আমি বড় হয়ে গেছি, আর কোনোদিন নোংরা হবো না৷
মা, আমার পিঠ থেকে ধুলো ঝেড়ে দাও,
আমি পরিচ্ছনড়ব হতে চাই গাত্রচর্মে৷
তেত্রিশ বছরের ধুলোয় লুটানো দেহখানি আজ
তুলে এনেছি তোমার কাছে৷
তুমি এর গালে চুমু খাও, এর বাহুতে চিমটি কাটো,
উষ্কখুষ্ক চুলের ভিতরে দ্রত বেগে আঙুল চালাতে গিয়ে
যদি ব্যথা দাও, দাও: আমি কিচ্ছুটি বলবো না৷
খাঁটি সরিষার দু’ফোটা ঝাঁঝালো তেল দিতে পারো নাকে৷
বাড়ির পেছনের পুকুরের জল, তা যত ঠান্ডাই হোক,
তুমি যদি চাও আমি সে জলেই দেবো তিন ডুব৷
তারপর সড়বান শেষ হলে বসবো মাঘের রোকণুরে পিঠ রেখে,
আমি জানি তুমি খুব খুশি হবে তাতে৷
বহু পুণ্যবলে আজ এই নগড়ব উদাসীন কবি,
হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়া: এই সূর্য ডুবে গেলে পর,
আমি তোর ধুলোমাখা পায়ে চুমু খাবো, মা৷
Related Articles
ইসরাফিলের জ্বর হয়েছে
ইসরাফিলের জ্বর হয়েছে, জিবরাইলের কাশি মুনকার আর নাকির গেছে হুরের নিমন্ত্রণে আল্লাহতায়ালা তালি দিচ্ছেন, ফেরেশতারা নেই শিঙায় আবার জং ধরেছে, জং সারাবার মিস্ত্রি এসে নাটবল্টু খুলে উপুড় করে ঢেলে দিচ্ছে সয়াবিনের ড্রাম জাহান্নামের সাপ ওদিকে খিদের চোটে ঘুম। আল্লাহতায়ালা হাঁক দিচ্ছেন ফেরেশতারা নেই ফেরেশতারা যে যার মতো সাত আকাশে ঘোরে ইসরাফিলের জ্বর হয়েছে শিঙা ফুঁকবে […]
শুদ্ধ হোক আগুনের পাখি
আমাকে শুদ্ধ করো, ধারাপাত ভুলে গেছি মেয়ে দীর্ঘ কষ্টকাল গ্রাস করে মধুর প্রহর, জমার খাতায় যত উইপোকা ভালোবাসা খেয়ে উগলে দিয়েছি পাতে মৃত্যুর কৃষ্ণ-জহর। সোনার টুকরো ভেবে জ্বলন্ত কয়লা হাতে ধরি চশমার ঘষাকাচে নেমে আসে গভীর নীরবতা, আমাকে শুদ্ধ করো, বদলে দাও দেয়ালের ঘড়ি আমূল পাল্টে দাও সব ভুল-ভ্রান্তির কথা। ধমনীর রক্তধারা ফেঁপে ওঠে সবকিছু […]
বাম হাত তোমাকে দিলাম
৪০. বাম হাত তোমাকে দিলাম এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম। একটু আদর করে রেখো, চৈত্রে বোশেখে খরা আর ঝড়ের রাত্রিতে মমতায় সেবা ওশুশ্রূষা দিয়ে বুকে রেখো, ঢেকে রেখো, দুর্দিনে যত্ন নিও সুখী হবে তোমার সন্তান। এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম। ও বড়ো কষ্টের হাত, দেখো দেখো অনাদরে কী রকম শীর্ণ হয়েছে, ভুল আদরের […]

