অতঃপর সে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
জুঁইয়ের গন্ধে বাতাস যেখানে মন্থর হয়ে আছে ;
এবং, রেলিংয়ে ভর দিয়ে
যেখান থেকে অল্প-একটু আকাশ দেখা যায়।
আকাশ!
এতক্ষণে তার মনে পড়ল,
সারাটা সকাল, সারাটা বিকেল আর সন্ধ্যা
কাজের পাথরে মাথা ঠুকতে ঠুকতে, মাথা ঠুকতে ঠুকতে
মাথা ঠোকাই তার সার হয়েছে।
কোনো-কিছুই সে শুনতে পায়নি ;
না একটা গান, না একটু হাসি।
এখন শুনবে।
কোনো-কিছুই সে দেখতে পায়নি ;
না একটা ফুল, না একটু আকাশ।
এখন দেখবে।
রুগ্ন স্ত্রীকে মেজার-গ্লাসে-মাপা ওষুধ খাইয়ে,
কুঁচকে-যাওয়া বালিশটাকে গুছিয়ে রেখে,
ঘুমন্ত ছেলের ইজেরের দড়িটাকে আর-একটু আলগা করে দিয়ে,
সে তাই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
১৮ ভাদ্র, ১৩৬৪
Related Articles
আমি কিরকম ভাবে বেঁচে আছি
আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ পরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি, মশা […]
প্রতীক্ষা
কেটে যায় দিনগুলো তার আসার প্রতীক্ষায় তবুও সে যে আসেনা জীবনের আঙ্গিনায় কত আশা , কত বেদনা ঘিরে আছে তাকে কুয়াশা ভরা পথে দুজনে হেটেছিলাম হাত ধরে ….. কত স্মৃতি ,কত টুটে যাওয়া স্বপ্ন সবই যে তাকে ঘিরে আসা যাওয়া সেই প্রেমের হাওয়া অভিমান আর আদরের সুরে ভরা …… চেয়ে থকি সেই পথ চেয়ে নীরবে […]
রবীন্দ্রনাথ, মেলে না উত্তর
প্ল্যানচেটে পেয়ে গেছি রবীন্দ্রনাথ। সোনার তরী থেকে রক্তকরবীর গূঢ় ব্যাখ্যা জেনে নেবো, প্রয়োজনে জিগ্যেস করবো কী করে বাঁচবো, বাঁচাবো নিজেকে? চারদিকে হননের গান, অসহিষ্ণুতা। পাড়ায়-অঙ্গনে প্রকাশ্যে মস্তানি, গুপ্তহত্যা, ভয়ের সংস্কৃতি। ক্রমশ এগিয়ে আসছে ধ্বংসের দিন। সমস্ত সরণি- প্রান্তর জল্লাদ আর যমের দখলে। বধ্যভূমির সম্প্রীতি। রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করোনি। নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস। সর্বত্র নেকড়ে-ভালুক-সিংহের […]

