আমার রোবুদা

[বাঁ থেকে] রবিশঙ্কর, কমলা শঙ্কর ও শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের সঙ্গে দাউদ হায়দার
[বাঁ থেকে] রবিশঙ্কর, কমলা শঙ্কর ও শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের সঙ্গে দাউদ হায়দার

ডাকপিয়ন ছাড়া বোধহয় সাধারণ মানুষের অজানা বালিগঞ্জ রোডের নাম আশুতোষ চৌধুরী এভিনিউ। এই এভিনিউয়ে বিড়লা মন্দির। বিপরীতে মদের দোকান, পেট্রল পাম্প, মৈনাক (বিল্ডিং), সুখাবতী ভবন। এ রকম ভৌগোলিক চেহারাসুরত ছিল না আগে। মদের দোকান, পেট্রল পাম্প, মৈনাক, সুখাবতী ভবন মিলিয়ে যে জায়গা-জমিন, ওখানেই ছিল মুখার্জিদের ভিলা। মনে পড়ছে না ভিলার নাম। মুখার্জিকুলের এক ছেলে সিদ্ধার্থ। বয়সে আমার বছর পাঁচেকের বড়। ৭ জওয়াহেরলাল নেহরু রোডে ইউএসআইএস তথা মার্কিন সাংস্কৃতিক দফতর। ছোট অডিটোরিয়াম। সাকল্যে শ’খানেক দর্শকের আসন। মাসে ২/৩টি মার্কিনি ছবির প্রদর্শনী। দেখতে গেছি এক রোববারে। পাশে সুদর্শন একজন। ছবি শেষে তার সঙ্গে আলাপ। নাম জানাজানি। প্রথম পরিচয়েই সিদ্ধার্থ মুখার্জি বললেন, ‘কফি খাবে? চলো।’ খেতে খেতে ছবি নিয়ে কথা। ছবি বিষয়ে আমার জ্ঞানগম্যি কম জেনে, বিরক্ত হয়ে, ‘মিউজিক ভালোবাসো? ক্লাসিক্যাল মিউজিক? ওয়েস্টার্ন বা ইন্ডিয়ান?’ হ্যাঁ সূচক ভালোবাসাবাসি শুনে উৎসাহী।
ওয়েস্টার্ন বা ইস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিক কি, কিচ্ছু জানি না, শুনিনি আগে। ছবি বুঝি না, ক্লাসিক্যাল মিউজিক ভালোবাসি না, এতটা কই কী করে? তো মিথ্যার আশ্রয়। বানিয়ে বললুম, হ্যাঁ। সিদ্ধার্থ খুশি।
সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই আমাদের বন্ধুতা। ওঁর আস্তানায় [ভিলায়] যাতায়াত। সিদ্ধার্থের নিজের ঘরে বইপত্তর ছড়ানো-ছিটানো। বিস্তর বই। বিস্তর রেকর্ড। ৭৮, লংপ্লে এবং ৩৩ ঘূর্ণন। কোথাও ঠিকঠাক সাজানো নেই, এলোমেলো। ‘করিম খাঁ শুনবে?’ হ্যাঁ-না’র আগেই সিদ্ধার্থ রেকর্ড প্লেয়ারে করিম খাঁ চাপিয়ে, চেয়ারে বসে একেবারে নির্বাক। মাঝে মধ্যে মাথা দোলানি। চোখ বন্ধ। হঠাৎ হঠাৎ ‘আহ! আহ!’ ধ্বনি। বুঝলুম, রসে মজেছেন। মনে পড়ল, আমাদের পাবনা দোহারপাড়ার বাড়িতে মারফি রেডিও ছিল। আকাশবাণী শুনি। দুপুরের অনুষ্ঠানে [ভারতীয় সময় আড়াইটা, বাংলাদেশে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তিনটা।] সরোদ, সেতার, সানাই কিংবা রাগপ্রধান গান বা খেয়াল। শুরু হলেই বন্ধ করা হয় রেডিও। একদিন, বন্ধ করা হয়নি, খেয়াল হচ্ছে। আমরা খাবার ঘরে। পাড়ার এক দাদি ছুটে এসে বললেন, ‘তোদের রেডিও পাগল হয়ে গেছে, আ-আ-উ-হু করছে।’
_আমি ভাবলুম, সিদ্ধার্থও বুঝি এখন পাগল। গান শেষে সুস্থ। বললেন, ‘আগামী শনিবারে, রাত ৯টার আগেই আসবে। খাবে। রাত ১২টার আগে নিশ্চয় অনুষ্ঠান শেষ হবে না। কিসের অনুষ্ঠান?
