যদি আকাশকে জিজ্ঞেস কর আজ তুমি কেন এত রুদ্র ? যদি বাতাসের কাছে জানতে চাও আজ তুমি কেন এত উন্মাতাল ? যদি প্রকৃতিকে শুধাও কিসের এত চঞ্চলতা আজ তোমার ? – সবাই বলবে, আজ বৈশাখ ! প্রকৃতির আহবানে উন্মাতাল আনন্দের অবগাহনে মাতোয়ারা পৃথিবীর সবচে গর্বিত সন্তানেরা – সাবাস – বাঙ্গালির বৈশাখ ! – নিলয় পহেলা […]
কবিতা
বাংলা কবিতা সংকলন
আমি আসছি
আকাশে তাকালাম তোমার মুখ চোখ বন্ধ করলাম তোমার মুখ বজ্রকে বধির করে তুমি আমায় ডাকছ। কচি কচি কন্ঠে দিন আর রাত্রিকে টুকরো টুকরো ক’রে কারা কাঁদছে মৃত্যুর আতঙ্কে জীবনকে জড়িয়ে ধ’রে কারা কাঁদছে তাই বজ্রকে বধির করে তুমি আমায় ডাকছ। আমি আসছি__ দুহাতে অন্ধকার ঠেলে ঠেলে আমি আসছি। সঙিন উদ্যত করেছ কে? সরাও। বাধার দেয়াল […]
যমুনাবতী
নিভন্ত এই চুল্লিতে মা একটু আগুন দে, আরেকটুকাল বেঁচেই থাকি বাঁচার আনন্দে! নোটন নোটন পায়রাগুলি খাঁচাতে বন্দী- দুয়েক মুঠো ভাত পেলে তা ওড়াতে মন দিই! হায় তোকে ভাত দেবো কী করে যে ভাত দেবো হায় হায় তোকে ভাত দিই কী দিয়ে যে ভাত দিই হায় ‘নিভন্ত এই চুল্লি তবে একটু আগুন দে, হাড়ের শিরায় শিখার […]
শ্বাস-শিক্ষা
হ্যাঁ, ঠিক এইভাবে শ্বাস নিন। আস্তে। বুক ভরে। হ্যাঁ, এক থেকে পাঁচ গুনে গুনে। শ্বাস নিন। ভাবুন জগতে যত বৃক্ষ যত সমুদ্র বাতাস সৌরকর তার সম্মিলিত শক্তি আমার ভিতরে এসে যাক। এক থেকে পাঁচ গুনে গুনে বুক খালি করে সব শ্বাস ছেড়ে দিন এইবার। বলুন, সমস্ত দূর্বলতা চলে যাক। যাক হ্যাঁ নিন, এভাবে শ্বাস, হ্যাঁ […]
বাঁশি
কিনু গোয়ালার গলি। দোতলা বাড়ির লোহার-গরাদে-দেওয়া একতলা ঘর পথের ধারেই। লোনাধরা দেয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি, মাঝে মাঝে স্যাঁতাপড়া দাগ। মার্কিন থানের মার্কা একখানা ছবি সিদ্ধিদাতা গণেশের দরজার ’পরে আঁটা। আমি ছাড়া ঘরে থাকে আর একটি জীব এক ভাড়াতেই, সেটা টিকটিকি। তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু, নেই তার অন্নের অভাব॥ বেতন পঁচিশ টাকা, সদাগরি […]
আছি
সুখে আছি, দুখে আছি, নিজস্ব বুদবুদে ডুবে আছি পোয়াতি নারীর মতো গর্তে বহু স্বপনের ভ্রুণ নিয়ে আছি সধবার নিরস্তর ভয় পাছে মুছে যায় সিঁথি-শুকজতারা সে রকমই ভয়ে-ভয়ে ঘাসের ভিতরে পোকা-মাকড়ের সঙ্গী হয়ে আছি। পাখিরা রয়েছে সঙ্গে, রুমালের পাড়ে লাল সুতো, নীল সুতো, সদীর বাঁশীর গান তারা বুনে দেয়। জঙ্গলও রয়েছে সঙ্গে, এক-শৃঙ্গ গণ্ডারও রয়েছে বাঘের […]
আজ্ঞে হ্যাঁ
সূর্য নামের ছোকরাটা বড় জ্বলতে শিখেছে, তাই না হে? আজ্ঞ হ্যাঁ। গনগণে চোখ, জ্বলজ্বলে ভূরু, উরু ভেঙে দিলে কেমন হয়? আজ্ঞ হ্যাঁ। আজকাল আর চাঁদে সে রকম রাবড়ির মতো জেল্লা নেই আজ্ঞে হ্যাঁ। টুনি বালবদের ফোলাপে ফাঁপালে প্রতিভা ছড়াবে হাজার গুণ। আজ্ঞে হ্যাঁ। নিজের লালার সরু সুতোর দিয়ে বেনারসী বোনে মাকড়সা। আজ্ঞে হ্যাঁ। আমারও তেমনি, […]
আশ্চর্য
কোমরে লাল ঘুনসি বাঁধা পোড়া বিড়ির টুকরোর মতো আমরা চতুর্দিকে ছড়ানো। কেউ মুথোঘাসের তলপেটে কেউ বুড়ো বটের গোড়ালির আড়ালে কেউ নর্দমার এটোঁ শালপাতার ডিঙিতে। নেশাখোরের মতো হাওয়া একবার দৌড়চ্ছে ডাইনে, একবার বাঁয়ে। এক জায়গায় জুটবো মন-খোলা জোৎস্নায় আড্ডা জমবে সারারাত হৈ হৈ গল্পের মাদল বাজিয়ে, তালা খুলব, যে যার খুপরির পাটে পাটে ভাঁজ করা স্মৃতি, […]
উৎকৃষ্ট মানুষ
উৎকৃষ্ট মানুষ তুমি চেয়েছিলে এই যে এঁকেছি। এই তার রক্ত-নাড়ি, এই খুলি এই তার হাড় এই দেখ ফুসফুসের চতুদিকে পেরেক, আলপিন সরু কাঁটাতার। এইখানে আত্মা ছিল গোল সূর্য, ভারমিলিয়ন ভাঙা ফুলদানি ছিল এরই মধ্যে ছিল পিকদানি পিকদানির মধ্যে ছিল পৃথিবীর কফ, থুতু, শ্লেষ্মা, শ্লেষ অপমান, হত্যা ও মরণ। উৎকৃষ্ট মানুষ তুমি খুঁজেছিলে এই যে এঁকেছি! […]
একটি উজ্জ্বল ষাঁড়
একটি উজ্জ্বল ষাঁড় লিফটে চেপে উর্ধ্বে উঠে যান, তখনই বন্দনা গান গেয়ে ওঠে, একপাল কৃতার্থ ছাগল। জুলিয়াস সীজারের মতো তিনি, মিশরের ফারাও এর মতো যেন এই শতাব্দীর তরুণ-বয়সী এক নবতম আলোকজান্ডার পাতলা ক্রীমের মতো বুদ্ধের মহন হাসি মুখে চেঙ্গিস খানের মতো চোখে বহুদূর স্বপ্নের রক্তাক্ত সিড়ি, যেন জেনে দিয়েছেন তিনি ভূ-মধ্যসাগর এসে পায়ে পড়ে হবে […]
