রঙীন রুমালে চোখ দুটো বাঁধা
নিজের সঙ্গে নিজের অষ্টপ্রহর- কানামাছি খেলা
ভারী চমৎকার ধাঁধা।
যাকে ছোঁবার তাকে না ছুঁয়ে
আকাশ ধরতে হাত বাড়িয়ে আমি ধুলো মাটির ভূয়ে।
হাত বাড়ালে হাতে জলের বদলে শামুক
অথচ ভেতরটা পরাগসুদ্ধ ফুলের জন্যে আপাদমস্তক কামুক।
সিদুর রঙের কিছু দেখলেই মন উসখুস, ইচ্ছেয় আগুন
বিশ্বাসের বাকলে সত্যিই এল ফাল্গুন?
কাছে যাই, কাছে গেলেই সব অদলবদল, যথেচ্ছাচার কান্ড
রক্তপাতের শব্দে শিউরে ওঠে গাছপালা নদীনালাময় দেশ
চেনা ব্রক্ষ্মণ্ড।
তবু তো ছুতে হবে কিছু, কাউকে-না কাউকে
পুকুরপাড়ের নিমগাছ কি সাগরপারের ঝাউকে।
পা নিয়েই সমস্যা, কোথায় রাখি, হয় পাঁক
নয় অনিশ্চিতের বালি
ভিক্ষের ঝুলিটা তবু যা হোক ভরছে নানারকম ভালো এবং মন্দে
সমৃদ্ধ কাঙালী।
মনে হচ্ছে কোথাও নেই
অথচ আমার চেয়ার টেবিলে আমি ঠিকই আছি
রঙীন রুমালে চোখ দুটো বাঁধা
নিজের সঙ্গে পাওয়া না-পাওয়ার কানামাছি।
Related Articles
আমার এখন কী চাই
আমার এখন কী চাই, মুঠো মুঠো সোনার মোহর, মেঘমহলে ছিমছাম বাড়ি, আলিঙ্গন, মাতাল বসন্তকাল? না, এসব কিছুই আমার চাই না। চাওয়া বলতে শুধু একখানা পর্ণকুটিরের মতো তুমি। কিন্তু তুমি কে? কী নাম, কী স্থিতি, কী অবয়ব? যে নামেই হও, নক্ষত্রমালা বৃষ্টিজল আমি কাউকেই চাই না, সত্য হচ্ছে কোনো নামই চাই না আমি। আমি যাকে চাই—সে […]
গোলামের গর্ভধারিণী
আপনাকে দেখিনি আমি; তবে আপনি আমার অচেনা নন পুরোপুরি, কারণ বাঙলার মায়েদের আমি মোটামুটি চিনি, জানি। হয়তো গরিব পিতার ঘরে বেড়ে উঠেছেন দুঃক্ষিণী বালিকারূপে ধীরেধীরে; দুঃক্ষের সংসারে কুমড়ো ফুলের মতো ফুটেছেন ঢলঢল, এবং সন্ত্রস্ত ক’রে তুলেছেন মাতা ও পিতাকে। গরিবের ঘরে ফুল ভয়েরই কারণ। তারপর একদিন ভাঙা পালকিতে চেপে দিয়েছেন পাড়ি, আর এসে উঠেছেন আরেক […]
আজি এ বসন্তে
বানর ছিলাম। সর্ব গাছে গাছে লম্ফে চড়িতাম কী অবলীলায় বসন্তে বসন্তকালে কত স্নেহভরে ভাই পুষ্প ‘পরে বুলাইতাম ল্যাজ স্বীয় ল্যাজখানি! তবু কী নিমিত্ত ধোঁকা দিল হে আমারে ভগবান উলটো বুঝলি রাম! তোমার সেবক আমি, দেখি বাপা একবার তোর মুখখানি। তুলারাম, খেলারাম, আজি এ বসন্তে আমি গেলাম গেলাম কিন্তু কাঁহা যাব ভাই? কাজে গেলে ডর লাগে, […]

