আমি বড় হয়ে গেছি, আর কোনোদিন নোংরা হবো না৷
মা, আমার পিঠ থেকে ধুলো ঝেড়ে দাও,
আমি পরিচ্ছনড়ব হতে চাই গাত্রচর্মে৷
তেত্রিশ বছরের ধুলোয় লুটানো দেহখানি আজ
তুলে এনেছি তোমার কাছে৷
তুমি এর গালে চুমু খাও, এর বাহুতে চিমটি কাটো,
উষ্কখুষ্ক চুলের ভিতরে দ্রত বেগে আঙুল চালাতে গিয়ে
যদি ব্যথা দাও, দাও: আমি কিচ্ছুটি বলবো না৷
খাঁটি সরিষার দু’ফোটা ঝাঁঝালো তেল দিতে পারো নাকে৷
বাড়ির পেছনের পুকুরের জল, তা যত ঠান্ডাই হোক,
তুমি যদি চাও আমি সে জলেই দেবো তিন ডুব৷
তারপর সড়বান শেষ হলে বসবো মাঘের রোকণুরে পিঠ রেখে,
আমি জানি তুমি খুব খুশি হবে তাতে৷
বহু পুণ্যবলে আজ এই নগড়ব উদাসীন কবি,
হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়া: এই সূর্য ডুবে গেলে পর,
আমি তোর ধুলোমাখা পায়ে চুমু খাবো, মা৷
Related Articles
ছাই
ভালবাসা শুধু কাব্য খাতায় দু’ফোঁটা নিংড়ানো কালি ভালবাসা মানে কিছুই না, দুই শিশিরের ভেলকি আঁকা সবুজ পাতা মানে ভালবাসা নয় ভালবাসা বলতে কিছু নেই ।। গভীর আশ্রয়ে ভালবাসা নেই বারান্দার গ্রিলে মাথা রেখে কিশোরীর কান্না ভালবাসা নয়, ওটা বেদনা, প্রতিক্ষার যন্ত্রণা ! ঘাসফুলের ওপর জল ছোঁয়ানো উষ্ণতা মানে ভালবাসা নয় ভালবাসা বলতে কিছু নেই ।। […]
বসন্তচিত্র
একজন চিত্রক্রেতার সবিনয় অনুরোধে আমি আঁকতে বসেছি একটি আমগাছের ছবি— যে তার দেহচ্ছায়া রামসুন্দর পাঠাগারের সবুজ টিনের চালের ওপরে বিছিয়ে দিয়েছে। গাছের সবুজ পাতারা সবইপ্রায় ঢাকা পড়েছে হালকা হলুদ রঙের অজস্র বোলের আড়ালে। এত আমের বোল আমি আমার জন্মে দেখিনি। একটা মদির-গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। ফুলে ফুলে, ডালে ডালে, পল্লবে পল্লবে মৌমাছি ও লক্ষ-কোটি কীট-পতঙ্গের […]
দ্বিতীয় আগমন
বড়ো থেকে বড়ো বৃত্তে পাক খেতে খেতে বাজ শুনতে পায় না বাজের প্রভুকে; সবকিছু ধ’সে পড়ে; কেন্দ্র ধ’রে রাখতে পারে না; নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্ব জুড়ে, ছাড়া পায় রক্তময়লা প্রবাহ, আর চারদিকে আপ্লাবিত হয় নিষ্পাপ উৎসব; শ্রেষ্ঠরা সমস্ত বিশ্বাসরিক্ত, যখন নষ্টরা পরিপূর্ণ সংরক্ত উৎসাহে। নিশ্চয়ই কোনো প্রত্যাদেশ এখন আসন্ন; নিশ্চয়ই দ্বিতীয় আগমন এখন আসন্ন; […]

