দুঃসাহসে কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ালাম শেষে
এখন আমার যাত্রার পালা নিরুদ্দেশে
পেছনে থাকুক পরিচিত সব গাছের সারি
আমি চলে যাব সব কিছু ছাড়ি নিজের বাড়ি।
জানি না কোথায় ছিল ঘরবাড়ি কী ছিল সেখানে?
তবু শুধু কেন কিসের ইঙ্গিত আমাকে টানে।
আমাকে কেবলই ডাক দেয় কে যে! নাই তার ভাষা
কেবলই ইশারায় ডাক দিয়ে বলে এসো হে কবি।
আমি ডাক শুনে বাঁক ঘুরে দেখি সামনে নদী
চলে গেছে দূরে আরো বহুদূরে যেথা নিরবধি বইছে
সময় স্রোতের ধারায়। সব কিছু ছেড়ে আমি দাঁড়ালাম
একটি পুরনো গাছের ছায়ায়- কিসের মায়ায় বয়ে যায়
হাওয়া, দুচোখে আমার শুধু ঘুম পায়।
আমি স্বপ্নের মাঝেই রয়েছি তবু কেন ঘুম আমায় টানে
কাছে এসে বলে নিঝুম নিঝুম।
Related Articles
তোমার দু’চোখ শুধু জেগে থাকে
তোমার দু’চোখ শুধু জেগে থাকে, অন্য কিছু নয়— নিভে গেছে সকল প্রদীপ, সভ্যতার সূর্যাস্তের পর চারদিক বড়বেশি শুনশান—উড়ে গেছে ‘মূল্যবোধ’-নাম্নী সংরক্ষিত গ্রন্থের সকল পাতা— পৃথিবীর মূল্যবান গ্রন্থগুলি সফেদ কাগজ ছাড়া আর কিছু নয়—বন্ধুত্বের সর্বশেষ রজ্জু ছিন্নভিন্ন, বিশ্বস্ত ব্যাংকের ভল্ট থেকে সঙ্গোপনে উধাও হয়েছে শেষ সোনাদানা, কংক্রিটের শক্ত বাড়িগুলি লন্ডভন্ড, মুখ থুবড়ে প’ড়ে আছে সব পথের […]
ম্যান্ডেলা! ম্যান্ডেলা!
আফ্রিকার জেব্রার পাল খুরে খুরে দুন্দুভি দুবদাব তুলে ঝলসিত সাভানার প্রান্তর দিয়ে ছুটে আসছে, চিরে যাচ্ছে শতাব্দীর কালো নীরবতা, মানবের প্রথম ধনুক ওই দিগন্ত, তাকে জ্যা-নিবদ্ধ করে নিনাদ উঠছে ওই—জেব্রাপালের পায়ে দুবদাব— ম্যান্ডেলা! ম্যান্ডেলা! আর সেই একদিন, আমার এ রক্তাক্ত ব-দ্বীপের ওপর দিয়ে স্রোতের মতো বহে যায় যে বজ্রকণ্ঠ— আজও আমাকে জাগ্রত করে রাখে। বলীবর্দের […]
মাথিনের বৃষ্টি
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে, ঘরে ঘরে, দরিয়ানগরে। বৃষ্টি পড়ে কিয়াঙে, মন্দিরে আর রোয়াং শহরে । বৃষ্টি পড়ে নারকেল জিনজিরা হয়ে জলের কবরে । নাফের হূদয় থেকে রক্তকণা উঠে আসে জলকণা হয়ে। জাতিযুবকের দা’য়ে ঐতিহ্যসম্মত ওই জাতিরক্ত যায় বয়ে বয়ে। ধীরাজ দেখে না কিছু, মাথিন-বর্ষণে ভেজে দিনরাত, নিবিড়-নির্ভয়ে। আকাশের বুকে দেখো হাজার হাজার বোঁটা যায় ছিঁড়ে […]

