বড় দীর্ঘতম বৃক্ষে ব’সে আছো, দেবতা আমার |
শিকড়ে, বিহ্বল প্রান্তে, কান পেতে আছি নিশিদিন
সম্ভ্রমের মূল কোথা এ-মাটির নিথর বিস্তারে ;
সেইখানে শুয়ে আছি মনে পড়ে, তার মনে পড়ে ?
যেখানে শুইয়ে গেলে ধিরে-ধিরে কত দূরে আজ !
স্মারক বাগানখনি গাছ হ’য়ে আমার ভিতরে
শুধু স্বপ্ন দীর্ঘকায়, তার ফুল-পাতা-ফল-শাখা
তোমাদের খোঁডা-বাসা শূন্য ক’রে পলাতক হলো |
আপনারে খুঁজি আর খুঁজি তারে সঞ্চারে আমার
পুরানো স্পর্শের মগ্ন কোথা আছো ? বুঝি ভুলে গেলে |
নীলিমা ঔদাস্তে মনে পড়ে নাকো গোষ্ঠের সংকেত ;
দেবতা সুদূর বৃক্ষে, পাবো প্রেম কান পেতে রেখে |
Related Articles
পশম-উৎসবের আমন্ত্রণলিপি
পশমে ভরে যাচ্ছে চারপাশ, হাওয়ায়-হাওয়ায় বাজছে পশমের রণদামামা, পশম তুমি কোথায়? পশমের নামে ঝ’রে যাচ্ছে অজস্র বাদামপাতা শান-বাঁধা পথের ওপর টুপটাপ শব্দের মঞ্জুরি। শীতার্ত এই রাতে পশম তুমি আমাকে তোমার নাগালে রেখো; ওই তো দূরে কোথাও শুনতে পাচ্ছি ক্রমাগত একনাগাড়ে ডেকে চলেছে হাঁসেরা_ বাবুদের বাগানের ঝিলে, আমি বাইরে বেরুতে পারছি না কতোদিন_ আমাকে তুমি নিয়ে […]
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়। মমতা নামের প্রুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড় ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে শিউলিশৈশবে ‘পাখী সব করে রব’ ব’লে মদনমোহন তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি, অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন, ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই ফোটে, জোটে অলি […]
অনন্ত অরুন্ধতী তুমি, অন্ধকারে
পৃথিবীর সর্বত্র সেই একই অন্ধকার, যে অন্ধকারে তোমাকে দেখি না অনন্ত অরুন্ধতী তুমি, অন্ধকারে বহুদিন পড়ে আছি বেদনাহত। মানুষের মনে এক অন্তহীন অন্ধকার, অন্ধকারের ব্যথা ও বেদনায় সমস্ত আকাশ যখন নীল হয়ে ওঠে, সূর্যাস্তের পর আরো বেশি ঘন হয় অনন্ত অরুন্ধতী তুমি, অন্ধকারে জেগে ওঠো। সমস্ত দুঃখের মধ্যে, সমস্ত শিল্পের মধ্যে পুনরায় যখন পল্লবিত হও […]

