছানায় গা এলিয়ে চুপচাপ পড়ে থাকে সাদৎ আলী। রান্নাঘর থেকে শব্দ আসছে না। হয়তো আমিনা খাতুন সব কাজ শেষ করে সবিনের ভাতের থালাটা সামনে রেখে রাতের প্রহরগুলো গুনে গুনে শেষ করছে। ওই এক স্বভাব তার। সবিনকে না খাইয়ে কোনো দিন ঘুমাবে না—সে ছেলে যত রাতেই ফিরুক। ঘরের ভেতর ইঁদুর চলাচল করছে—কোথায় যেন কী কাটছে কুটকুট করে। উত্কর্ণ হয়ে থাকে সাদৎ আলী। হয়তো এক্ষুনি জুতার আওয়াজ শুনতে পাবে বারান্দার ওপর কিংবা গেটের কাছের পেয়ারাগাছটার শুকনো পাতা মচ্মচ্ করে উঠবে সবিনের পায়ের চাপে। কিন্তু অনেকক্ষণ সাদৎ আলী কোনো শব্দ পায় না। শুধু বিনিদ্র রাতের প্রহরগুলো এক-দুই করে এক্কা-দোক্কা খেলছে। তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টের পায়নি সাদৎ আলী।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  বিষণ্ণ শহরের গল্প

প্রতিদিনের নতুন জন্মে সূর্য তখনো ঝলমল করে ওঠেনি। আঁধারের বাঁধ ভেঙে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। গেটের কাছের পেয়ারাগাছের মাথায় আঁধারের শেষ মিলনের রেশটুকু তখনো লেগে আছে।

রাতের শিশির টিনের চালে ভিজে আছে। স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠার মতো ধড়মড় করে জেগে ওঠে সাদৎ আলী। খড়মের খটখট্ আওয়াজ তুলে বেরিয়ে আসে। সবিনের ঘরে যায়। দরজাটা খোলা। বিছানাটা এলোমেলো। কিন্তু কেউ কোথাও নেই। ব্যস্ত পায়ে বেরিয়ে আসে উঠোনে। মেহেদি গাছটার সঙ্গে মিশে রাস্তার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমিনা খাতুন। মুখের চোয়ালটা শক্ত।

চোখ দুটো ভাবলেশহীন। ঠোঁটটা কাঁপছে।

—শুনছো, সবিন এসেছিল?

—হ্যাঁ। সংক্ষিপ্ত উত্তর। কথা বলতে যেন কষ্ট হচ্ছে আমিনা খাতুনের।

—কই সে? কণ্ঠের উদ্বেগটুকু চেপে রাখতে পারে না সাদৎ আলী।

—আবার বেরিয়েছে।

—উঃ! তুমি বাধা দিতে পারলে না? ছেলেটার জন্য কি একটুও মায়া নেই? নিজের মা হলে ওকে আজ এমন করে ছেড়ে দিতে না।

—কী বললে? গুলি করা পাখির মতো আর্তনাদ করে ওঠে আমিনা খাতুন। দেহটা কাঁপে। এক্ষুনি বুঝি পড়ে যাবে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সাদৎ আলীর মুখের দিকে।

বিমূঢ় সাদৎ আলী। অনুতপ্ত। সে তো নিজেও জানে নিজের ছেলেমেয়ের চেয়ে সবিন আমিনা খাতুনের প্রিয় বেশি। অসহায়ভাবে বলে, কেন, কেন তুমি মানা করলে না?

—মানা করিনি, না? আমি পারিনি মানা করতে। থেমে থেমে আস্তে আস্তে বলে, তোমার সংসারে ওই প্রথম আমাকে মা ডাকের রঙিন চমকটুকু দিয়েছিল। সে ডাকের স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে ও লড়তে গেছে, আমি কী করে মানা করি বলো?

উদ্গত কান্না চাপে আমিনা খাতুন। ছুটে পালানোর জন্য পা বাড়ায়। কিন্তু পরক্ষণেই ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে, ‘যাওয়ার আগে ও কী বলেছিল জানো? বলেছিল, যেমন তুমি সত্য মা, আমার মুখের ভাষাটুকুও তেমনি সত্য। তুমি কিছু ভেবো না মা। আমাদের অধিকার আমরা অর্জন করবই করব।’

ছুটে পালায় আমিনা খাতুন। আর কথাগুলোর রেশ দুকান ভরে বাজতে থাকে সাদৎ আলীর কানে। মেহেদিগাছের কচিপাতায় তখন সূর্যের নরম আলো চুমু খাচ্ছে।

‘ডিউটিতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসে সাদৎ আলী। বারান্দার খুঁটিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিল আমিনা খাতুন। কোনো দিকে তাকিয়ে আছে বোঝা যাচ্ছে না। সাদৎ আলী কাশে। মাথার হেলমেটটা ঠিক করে। একবার ফিরে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নেয় আমিনা খাতুন। চমকে ওঠে সাদৎ আলী। ও মুখটুকু জুড়ে কি শুধুই ঘৃণা? গলার সবটুকু শক্তি জড়ো করে বলে, ‘আমাকে আজকের দিন ক্ষমা করো তুমি।’

