– কি করছো?
– ছবি আকঁছি।
– ওটা তো একটা বিন্দু।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই বৃত্ত হবে। কেন্দ্র হবে তুমি। আর আমি হবো বৃত্তাবর্ত।
– কিন্তু আমি যে বৃত্তে আবদ্ধ হতে চাই না। আমি চাই অসীমের অধিকার।
– একটু অপেক্ষা করো। . . . এবার দেখো।
– ওটা কি? ওটা তো মেঘ।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই আকাশ হবে। তুমি হবে নি:সীম দিগন্ত। আর আমি হবো দিগন্তরেখা।
– কিন্তু সে তো অন্ধকার হলেই মিলিয়ে যাবে। আমি চিরন্তন হতে চাই।
– আচ্ছা, এবার দেখো।
– একি! এ তো জল।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই সাগর হবে। তিনভাগ জলের তুমি হবে জলকন্যা। আর আমি হবো জলাধার।
– আমার যে খন্ডিতে বিশ্বাস নেই। আমার দাবী সমগ্রের।
– একটু অপেক্ষা করো। এবার চোখ খোল।
– ওটা কি আঁকলে? ওটা তো একটা হৃদয়।
– হ্যাঁ, এটা হৃদয়। যেখানে তুমি আছো অসীম মমতায়, চিরন্তন ভালোবাসায়। এবার বলো আর কি চাই তোমার?
– সারাজীবন শুধু ওখানেই থাকতে চাই।
(এটি কথোপকথন/দুই এর কবিতা )
Related Articles
বাংলাদেশ চায় না তোমাকে
বাংলাদেশ চায় না তোমাকে, তুমি চলে যাও, যাও কত যে মায়ের খালি বুক ফেলে দীর্ঘশ্বাস_ রক্ত মাখা হাত, তুমি ক্ষমা চাও, ক্ষমা ভিক্ষা চাও। তোমাকে চায় না এই সোনালী ধানের খেত, কচি দূর্বা, দীর্ঘ শালবন চায় না ভোরের পাখি, কলা পাতা, গায়ের উঠোন; কত না পিতার বক্ষে তুমি জ্বেলেছ আগুন তুমি চলে যাও, যাও; তোমাকে […]
রাশিয়ার চিঠি- ১১
পিছিয়ে-পড়া জাতের শিক্ষার জন্যে সোভিয়েট রাশিয়ায় কীরকম উদ্যোগ চলছে সে কথা তোমাকে লিখেছি। আজ দুই-একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। উরাল পর্বতের দক্ষিণে বাষ্কির্দের বাস। জারের আমলে সেখানকার সাধারণ প্রজার অবস্থা আমাদের দেশের মতোই ছিল। তারা চির-উপবাসের ধার দিয়ে দিয়েই চলত। বেতনের হার ছিল অতি সামান্য, কোনো কারখানায় বড়োরকমের কাজ করবার মতো শিক্ষা ছিল না,অবস্থাগতিকে তাদের ছিল […]
শ্রীকান্ত মনিদাস
আমাদের পাড়ায় ফুটপাতের ধারে বসে জুতো পালিশ করে, সেলাই করে, তাপ্পি লাগায়। থাকে আজিমপুরের এক-কামরার এক ভাড়াবাড়িতে। ভাড়া মাসে ১৫০০ টাকা। দাদার জমিজিরেত ছিলো। কিশোরগঞ্জে। সেসব বেচে খেতে খেতে কিছুই আর নেই। বাপ বাধ্য হয়ে নামে মুচি হিসেবে। শ্রীকান্তও বাপের পথ ধরেছে। যে-দোকানগুলোর সামনে বসে, সেখানেই কোথাও রাত্রিবেলা রেখে দ্যায় ওর জিনিসপত্তর ওর জীবনসংগ্রামের সামান্য […]

