দুঃসাহসে কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ালাম শেষে
এখন আমার যাত্রার পালা নিরুদ্দেশে
পেছনে থাকুক পরিচিত সব গাছের সারি
আমি চলে যাব সব কিছু ছাড়ি নিজের বাড়ি।
জানি না কোথায় ছিল ঘরবাড়ি কী ছিল সেখানে?
তবু শুধু কেন কিসের ইঙ্গিত আমাকে টানে।
আমাকে কেবলই ডাক দেয় কে যে! নাই তার ভাষা
কেবলই ইশারায় ডাক দিয়ে বলে এসো হে কবি।
আমি ডাক শুনে বাঁক ঘুরে দেখি সামনে নদী
চলে গেছে দূরে আরো বহুদূরে যেথা নিরবধি বইছে
সময় স্রোতের ধারায়। সব কিছু ছেড়ে আমি দাঁড়ালাম
একটি পুরনো গাছের ছায়ায়- কিসের মায়ায় বয়ে যায়
হাওয়া, দুচোখে আমার শুধু ঘুম পায়।
আমি স্বপ্নের মাঝেই রয়েছি তবু কেন ঘুম আমায় টানে
কাছে এসে বলে নিঝুম নিঝুম।
Related Articles
ক্যাকটাস
২০. ক্যাকটাস দারুন আলাদা একা অভিমানী এই ক্যাকটাস। যেন কোন বোবা রমণীর সখী ছিলো দীর্ঘকাল কিংবা আজন্ম শুধু দেখেছে আকাল এরকম ভাব-ভঙ্গি তার। ধ্রুপদী আঙিনা ব্যাপী কন্টকিত হাহাকার আর অবহেলা, যেন সে উদ্ভিদ নয় তাকালেই মনে হয় বিরান কারবালা। হয় তো কেটেছে তার মায়া ও মমতাহীন সজল শৈশব অথবা গিয়েছে দিন এলোমেলো পরিচর্যাহীন এক রঙিন […]
ফিরে পেতে চাই
দেশহীন মানুষের আর্তি আমি প্রিয় বন্ধু আজিজের কণ্ঠে শুনে মোহ্যমান— জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক দপ্তরের দায়িত্বে ছিল সে; সংবেদনশীল বন্ধু আজিজের আর্দ্রকণ্ঠ আজও আমি শুনতে পাই— ‘একজন মানুষের দেশ থাকতে হয়;’ আনপড় এই আমিও বুঝতে পারি—‘দেশ’ কতটা দরকার, একজন মানুষের! প্রণম্যা আমার, আমি চাই পিতার স্বপ্নের দেশ— আমার জীবদ্দশায় সেই বাঙলাটি আমি চাই; চর্যাপদের বাঙলা, চণ্ডীদাসের বাঙলা, […]
যেভাবে সে এলো
৪৭. যেভাবে সে এলো অসম্ভব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছিলো, সামনে যা পেলো খেলো, যেন মন্বন্তরে কেটে যাওয়া রজতজয়ন্তী শেষে এসেছে সে, সবকিছু উপাদেয় মুখে। গাভিন ক্ষেতের সব ঘ্রাণ টেনে নিলো, করুণ কার্নিশ ঘেঁষে বেড়ে ওঠা লকলকে লতাটিও খেলো, দুধাল গাভীটি খেলো খেলো সব জলের কলস। শানে বাধা ঘাট খেলো সবুজের বনভূমি খেলো উদাস আকাশ খেলো […]