আল্লারাখা আসবেন। বাজাবেন। শুনবে তবলা বাদন কাকে বলে। কোথায় বাজাবেন?
– আমাদের বাড়িতে, ওই দোতলা জলসাঘরে।
সেই প্রথম আল্লারাখাকে দেখলুম। জাকির হোসেনকেও [তাঁর বাম হাত ভাঙা, শাদা প্লাস্টার করা। কয়েকটি টেলিফোন নাম্বার লেখা। মেয়েদের। এ নিয়ে কলকাতার কড়চাও লিখি একটি আনন্দবাজারে] লম্বা, ফর্সা, ঝাঁকড়া চুলা যে কোনো নায়কের চেয়ে দেখতে উত্তম।
মাসখানেক পর সিদ্ধার্থ বললেন, কাল শনিবার, সন্ধ্যায় আসবে। ৮টার আগে। বাড়ি থেকে খেয়ে এসো।
কেন আসব?
রোবুদা আসবেন।
কে রোবুদা?
নাম শোনোনি? রবিশঙ্কর। পণ্ডিতজি বাজাবেন। তাড়াতাড়ি না এলে জায়গা পাবে না। ঢুকতেও দেবে না।
ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের কথা বলছি।
সেই প্রথম রবিশঙ্করকে দেখি। বাজনা শুনি। বাজনার ভালোমন্দ অজানা। বাকি শ্রোতাদের মতো আমিও চুপ, মাথা নিচু। সমঝদার শ্রোতাদের কেউ কেউ ‘আহ, আহ, আহ’ ধ্বনি তুলছিলেন মাঝেমধ্যেই। বসেছি শেষ আসনে, মেঝেতে। ফরাশপাতা অবশ্য। আমার পাশে একজন মহিলা, কিছুক্ষণ আগেই রবিশঙ্করের পা ছুঁয়ে এসেছেন। রবিশঙ্কর তাঁর মাথায় হাত রেখে কী বলেছেন ৫/১০ সেকেন্ড, তাও শুনিনি। ভদ্রমহিলা ত্রিশ উত্তীর্ণ [অনুষ্ঠান শেষে আলাপ, নাম বললেন, জয়া বিশ্বাস]।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে রবিশঙ্কর অনেকের সঙ্গে গল্প করেন খোশমেজাজে। ফরাশপাতা চৌকিতে বসে সেতারের টিউন ঠিক করতে করতেও কথা। কী বলছিলেন, এক অক্ষরও মনে নেই। পেছনের সারিতে বসে সব কানেও যায়নি।
মন একটু খারাপ হলো, রাগও সিদ্ধার্থের ওপর, অনুষ্ঠান শেষে আলাপ করিয়ে দেননি। পথে নেমে ভাবি, সিদ্ধার্থ বুদ্ধিমান খুবই। কেন পরিচয় করাবেন? আমারইবা পরিচয় কী? একটি পরিচয় আছে অবশ্য, বাঙাল। কাঠ বাঙাল। গেঁয়ো বাঙাল।
ডোভারলেন মিউজিক কনফারেন্সে দু’বার দেখেছি, রবিশঙ্কর মধ্যরাতে এসেছেন। রবীন্দ্রসদন এবং কলামন্দিরেও দেখেছি। বাজনা শুনেছি। রবীন্দ্রসদন, কলামন্দিরে বিদেশির [অধিকাংশই হিপি-টাইপের। কলকাতায় ভ্রামাণিক] ভিড়। একবার এক হিপিকে জিজ্ঞেস করি, রবিশঙ্করের বাজনা বোঝেন? আগে শুনেছেন? উত্তর : ‘গুরু, গুরু।’ _এই জবাবের মানে কী বোঝা দুষ্কর। তো, আর প্রশ্ন নয়।
রবিশঙ্করকে দূর থেকে দেখেই নয়নসুখ।
মনে পড়ছে, শিলাইদহের একজন কৃষক, অতিশয় বৃদ্ধ, বয়স প্রায় একশ’র কাছাকাছি, বলেছিলেন, ‘ঠাকুরবাবুকে দেখেছি।’ _কথা হয়েছিল? জানতে চাই।
_না, না। দূর থেকে দেখেছি। নুরানি দাড়ি [মৌলভি-দরবেশদের যে রকম]।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যভাগের বিএ, এমএ পর্বের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী দার্জিলিঙে গেছি, এসকারশনে।
যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে বন্ধু শঙ্করলাল ভট্টচার্য বললেন, ‘আরে! ওই সময় আমরাও যাচ্ছি।’
আমরা মানে?