আর দাঁড়ায় না সাদৎ আলী। জুতার মচ্মচ্ আওয়াজ তুলে বেরিয়ে আসে। জানে আমিনা খাতুন কোনো উত্তর দেবে না কিংবা ঘুরেও তাকাবে না। সূর্যের আলোয় চক্চক্ করে সাদৎ আলীর হেলমেটটা। একদৃষ্টে তাকিয়ে তাকে আমিনা খাতুন।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  মানুষের ডেরায় স্বপ্নের খুঁটি

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছে যায় সাদৎ আলী। এখানে আজ পাহারা দিতে হবে। রাইফেল উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভেতরে সিংহ বাচ্চার সমুদ্র গর্জন হচ্ছে। এদের স্লোগানের কথাগুলো সাদৎ আলীর দুই কানের তীরে এসে বারবার আছড়ে পড়ে। এক্ষুনি বুঝি ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সাদৎ আলীকে। দুই হাতে রাইফেলের বাঁটটা চেপে ধরে। ভেতরটা কাঁপছে। সাদৎ আলী বুঝতে পারছে পাশের সঙ্গীরা কেমন বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে। কর্তব্যসচেতন সাদৎ আলীর আজ নিজেকে ভয়ানক দুর্বল মনে হয়। এই অসাড় চেতনার মাঝেও মনটা বিদ্রোহ করে শুধু মনে হচ্ছে, কাকে মারবে সাদৎ আলী? কাদের মারবে? যারা তার বাপ-দাদার চৌদ্দপুরুষের মুখের ভাষাটা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করছে? বিক্ষুব্ধ অকারণে জুতার তলা ঘসে। সবিনের মুখটা মনে পড়ে। আমিনা খাতুনের ভাবলেশহীন মুখটা তার চেতনার রুদ্ধ দুয়ারে করাঘাত করছে। মনে পড়ে ছেলেমেয়েগুলোর কথা। এরা এতক্ষণে হয়তো চিত্কার করে ‘বর্ণমালা’ পড়তে শুরু করেছে। আবার সমুদ্র গর্জনের উত্তাল তরঙ্গ ভেসে আসে। বক্তৃতা করছে ছেলেরা। এক্ষুনি সব বেরিয়ে আসবে স্রোতের মতো। সাদৎ আলীর এই একটা রাইফেল কি ওদের শত কণ্ঠকে বিদীর্ণ করে দিতে পারবে? সাদৎ আলী বুঝতে পারছে না মনে তার এত দ্বন্দ্ব কোথা থেকে এলো। কর্তব্যকে সে প্রাণের চেয়েও ভালোবাসে। নিজের কাজে কোনো দিন সাদৎ আলী অবহেলা করেনি। কিন্তু আজ? আজ কোথাও যেন প্রাণের সাড়া পাচ্ছে না। মনটা ছুটে এসে কর্তব্যপথের সামনে আগলে দাঁড়াচ্ছে। ভয়ানক বিব্রতবোধ করছে সাদৎ আলী।

এগিয়ে আসছে কালো কালো মাথাগুলো। রাইফেল তুলে ধরে সাদৎ আলী। হাতটা কাঁপছে থরথর করে। ছায়াছায়া মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। সারা শরীরে ঘাম ছুটে যায় সাদৎ আলীর। অথচ কিছুতেই ট্রিগারটা টিপতে পারল না। রাইফেলটা নামিয়ে ফেলে। চিরদিনের কর্তব্যপরায়ণ সাদৎ আলী আজ প্রাণের তাগিদে হূদয়ের সহানুভূতিটুকুকে প্রশ্রয় দিয়ে ফেলেছে। পাশের সঙ্গীরা গুলি চালিয়েছে।

ভিড়ের মাঝে সরে আসে সাদৎ আলী। ভাবতে চেষ্টা করে কাল কী হবে? ডাক পড়বে অফিসে। চাকরি থেকে বরখাস্ত করবে কিংবা আরো কঠিন শাস্তি দিতে পারে। তা দিক। আপত্তি নেই সাদৎ আলীর। সারা জীবন ওদের হুকুম পালন করে এতটুকু তৃপ্তি পায়নি সাদৎ আলী, আজ না করে যতটুকু পেল।

চারপাশের গর্জন, গুলির আওয়াজ কিছু কানে আসে না সাদৎ আলীর। মনে পড়ে আমিনা খাতুনের মুখটা। সাদৎ আলীকে দেখলে গনগনে আগুনের মতো ও মুখ আর উত্তপ্ত হবে না। হয়তো মেহেদির রঙের মতো অনেক ভালোবাসার রংও মুখে ছড়িয়ে আছে। সবিন? সবিনও আর তার সামনে থেকে পালিয়ে বেড়াবে না। বুক টান করে তার সামনে এসে দাঁড়াবে। একটা তৃপ্তির হাসি হাসে সাদৎ আলী।

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

সেলিনা হোসেন- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...