-বৃক্ষের বল্কল দেখে মনে হয় যেন আমাদের
কথোপকথনগুলো যাতে না হারায়
আশ্চর্য হরফে লিখে রেখেছে উল্কির মতো নিজেদের গায়।
পৃথিবীর বৃক্ষগুলো মানুষের গোপনীয়তম
সমস্ত সংবাদ জানে,এমনকি তোমাকে যা কখনো বলিনি
হৃদয়ের সেই সব তূর্ষনাদও আর্তনাদও জানে।
-নভোমন্ডলের দিকে চেয়ে থেকে ঠিক এরকমই
ভেবেছি আমিও। কোন গোপন আলমারী ঘেঁটে-ঘুঁটে
তোমাকে যে-সব চিঠি লিখেছি,যা কখনো লিখিনি
নক্ষত্র-অক্ষরে যেন ছাপিয়ে রেখেছে তার সব
অভ্রকণা,অশ্রুকণাগুলি।
Related Articles
চিরদিনের
এখানে বৃষ্টিমুখর লাজুক গাঁয়ে এসে থেমে গেছে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা, সবুজ মাঠেরা পথ দেয় পায়ে পায়ে পথ নেই, তবু এখানে যে পথ হাঁটা। জোড়া দীঘি, তার পাড়েতে তালের সারি দূরে বাঁশঝাড়ে আত্মদানের সাড়া, পচা জল আর মশায় অহংকারী নীরব এখানে অমর কিষাণপাড়া। এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে, গোয়ালে […]
আদি সত্যের পাশে
আদি সত্যের পাশ দিয়ে একটি নদী বইছিল আমি সামান্য মানুষ, নদীকে বললাম, থামো আর দেখো, উতরোল জলস্রোতে কাঁপতে কাঁপতে নিশ্চল সত্য কত অনায়াসে ডুবে গেল। নিমজ্জিত সত্যের ওপর এখন কালান্তক ঢেউয়ের বুদবুদ। পাখি উড়ছে কোয়াক কোয়াক করে ডাকছে। একটি যাযাবর হাঁস। একটি মাঝি পালের দড়িছড়া ঠিক করতে করতে গাইল ‘মনমাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর […]
চিরমায়া
ঘর দুয়ার বাহিরে দেখি না, শুধু স্থির জানি ভিতরে কোথাও চৌকাঠে পা রেখে তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ, চিরমায়া। দাঁতে-চাপা অধরে কৌতুক স্থির বিদ্যুতের মতো লগ্ন হয়ে আছে, ভুরু বিদ্রুপের ভঙ্গিতে বাঁকানো, জ্বলে কোমল আগুন সিঁথি ও ললাটে। স্থির সরসীর মতো দুই চোখে চক্ষু রেখে জগৎ-সংসার অকস্মাৎ তার কার্যকারণের-সূত্রে গাঁথা মাল্যখানিকে ঘোরাতে ভুলে যায়। বাহিরে দেখি না, […]