_ইন্দ্রানীসহ। অমুক হোটেলে থাকব, চলে এসো। এক সকালে ব্রেকফাস্ট করব। বন্ধু-বান্ধবী সঙ্গে এনো না।
রহস্য খোলাসা করেননি শঙ্করলাল। আমিও বিশদ জানতে চাইনি। সবে বিয়ে করেছেন, হয়তো হানিমুন করতে যাচ্ছেন। ডিস্টার্ব করা গুরুতর অন্যায়। অভদ্রতা। অসভ্যতা।
শঙ্করলালের হোটেলে গিয়ে চোখ চাঁদিতে, লনে বসে শঙ্করলাল-ইন্দ্রানী-রবিশঙ্কর-কমলাশঙ্কর আড্ডা দিচ্ছেন। সামনে ছোট টেবিল। হরেক স্বাদের ব্রেকফাস্ট। টি। কফি।
শঙ্করলাল পরিচয় করিয়ে দিলেন, সংক্ষিপ্ত ভাষা : ‘আমার বন্ধু।’
রবিশঙ্কর : ওহ, পুব বাংলার? কী লিখছো এখন?
_আকাশ থেকে পড়ি না বটে, হাড়গোড়ও ভাঙে না, সবই ঠিক, বিস্ময় কেবল, আমি লিখি, কি করে জানেন? বাদকই নন শুধু, তরুণতমের লেখালেখির খোঁজও রাখেন?
মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, আপনি আমার লেখা পড়েন, পড়েছেন কখনও?
রবিশঙ্কর : না না, পড়ি-টড়িনি। শঙ্কর-ইন্দ্রানী বলছিল তুমি লেখোটেকো। এ নিয়ে বেশ হাসাহাসি, রসিকতা।
_কথোপকথন যেটুকু কানে আছে, লিখছি। হয়তো হুবহু বয়ান নয়, ওই রকমই, তবে একটু-আটটু ওলটপালট হতে পারে।
৩৩ বছর আগের কথা বলছি [মার্চ ১৯৭৯]।
বলি, না পড়ে জেনেছেন লিখিটিখি।
রবিশঙ্কর : কবিতাটবিতা পড়া হয় না এখন। সময় কোথায়? ছোটকাল ছিল যখন, পড়েছি স্কুলে। রবিবাবুর কবিতা। শুনেছি, আধুনিক কবিতা খুব খটমটে। কি ইন্দ্রানী, তুমি পড়ো? বোঝো কিছু?
আমি : বললেন, পুব বাংলা। আট বছর আগে লন্ডনে জর্জ হ্যারিসনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে ‘বাংলাদেশ কনসার্ট’ করেছেন। বাংলাদেশের নাম ভুলে গেছেন ইতিমধ্যেই?
