এক যাতনায় দুজনেই ব্যাথী
আমি দেবদাস তুমি পার্বতী।
কি ব্যথা জানি না বুকে বাজে,
তাই রোদে জলে ভিজে খুঁজি আশ্রয়
কোথায় আবাস,
তুমি পার্বতী আমি দেবদাস।
ঘুরি একা একা আমি গলিত শহরে,
কেউ সুখে থাকে এঘরে ওঘরে।
কেউ ভালবেসে চিরকাল দুঃখী
কেউ দেবদাস ভবঘুরে সুখী!
এক যাতনায় দুজনেই ব্যাথী
আমি দেবদাস তুমি পার্বতী
দাউদ হায়দার
একজন বাংলাদেশী বাঙ্গালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক, যিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে দেশ থেকে নির্বাসনের পর বর্তমানে জার্মানীতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি বর্তমানে একজন ব্রডকাস্টিং সাংবাদিক।তিনি একজন আধুনিক কবি যিনি সত্তর দশকের কবি হিসাবে চিহ্নিত। তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যের নাম "জন্মই আমার আজন্ম পাপ"।
== কর্মজীবন ==
সত্তর দশকের শুরুর দিকে দাউদ হায়দার দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন সোসাইটি ফর পোয়েট্রি দাউদ হায়দারের কোন এক কবিতাকে “দ্যা বেস্ট পোয়েম অব এশিয়া” সম্মানে ভুষিত করেছিল। সংবাদের সাহিত্যপাতায় 'কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়' নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। ধারণা করা হয়ে থাকে, তিনি ঐ কবিতাতে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), যিশুখ্রীষ্ট এবংগৌতম বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি ছিল যা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। তাঁর ''সংস্ অব ডেস্পায়ার'' বইতে এই কবিতাটি সঙ্কলিত আছে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিবাদ শুরু করে।ঢাকার এক কলেজ-শিক্ষক ঢাকার একটি আদালতে এই ঘটনায় দাউদ হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।
== দেশত্যাগ ==
তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার দাউদ হায়দারকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশ সরকার তখন চায়নি আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম সরকারদের সাহায্য হারাতে। ১৯৭৩ সালে কবিকে নিরাপত্তামূলক কাস্টডিতে নেয়া হয়। ১৯৭৪ এর ২০ মে সন্ধ্যায় তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ২১শে মে সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ বিমানের একটা রেগুলার ফ্লাইটে করে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না।
তাঁর কাছে সে সময় ছিল মাত্র ৬০ পয়সা এবং কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগ ব্যাগে ছিল কবিতার বই, দু'জোড়া শার্ট, প্যান্ট, স্লিপার আর টুথব্রাশ। কবির ভাষায়--আমার কোন উপায় ছিল না। মৌলবাদীরা আমাকে মেরেই ফেলত। সরকারও হয়ত আমার মৃত্যু কামনা করছিল।
== জার্মানীতে ==
জার্মানীর নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গুন্টারগ্রাসের সহযোগিতায় ২২ শে জুলাই ১৯৮৭ সালে তিনি জার্মানীর বার্লিন শহরে যান এবং তারপর থেকে সেখানেই আছেন। উল্লেখ্য তিনি বার্লিন যাত্রায় পাসপোর্টের পরিবর্তে জাতিসংঘের বিশেষ ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করেছেন। এ ব্যাপারে তখন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় কর্মরত শামসুল বারী তাঁকে অনেক সাহায্য করেন। দাউদ হায়দার পরে এই জাতিসংঘের ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করে বহু দেশ ঘুরেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জার্মানীতে সাংবাদিক হিসেবে চাকুরী শুরু করেন।
তিনি প্রায় ৩০টির মতো বই লিখেছেন জার্মান, হিন্দি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জাপানিজ ও স্প্যানিশ ভাষায়।
Related Articles
ঠিকানা
নিঝুম দুপুরে মন বলে চল চলে যাই দুরে — পাখিরা যেখানে উড়ে যায় খুলে যায় যেখানে গভীর তত্ত্ব !! নীরব আকাশ ব্যস্ত ধরা শুধু রোদ্দুর আর পাতা ঝরা রোদের ঝিকিমিকি পাখিদের কিল্ কিলি সেই কবিতা আর গান — চলে যায় মন– স্বপ্নের ঘোরে– সময়ের স্রোতে ভেসে চলে কত রঙ্গে রাঙ্গা স্বপ্ন; রেখে যায় শুধু স্মৃতি — আর শুধুই […]
বিস্মৃত নায়ক
না হয় ফিরিয়ে দেবে শূণ্য হাতে, না হয় চিনবে না; জনপ্রিয় উপন্যাসে সেই ব্যর্থ বিরহী নায়ক ছড়াবো পথের পাশে স্মৃতি-ম্লান ছিন্ন কুরুবক। ফিরে যাব অন্ধকারে, অন্ধকারে কেউ জানবে না। সবাই ভেবেছে বুঝি, সকলেই জেনেছে আমি মৃত, এখন নতুন গল্প, নতুন প্রেমিক ভালবাসে; পঁচিশ বছর আগে যার কথা চোখে জল আসে আমি সেই স্তব্ধ লোক নিজেকে […]
পাওয়া
অন্ধকারে তোমার হাত ছুঁয়ে যা পেয়েছি, সেইটুকুই তো পাওয়া যেন হঠাৎ নদীর প্রান্তে এসে এক আঁজলা জল মাথায় ছুঁইয়ে যাওয়া।

