আমি বড় হয়ে গেছি, আর কোনোদিন নোংরা হবো না৷
মা, আমার পিঠ থেকে ধুলো ঝেড়ে দাও,
আমি পরিচ্ছনড়ব হতে চাই গাত্রচর্মে৷
তেত্রিশ বছরের ধুলোয় লুটানো দেহখানি আজ
তুলে এনেছি তোমার কাছে৷
তুমি এর গালে চুমু খাও, এর বাহুতে চিমটি কাটো,
উষ্কখুষ্ক চুলের ভিতরে দ্রত বেগে আঙুল চালাতে গিয়ে
যদি ব্যথা দাও, দাও: আমি কিচ্ছুটি বলবো না৷
খাঁটি সরিষার দু’ফোটা ঝাঁঝালো তেল দিতে পারো নাকে৷
বাড়ির পেছনের পুকুরের জল, তা যত ঠান্ডাই হোক,
তুমি যদি চাও আমি সে জলেই দেবো তিন ডুব৷
তারপর সড়বান শেষ হলে বসবো মাঘের রোকণুরে পিঠ রেখে,
আমি জানি তুমি খুব খুশি হবে তাতে৷
বহু পুণ্যবলে আজ এই নগড়ব উদাসীন কবি,
হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়া: এই সূর্য ডুবে গেলে পর,
আমি তোর ধুলোমাখা পায়ে চুমু খাবো, মা৷
Related Articles
বৃদ্ধমঙ্গল
বৃদ্ধমঙ্গল রোজ দেখি একজন বুড়ো লোক বাঁশের মাচায় শুয়ে লিচুগাছ পাহারা দিচ্ছেন । গাছের তলায় এইটুকু তার নিরন্ন আবাস । সারাদিন মশারি টানানো । বুকের পাঁজরে তিনি পা দু’টো গুটিয়ে যদি হঠাৎ বসেন, মনে হবে ঝলসানো চিংড়ি মাছ । আমূল গুটিয়ে আছে মায়ের জঠরে শিশুটির মতো । ঠিক যেন ভ্রুণের আদল । কখন জন্মাবে সেই […]
পাবো প্রেম কান পেতে রেখে
বড় দীর্ঘতম বৃক্ষে ব’সে আছো, দেবতা আমার | শিকড়ে, বিহ্বল প্রান্তে, কান পেতে আছি নিশিদিন সম্ভ্রমের মূল কোথা এ-মাটির নিথর বিস্তারে ; সেইখানে শুয়ে আছি মনে পড়ে, তার মনে পড়ে ? যেখানে শুইয়ে গেলে ধিরে-ধিরে কত দূরে আজ ! স্মারক বাগানখনি গাছ হ’য়ে আমার ভিতরে শুধু স্বপ্ন দীর্ঘকায়, তার ফুল-পাতা-ফল-শাখা তোমাদের খোঁডা-বাসা শূন্য ক’রে পলাতক […]
নাস্তিক
নেই স্বর্গলোভ কিংবা কল্প-নরকের ভয়, অলীক সাফল্যমুক্ত কর্মময় পৃথিবী আমার৷ চর্মচোখে যা যা দেখি, শারীরিক ইন্দ্রিয় যা ধরে, তাকেই গ্রহন করি৷ জানি, নিরাকার অপ্রত্যক্ষ শুধুই ছলনা, বিশ্বাস করি না ভাগ্যে, দেবতার বরে৷ আমার জগৎ মুগ্ধ বাস্তবের বস্তুপুঞ্জে ঠাসা, তাই সে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অতীন্দ্রিয় নয়৷ অন্ধতার বধ্যভূমি আমার হদৃয়৷ সেই শ্রেষ্ঠ মানব-সন্তান, যার মন মুক্ত ভগবান৷ আমার […]

