অল্প লইয়া থাকি, তাই মোর যাহা যায় তাহা যায়।
কণাটুকু যদি হারায় তা লয়ে প্রাণ করে “হায় হায়’ ॥
নদীতটসম কেবলই বৃথাই প্রবাহ আঁকড়ি রাখিবারে চাই,
একে একে বুকে আঘাত করিয়া ঢেউগুলি কোথা ধায় ॥
যাহা যায় আর যাহা-কিছু থাকে সব যদি দিই সঁপিয়া তোমাকে
তবে নাহি ক্ষয়, সবই জেগে রয় তব মহা মহিমায়।
তোমাতে রয়েছে কত শশী ভানু, হারায় না কভু অণু পরমাণু,
আমারই ক্ষুদ্র হারাধনগুলি রবে না কি তব পায় ॥
Related Articles
কোন্ খেলা যে খেলব কখন্
কোন্ খেলা যে খেলব কখন্ ভাবি বসে সেই কথাটাই– তোমার আপন খেলার সাথি করো, তা হলে আর ভাবনা তো নাই ॥ শিশির-ভেজা সকালবেলা আজ কি তোমার ছুটির খেলা– বর্ষণহীন মেঘের মেলা তার সনে মোর মনকে ভাসাই ॥ তোমার নিঠুর খেলা খেলবে যে দিন বাজবে সে দিন ভীষণ ভেরী– ঘনাবে মেঘ, আঁধার হবে, কাঁদবে হাওয়া আকাশ […]
আমরা এমনই এসে ভেসে যাই
আমরা এমনই এসে ভেসে যাই – আলোর মতন, হাসির মতন, কুসুমগন্ধরাশির মতন, হাওয়ার মতন, নেশার মতন ঢেউয়ের মতো ভেসে যাই। আমরা অরুণ-কনক কিরণে চড়িয়া নামি; আমরা সান্ধ্য রবির কিরণে অস্তগামী; আমরা শরৎ ইন্দ্রধনুর বরণে জ্যোৎস্নার মতো অলস চরণে, চপলার মতো চকিত চমকে চাহিয়া, ক্ষণিক হেসে যাই। আমরা স্নিগ্ধ, কান্ড, শান্তি-সুপ্তিভরা আমরা আসি বটে, তবু কাহারে […]
তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা
তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা, এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা। যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো, আকুল নয়নজলে ঢালো গো কিরণধারা ॥ তব মুখ সদা মনে জাগিতেছে সংগোপনে, তিলেক অন্তর হলে না হেরি কূল-কিনারা। কখনো বিপথে যদি ভ্রমিতে চাহে এ হৃদি অমনি ও মুখ হেরি শরমে সে হয় সারা।

