কিছু কিছু দূর খুব কাছাকাছি

মনে হলো এইমাত্র তোমাকে স্পর্শ করেছি এই ঠোঁটে,
বানের জলের মতো ধুয়ে দিয়েছি, পুরাতন পলিমাটি
সরে গেছে, নতুন চর পড়ার আগেই বুনে দেবো বীজ,
তোমার শরীর থেকে মনে হলো বেরিয়ে এলো দ্রাক্ষারস।

আমি তোমাকে ছুঁইনি তবুও মনে হলো ছুঁয়েছি শরীর,
শরীর কি কথা বলে, নইলে কেন সে অবাক করে দিয়ে
খুলে ফেলল ব্লাউজের হুক? তারপর পাকা ফলের
মতো গড়াতে গড়াতে দিয়ে ঠেকল বিছানা-বালিশে?

মনে হলো এইমাত্র তোমাকে আলিঙ্গন থেকে ছেড়ে দিলাম,
তুমি আমাকে জাপটে ধরেছিলে পিচ্ছিল অজগরের মতো
শরীরের ঘর্ষণে ঘরে আগুন জ্বলেছে, পুড়ে গেছে জঙ্গল-ঘর,
ক্লান্ত হাত পড়ে ছিল গভীর অরণ্যে নরম ঘাসের ওপর।

আমি চোখের ভেতর চোখ ডুবিয়ে তোমাকে ইতিহাস পড়ালাম,
মনে হলো তুমি সবকিছু বুঝে গেলে মেধাবী বালিকার মতো,
কিন্তু আসলে আমি ইতিহাস জানি না, পড়েছি শরীরী-ভূগোল,
শীতল পর্বত থেকে ভাসতে ভাসতে আমি পৌঁছে গেলাম উষ্ণ সাগরে।

আসলে আমরা দুজন অনেক দূরে,
যদিও কিছু কিছু দূর খুব কাছাকাছি,
মনে হলেই তোমাকে উষ্ণতায় ছুঁতে পারি,
অন্ধকারে খেলতে পারি কানামাছি।

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  স্মৃতির মেঘলাভোরে
শাহবুদ্দীন নাগরী- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...