চিনিলে না আমারে কি।
দীপহারা কোণে আমি ছিনু অন্যমনে,
ফিরে গেলে কারেও না দেখি॥
দ্বারে এসে গেলে ভুলে পরশনে দ্বার যেত খুলে–
মোর ভাগ্যতরী এটুকু বাধায় গেল ঠেকি॥
ঝড়ের রাতে ছিনু প্রহর গণি।
হায়, শুনি নাই,
শুনি নাই রথের ধ্বনি
তব রথের ধ্বনি।
গুরুগুরু গরজনে কাঁপি
বক্ষ ধরিয়াছিনু চাপি,
আকাশে বিদ্যুতবহ্নি
অভিশাপ গেল লেখি॥
Related Articles
বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে এসেছি তোমারি এ দ্বারে
বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে এসেছি তোমারি এ দ্বারে, পথিকেরে লহো ডাকি তব মন্দিরের এক ধারে। বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে এসেছি বনপথ হতে, সুন্দরী, এনেছি মল্লিকামঞ্জলী– তুমি লবে নিজ বেণীবন্ধে মনে রেখেছি এ দুরাশারে। বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে এসেছি কোনো কথা নাহি ব’লে ধীরে ধীরে ফিরে যাব চলে। কোনো কথা নাহি ব’লে ধীরে ধীরে ফিরে যাব চলে। ঝিল্লিঝঙ্কৃত নিশীথে পথে যেতে বাঁশরিতে শেষ গান […]
যারা বিহান-বেলায় গান এনেছিল আমার মনে
যারা বিহান-বেলায় গান এনেছিল আমার মনে সাঁঝের বেলায় ছায়ায় তারা মিলায় ধীরে। একা বসে আছি হেথায় যাতায়াতের পথের তীরে, আজকে তারা এল আমার স্বপ্নলোকের দুয়ার ঘিরে। সুরহারা সব ব্যথা যত একতারা তার খুঁজে ফিরে। প্রহর-পরে প্রহর যে যায়, বসে বসে কেবল গণি নীরব জপের মালার ধ্বনি অন্ধকারের শিরে শিরে॥
আজি বর্ষারাতের শেষে
আজি বর্ষারাতের শেষে সজল মেঘের কোমল কালোয় অরুণ আলো মেশে॥ বেণুবনের মাথায় মাথায় রঙ লেগেছে পাতায় পাতায়, রঙের ধারায় হৃদয় হারায়, কোথা যে যায় ভেসে॥ এই ঘাসের ঝিলিমিলি, তার সাথে মোর প্রাণের কাঁপন এক তালে যায় মিলি। মাটির প্রেমে আলোর রাগে রক্তে আমার পুলক লাগে– বনের সাথে মন যে মাতে, ওঠে আকুল হেসে॥


