এখন তো বৃষ্টিতে ভেজার বয়স আমার নেই
সাহসও তো নেই—
আষাঢ় মাসের এ-সময়ে অঝোর ধারায় শুনি
সোনার নূপুর বেজে যায়, বাজে অনাদি ঘুঙুর;
আনন্দে আপ্লুত গাছগাছালির পল্লব-পত্রালি
আন্দোলিত হতে দেখি, যেন পুন কালিদাস-কাল
সমাগত!—পত্রেপুষ্পে সুশোভিত প্রিয় বৃক্ষরাজি
অপার আহ্লাদে ভিজছে… শুনি ফুল্ল আনন্দভৈরবী!
বাঙ্গালার নরনারীগণ বুঝি সুখে নিদ্রা যায়
উন্মুখর আনন্দ-বর্ষণে!—বর্ষা আজ সর্বব্যাপী
মানুষে ও ধরাধামে; বৃষ্টি ঝরে ময়ূর-আনন্দে।
মেঘের গর্জনে, জানি, সুদৃশ্য পেখম খুলে নাচে
মহানন্দে ময়ূরেরা; এই ক্ষণে এক্ষেত্রে ব্যত্যয় :
ত্রিভুবন জুড়ে মেঘেরাই নেচে যায় ময়ূরের
বিকল্প কলাপে!—এই বুঝি বাঙ্গালার সুনিশ্চিত
নিজস্ব নিয়ম; ধরাধামে বৃষ্টির বিকল্প নেই—
বৃষ্টি দেবে সবকিছু ঢেলে তোমার দু’হাত ভ’রে
জীবনে ও শস্যক্ষেত্রে—কিন্তু, নিতে তুমি পারবে কি
সেই অযাচিত ধন—আছে কি সে ধারণ ক্ষমতা?
বর্ষা বড় ঋদ্ধ ঋতু,—দ্রবীভূত করে, এমনকি,
জল্লাদেরও মন; মাঙ্গলিক এই ঋতু বিশুষ্কতা
প্রত্যাখান ক’রে আর্দ্র করে হূদয়-মনন-মেধা!।
Related Articles
আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্ক্ষল
আকাশকে বিক্ষত করো আকাশ তবুও আকাশ, ফুলকে পোড়াও, ফুল তবু ফুল কাগজের মতো ছেঁড়ো শাড়ী ও শাড়ী ছিঁড়বোই কিন্তু নারী রয়ে যাবে, নারী চিনবেই তার ভীষণ নারীকে । ফুলতো কাগজ নয় ছিঁড়ে ফেলবে, আকাশ তো মানুষ নয় ক্ষত কোরবে । স্বাধীনতাকে যতবার তুমি পরাধীনতা করো আর মানুষকে যতবার তুমি মারো যতবার পরাও শৃঙ্ক্ষল মানুষ তবুও […]
অদৃশ্য বাঁধন
কোন এক নিঝুম রাতে যখন ঘুম হারিয়েছিল মেঘের দেশে যখন শরীরের সব শিরা-উপশিরায় জমাট বেধেছিল ক্লান্তি ঠিক তখনই খুঁজে পেয়েছিলাম তোমায়, মুখ-পুস্তকের নির্লিপ্ত পাতায় । মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মোহ আমি ছুঁতে চলেছি হাতের মুঠোয় যেন একরাশ ছায়াপথ ভেশে যাচ্ছিল প্রতি মিনিটে, বন্ধুত্বের হাতটা কিভাবে যেন তোমায় ছুঁয়ে দিল একদিন । তারপর শুরু হল […]
মাংস, মাংস, মাংস…
আমাকে রাঙাতে পারে তেমন গোলাপ কখনও দেখি না। তবে কাকে, কখন, কোথায় ধরা দেবো? একমাত্র গোধূলি বেলায় সবকিছু বীরাঙ্গনার মতন রাঙা হয়ে যায়। শৈশবও ছিলো না লাল। তবে জানি, দেখেছিও, ছুরির উজ্জ্বলতা থেকে ঝরে পড়ে বিন্দু বিন্দু লাল ফোঁটা তবে হাত রাখবো ছুরির বাঁটে? সবুজ সতেজ- রূপালি রেকাবে রাখা পানের নিপুণ কোনো খিলি নয়, মাংস, […]

