কবিতা

বস্ত্র নিয়ে

বস্ত্র নিয়ে কথা শুরু, শস্ত্র যখন চুপ
মুগ্ধমতী মহামায়ার অঙ্গভরা রূপ

বাবুই পাখির পুচ্ছ বাসা গুচ্ছ চুলে দোলে
রংবেরঙের বস্ত্রে বধুর রূপের বাহার খোলে

নকশিকাঁথার ফোঁড়ে ফোঁড়ে দাদিনানির বর
গামছাবাঁধা দইয়ের বুকে খাঁটি দুধের সর

তরুলতার কথকতায় মায়াবতীর বাড়ি
জলবিহঙ্গ ব্যাকুল ডানায় দিচ্ছে আকাশ পাড়ি

স্বপ্ন যখন অসম্ভবা, সত্য তখন শুরু
গুরু গুরু ডাকলো দেয়া, কাঁপলো চোখের ভুরু

তাঁতীর হাতে ব্যগ্র মাকু দিকবদলের খেলা
মসলিন আর জামদানিরও ফুরোয় বিশ্বমেলা

লুঙ্গি থামি কোর্তা টুপি শিরোয়ানি শাড়ি
কার বস্ত্র কার দখলে কার কবলে বাড়ি

এক বস্ত্র দুই বস্ত্র বস্ত্র হাজার রকম
বস্ত্র তখন হরণ হলো শস্ত্র যখন জখম

হরণ হলো হরণ হলো বস্ত্র থরে থরে
বস্ত্রহীনা সীতা এখন শস্ত্রবীরের ঘরে

শাড়ি বাড়ি গাড়ির কিস্স্ াযদিও মিছা না
পরের জাগা পরের জমি পরের বিছানা

হঠাৎ একা রাজপ্রাসাদে, শ্বেতপাথরে, ঘাসে
চারবেহারার কাঁধে যখন পালঙ্কটা আসে

নেই-কাপড়ে এসেছিলে, এক কাপড়ে পাড়ি
এই তো জাগা এই তো জমি এই তো জমিদারি।

মুহম্মদ নূরুল হুদা
মুহম্মদ নূরুল হুদা
মোহাম্মদ নুরুল হুদা বাংলাদেশের সত্তর দশকের একজন আধুনিক কবি , একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।