রবিশঙ্কর : আরে না, না। পুব বাংলায় আমাদের পৈতৃক ভিটে। বাবার [উস্তাদ আলাউদ্দীন খান] সঙ্গে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়েছি।
কমলাশঙ্কর : কুমিল্লার নাম শুনেছি। আমারও যাওয়ার ইচ্ছা।
_ভয় দেখালুম, অনেক দূর। হেঁটে, নৌকোয়, গরুগাড়িতে যেতে হয়। পথে ডাকাতও আছে।
_আরেক প্রস্থ হাসাহাসি। রসিকতা।
কমলাশঙ্করকে খুব ভাল্লাগলো। বড়দি’র মতো এটা খাও, ওটা খাও। যখন শুনলেন, এসকারশনে ছাত্রের সংখ্যা দু’জন, বাকিরা [১৭] ছাত্রী, আমাকে আপাদমস্তক চাক্ষুষ করে কমলাশঙ্করের মন্তব্য : ‘বুঝেছি, তুমিই কৃষ্ণ।’ শঙ্করলাল-ইন্দ্রানী আরো কিছু বাড়তি কথা যোগ করেন।
প্রায় সারাদিনই ছিলুম, একসঙ্গে লাঞ্চও করি। লাঞ্চের নিমন্ত্রণ কমলাশঙ্করের, ‘দুপুরে আমাদের সঙ্গেই খাবে।’ কেউ আপত্তি করেননি। শঙ্করলাল এবং ইন্দ্রানী বিস্তর ছবিও তুললেন। শঙ্করলাল-ইন্দ্রানীকে খুব স্নেহ করেন রবিশঙ্কর, বুঝতে পারলুম। শঙ্করলাল সম্বোধন করছিলেন ‘রোবুদা’। কমলাশঙ্কর ‘রোবু’। তো, আমিও বললুম, ‘রোবুদা’। শঙ্করলাল বললেন, ‘রাগঅনুরাগ’ শেষ হয়েছে [সাপ্তাহিক ‘দেশ’-এ ধারাবাহিক প্রকাশিত]। অথচ বই বেরুলো না এখনো। অনেকদিন হয়ে গেছে। পাঠক জ্বালিয়ে মারছে। রোবুদা সময় পাচ্ছেন না ভূমিকা লিখতে।’ [শঙ্করলাল ভট্টাচার্যই রাগঅনুরাগ-এর অনুলেখক]। আনন্দ পাবলিশার্সের আয়োজনে [যাতায়াত, থাকা খাওয়ার সমস্ত খরচ, চারজনের] রবিশঙ্কর রাগঅনুরাগের ভূমিকা ‘বলতে’ এসেছেন। দার্জিলিঙে। শঙ্করলাল শুনবেন, লিখবেন। সাতদিনে।
রবিশঙ্করের সঙ্গে নয় বছর পরে বার্লিনে দেখা। এসেছেন বার্লিন মিউজিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজাতে। উঠেছেন হোটেল ‘এক্সিসিলর’-এ। হোটেলের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অডিটোরিয়াম। হলভর্তি শ্রোতা। রবিশঙ্কর খোশ মেজাজে। সঙ্গে কমলাশঙ্কর নেই। অন্য নারী। বাজনা শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে হোটেলে যাই দেখা করতে। বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। নিচে লাউঞ্জে অপেক্ষা করি। মিনিট কুড়ি পরে ডাক এলো। ঠিকই চিনতে পারেন, নামও মনে আছে। দেখে, আবার সেই কথা :’লিখছোটিখছো? কবে এসেছ? বিয়ে করেছ?’ অনুষ্ঠানশেষে দু’জন বান্ধবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই, মৃদু হাসেন। কোনো মন্তব্য নয়। রবিশঙ্করের সঙ্গে ওঁরা নানা পোজে ছবি তোলেন কয়েকটি।
