আমি বড় হয়ে গেছি, আর কোনোদিন নোংরা হবো না৷
মা, আমার পিঠ থেকে ধুলো ঝেড়ে দাও,
আমি পরিচ্ছনড়ব হতে চাই গাত্রচর্মে৷
তেত্রিশ বছরের ধুলোয় লুটানো দেহখানি আজ
তুলে এনেছি তোমার কাছে৷
তুমি এর গালে চুমু খাও, এর বাহুতে চিমটি কাটো,
উষ্কখুষ্ক চুলের ভিতরে দ্রত বেগে আঙুল চালাতে গিয়ে
যদি ব্যথা দাও, দাও: আমি কিচ্ছুটি বলবো না৷
খাঁটি সরিষার দু’ফোটা ঝাঁঝালো তেল দিতে পারো নাকে৷
বাড়ির পেছনের পুকুরের জল, তা যত ঠান্ডাই হোক,
তুমি যদি চাও আমি সে জলেই দেবো তিন ডুব৷
তারপর সড়বান শেষ হলে বসবো মাঘের রোকণুরে পিঠ রেখে,
আমি জানি তুমি খুব খুশি হবে তাতে৷
বহু পুণ্যবলে আজ এই নগড়ব উদাসীন কবি,
হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়া: এই সূর্য ডুবে গেলে পর,
আমি তোর ধুলোমাখা পায়ে চুমু খাবো, মা৷
Related Articles
শরৎ
শরৎ হচ্ছে বর্ষার দুঃখ, মেঘের দীর্ঘশ্বাস বৃষ্টি ফুরিয়ে গেছে তার, সে খুব গরিব, তার শুভ্রতার মধ্যে ধূসরতার গন্ধ হলুদ পাতার ঝরে পড়া; শরৎ বড় একা একা, শান্ত নিসঃঙ্গ সে শুধু স্থির পুকুরের মতো নিঃশব্দে বসে থকে, তার শুষ্ক মুখে জলের কোন কারুকাজ নেই বর্ষণের লাবণ্য নেই। এই শরতের জন্য মঝে মাঝে আমার বেশ মন খরাপ […]
বাইরে আনো নিজেকে
ভিরু, চলৎশক্তিহীন যে নারীর রূপ লেপটে আছো। সে তুমি নও। যে ব্যস্ত, অফিস ফেরত ক্লান্ত, রান্নার আঁচে তপ্ত এলিয়ে পরো বিছানায়; এ তুমি তো সে তুমি নও। একদিন তন্বী হরিণীর মতো দাপিয়ে বেড়াতে ক্লাসরুম। ঝোরার মতো ছলকে বেরত তোমার হাসি। অন্যায়ের প্রতিবাদে আগুনের হল্কা ছুটত তোমার শব্দে। সেই তোমাকে চেয়েছিলাম পাগলপারা আমি। এ তুমি কিছুতেই […]
আমি একটুখানি দাঁড়াব
আমি একটুখানি দাঁড়াব এবং দাঁড়িয়ে চলে যাব; শুধু একটু থেমেই আমি আবার এগিয়ে যাব; না, আমি থেকে যেতে আসিনি; এ আমার গন্তব্য নয়; আমি এই একটুখানি দাঁড়িয়েই এখান থেকে চলে যাব। আমি চলে যাব তোমাদের এই শহরের ভেতর দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি এর মার্চপাস্টের যে সমীকরণ এবং এর হেলিকপ্টারের যে চংক্রমণ, তার তল দিয়ে তড়িঘড়ি; আমি […]

