কবিতা

চার অন্ধ

শান্তিনগরের মোড়ে এসে চার অন্ধ গায়ে গায়ে ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে।
ওদের শরীর দেখে শরীরের রূপ, ওদের হৃদয় পড়ে হৃদয়ের ভাষা।
সামনে পেছনে আর জলে-স্থলে আকাশে বাতাসে ওরা ছড়িয়েছে
স্নায়ুর গহিনে ডালপালা; ওদের দেখার ভঙ্গি সর্ববস্তুনাশা;

সূর্য আর নক্ষত্রের আলো নয়, ওদের দেহে ও মনে ক্ষিপ্রতর আলো
বিচ্ছুরিত হতে হতে সাত আসমান পার হয়ে আরো দূরে যায়;
শাদা কাফনের অনন্ত অনঙ্গ জামা, ওদের পোশাক নয় খুব জমকালো;
ওরা দেখে, ওদের সকল পাশে বস্তুময় জীবনের আত্মা তড়পায়।

চার অন্ধ গায়ে গায়ে ঘেঁষে; সাধ্যমত মানুষের সঙ্গে তারা মেশে;
মানুষ ওদের দেখে, ওদের গহ্বরজুড়ে অভ্যন্তরে কিছুই দেখে না;
ওরাও মানুষ দেখে; আর দেখে, বিপরীত কত শত ব্যক্তির মুখোশ এসে
একক ব্যক্তিকে করে বহুরূপী; ওরা শেখে, এই পাঠ মানুষ শেখে না।

দুইজোড়া অন্ধ এসে চক্ষ্মুষ্মানদের কাছে ভিক্ষা চায়, দুহাত বাড়ায়
করুণাধারায় ভেসে ওদের দেহওমন অকস্মাৎ ব্রহ্মাণ্ডের চু হয়ে যায়।

মুহম্মদ নূরুল হুদা
মুহম্মদ নূরুল হুদা
মোহাম্মদ নুরুল হুদা বাংলাদেশের সত্তর দশকের একজন আধুনিক কবি , একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।