এক বছর পরে আবার এসেছেন বার্লিনে, তখনো বার্লিন দেওয়াল ধস হয়নি। বিপ্লবের তথা ধসের আরো মাস চারেক বাকি। আমি তখন জার্মান রেডিও ডয়েচে ভেলের সঙ্গে যুক্ত। বার্লিনে, ‘স্পেশাল করসপনডেন্ট।’ ইন্টারভিউ করি রবিশঙ্করকে। সঙ্গীত বিষয়ে প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রশ্নের আগে নিজেই প্রশ্ন করেন, ‘এদেশের মিউজিক শোনো? ফিলহারমোনিকে যাও? কারায়ানের [হাবার্ট ফন কারায়ান] অনুষ্ঠান শুনেছ?_ জানি, বিশ্ববিখ্যাত বার্লিন ফিলহারমোনিক নিয়ে ওঁর অভিমান আছে। কখনো ডাকেনি। এখানে একবার না বাজালে ক্লাসিক্যাল মিউজিক জগতে কল্কে পাওয়া ভার। আলি আকবর খান দু’বার বাজিয়েছেন। জুবিন মেহতা বহুবার চেষ্টা করেছেন বার্লিন ফিলহারমোনিকে ডিরিগাল্ট [কনডাক্টর, বা পরিচালক] পদে। নিউইয়র্ক, তেলআবিব, মিউনিখ ফিলহারামোনিকে পরিচালক ছিলেন, তিনি বহুমান্য কিন্তু বার্লিন ফিলহারমোনিকে জায়গা পাননি। ওই যেমন, মসজিদের যত বড় ঈমামই হোন না কেন, মক্কায় গিয়ে হজ না করলে কেউ খাঁটি হাজি হয় না। হালের পশ্চিমা বাদকদের [ক্লাসিক্যাল মিউজিক] নিয়ে দারুণ উৎসাহী রবিশঙ্কর। সস্তোভস্কি, ক্লদে আবাদো, সিমন রাট্ল [সার], আনে জোফি মুটারসহ আরো কয়েকজনের প্রশংসায় বিগলিত। নিয়মিত শোনেন।
দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারে [২০০১], লক্ষ করি, আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই। মনমরা মনে হলো। শরীরও কাবু। ভারতীয় বাদকদের সম্পর্কে বেশি কথা বলতে নারাজ। তবে কন্যা আনুশকার প্রশংসা একটু রয়েসয়ে। আলি আকবর খান সম্পর্কে ‘কেবল বাদক_ [মিউজিশিয়ান] নন, মিউজিকের মস্ত ফিলোসফার।’ বেলায়েত খান সম্পর্কে কোনো বিশেষণ নেই, ‘বড়ো বাদক’। ব্যস। বেলায়েত খানকে নিয়ে দুটি প্রশ্ন এড়িয়ে যান। বুঝলুম, বিরক্ত। অন্নপূর্ণাকে নিয়ে প্রশ্ন নয়, কিন্তু প্রসঙ্গ ওঠে [অব দ্য রেকর্ড]। যথেষ্ট প্রশংসা। বলেন, ‘বোম্বে গেলে ওঁর বাড়িতে যাই।’ কথায় কথায় একটি মজার তথ্য শোনান। প্রথম সন্তানের নাম হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে রাখার প্রস্তাব করেছিলেন অন্নপূর্ণা। বলি, ‘রাজি হননি? আপনি তো দেখছি বেশ গোঁড়া।’_ ব্যাজার হলো মুখ।
আলি আকবর খান এবং বেলায়েত খানকেও ইন্টারভিউ করেছি। আলি আকবর যতটা ‘রোবুদা’র প্রশংসায় খোলামেলা, বেলায়েত খান রেখেঢেকে। সমালোচকও। ‘বিদেশিরা পপ ভালোবাসে, রবিশঙ্কর জানেন।’_ এই ক্যাথারসিস-এর বিস্তর মানে, বিস্তর ব্যাখ্যা। অন্নপূর্ণা বিষয়ে বেলায়েত খানের মন্তব্য : ‘সঙ্গীতে মান-অভিমান নেই। অভিমান করে রবিশঙ্করকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে কি হলো অন্নপূর্ণার? না দিলে আজ কি হতো রবিশঙ্করের? তিনি বিশ্বজয়ী। মানছি, রবিশঙ্করই আমাদের মার্গীয় সঙ্গীত বিশ্বময় পপুলার করেছেন। তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আর কিছু জিজ্ঞেস করবেন না’।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  নিবিড় বেদনা

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

দাউদ হায়দার- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...