নদীর ওপরে, নদীবক্ষে বেশ ক’টি সুখী দিন
কেটেছিলো মৃদুমন্দ ঢেউয়ের দোলায়,
নদীতীর প্রকৃতই সুখী গৃহকোণ ব’লে মনে হয়েছিলো;
নদীর সময় কম থমকে দাঁড়াবার_
তবু নদী স্থির হ’য়ে কিছুটা থমকে সময় দিয়েছিলো,
এতটা প্রশ্রয় আমি আশাও করিনি;
আমার সৌভাগ্য এই স্বেচ্ছায় নদীই বক্ষে তার
দিয়েছিলো ঠাই _ আতিথ্য, আদর, সুখ।
নদী বলেছিলো : “ভুলে যেয়ো,
আমার তো তাড়া আছে, যাই…”
অবশ্য আমার কোনো তাড়া নেই _ আমি দীর্ঘসূত্রী,
‘আজ থাক্ কাল হবে’ _ ব’লে আমি ফেলে রাখি কাজ,
শেষঅব্দি কোনো কাজই সম্পন্ন করি না_
প’ড়ে থাকে কাজ _ কাজের ওপরে ধুলোবালি জমে,
প্রভূত শ্যাওলা জমে বিষম জরুরি কাজে_
এইভাবে অপরাহ্নে গড়ায় আমার দিনগুলি;
কর্মময় সকাল-দুপুর
কেউ না আমার _ আমি অপরাহ্নময়!
Related Articles
চিঠি দিও
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও আঙ্গুলের মিহিন সেলাই ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও, এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি। চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও! আজো তো অমল আমি […]
দারিদ্র্য
হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্। তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস, অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস; উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার, বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার! দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস, অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস, অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ! শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান যতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু […]
কৃত্রিমতা
গাড়ির কাচটা নামা ; গগলস খুলে ওই দ্যাখ সেই সাব-এডিটর তোর অভিনয়ে কৃত্রিমতা আছে লিখে তুলোধনা করেছিল তোকে অবন্তিকা তাকিয়ে রয়েছে তোর পোস্টারের খাঁজে অপলক নাহ, অপলক বলা যুৎসই নয়, গিলছে রে তোর সিলিকন-ঠাসা বুক দুটো। ভুলে গেছে ব্যাটা ওদুটো কৃত্রিম কিন্তু যৌনতার শিল্পবোধে ফেঁসে লটকে পড়েছে তোর বুকের নিজস্ব অভিনয়ে।

