রঙীন রুমালে চোখ দুটো বাঁধা
নিজের সঙ্গে নিজের অষ্টপ্রহর- কানামাছি খেলা
ভারী চমৎকার ধাঁধা।
যাকে ছোঁবার তাকে না ছুঁয়ে
আকাশ ধরতে হাত বাড়িয়ে আমি ধুলো মাটির ভূয়ে।
হাত বাড়ালে হাতে জলের বদলে শামুক
অথচ ভেতরটা পরাগসুদ্ধ ফুলের জন্যে আপাদমস্তক কামুক।
সিদুর রঙের কিছু দেখলেই মন উসখুস, ইচ্ছেয় আগুন
বিশ্বাসের বাকলে সত্যিই এল ফাল্গুন?
কাছে যাই, কাছে গেলেই সব অদলবদল, যথেচ্ছাচার কান্ড
রক্তপাতের শব্দে শিউরে ওঠে গাছপালা নদীনালাময় দেশ
চেনা ব্রক্ষ্মণ্ড।
তবু তো ছুতে হবে কিছু, কাউকে-না কাউকে
পুকুরপাড়ের নিমগাছ কি সাগরপারের ঝাউকে।
পা নিয়েই সমস্যা, কোথায় রাখি, হয় পাঁক
নয় অনিশ্চিতের বালি
ভিক্ষের ঝুলিটা তবু যা হোক ভরছে নানারকম ভালো এবং মন্দে
সমৃদ্ধ কাঙালী।
মনে হচ্ছে কোথাও নেই
অথচ আমার চেয়ার টেবিলে আমি ঠিকই আছি
রঙীন রুমালে চোখ দুটো বাঁধা
নিজের সঙ্গে পাওয়া না-পাওয়ার কানামাছি।
Related Articles
বনর্মমর
সেই পথ দিয়ে ফিরে যাওয়া পড়ে আছে মিহিন কাচের মতো জ্যোৎস্না শুকনো পাতার শব্দ এমন নিঃসঙ্গ সেইসব পাতা ভেঙে ভেঙে ভেঙে ভেঙে ভেঙে চলে যেতে যেতে যেতে যেতে যেতে বাতাসের স্পর্শ যেন কার যেন কার যেন কার যেন কার? মনেও পড়ে না ঠিক যেন কার অঙ্গুলি এই মুখে, রুক্ষ মুখে, আমার চিবুকে, এই কর্কম চিবুকে […]
চার অন্ধ
শান্তিনগরের মোড়ে এসে চার অন্ধ গায়ে গায়ে ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। ওদের শরীর দেখে শরীরের রূপ, ওদের হৃদয় পড়ে হৃদয়ের ভাষা। সামনে পেছনে আর জলে-স্থলে আকাশে বাতাসে ওরা ছড়িয়েছে স্নায়ুর গহিনে ডালপালা; ওদের দেখার ভঙ্গি সর্ববস্তুনাশা; সূর্য আর নক্ষত্রের আলো নয়, ওদের দেহে ও মনে ক্ষিপ্রতর আলো বিচ্ছুরিত হতে হতে সাত আসমান পার হয়ে আরো দূরে যায়; […]
কেডা রে
বাড়ি| গাড়ি| অঢেল টাকা | প্রাচুর্য আজ দিয়েছে ঢাকা | সাবেকের সেই দৈন্য | স্বয়ং যেতে হয় না জেলে | ফেললে কড়ি বাজারে মেলে লড়াই করার সৈন্য | দল পাকিয়ে ছেলেবুড়োয় গাছের খায়, তলার কুড়োয় | ওদের মাফপ সাতখুন | বেঁচে থাকুক সর্বহারা | যমের বাড়ি পাঠাও, যারা জোঁকের মুখে দেয় নুন |

