না, সে নয় । অন্য কেউ এসেছিল । ঘুমো তুই ঘুমো ।
এখনো রয়েছে রাত্রি, রোদ্দুরে চুমো
লাগেনি শিশিরে । ওরে বোকা,
আকাশে ফোটেনি আলো, দরজায় এখনো তার টোকা
পড়েনি । টগর-বেলা-গন্ধরাজ-জুঁই
সবাই ঘুমিয়ে আছে, তুই
জাগিসনে আর । তোর বরণডালার মালাগাছি
দে আমাকে, আমি জেগে আছি ।
না রে মেয়ে, নারে বোকা মেয়ে,
আমি ঘুমোবো না । আমি নির্জন পথের দিকে চেয়ে
এমন জেগেছি কত রাত,
এমন অনেক ব্যথা-আকাঙ্ক্ষার দাঁত
ছিঁড়েছে আমাকে । তুই ঘুমো দেখি, শান্ত হ’য়ে ঘুমো ।
শিশিরে লাগেনি তার চুমো,
বাতাসে ওঠেনি তার গান ।
ওরে বোকা,
এখনও রয়েছে রাত্রি, দরজায় পড়েনি তার টোকা ।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯ অক্টোবর ১৯২৪-) একজন ভারতীয় বাঙ্গালি কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভুত আধুনিক বাংলা কবিদের অন্যতম। উলঙ্গ রাজা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত কাব্যগ্রন্হ। এই কাব্যগ্রন্হ লেখার জন্য তিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। কবি পশ্চিমবঙ্গে বাংলা আকাদেমির সাথে দীর্ঘকাল যুক্ত।
শৈশব ও কৈশোর
তাঁর শৈশবের পুরোটাই কেটেছে পূর্ববঙ্গে যা বর্তমান [ [বাংলাদেশ]], ঠাকুরদা আর ঠাকুমার কাছে। কবির ঠাকুরদা কর্মজীবন কাটিয়েছেন কলকাতায়। কর্মজীবন শেষে ৫০ বছর বয়সে কলকাতার পাট চুকিয়ে বাংলাদেশের ফরিদপুর বাড়ি চান্দ্রা গ্রামে চলে আসেন। তার বাবা কলকাতাতেই ছিলেন। কলকাতার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করতেন। দুই বছর বয়সে কবির মা বাবার কর্মস্থল কলকাতায় চলে যান। কবি থেকে যান ঠাকুরদার নাম লোকনাথ চক্রবর্তীর কাছে। গ্রামে কাটিয়েছেন মহা স্বাধীনতা—ইচ্ছেমতো দৌড়ঝাঁপ করে। কখনো গাছে উঠছেন; কখনো আপন মনে ঘুরেছে গ্রামের এই প্রাপ্ত থেকে অন্যপ্রাপ্তে। চার বছর বয়সে কবির কাকিমা বলছিলেন, 'তুই তো দেখছি কবিদের মতোন কথা বলছিস!' সেই সময়েই মুখস্থ করেছিল গ্রামে কবিয়ালরা, কবিগান,রামায়ণ গান। গ্রামের দিনগুলো খুব সুন্দর কেটেছেন তাই তিনি এ গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় যেতে চাইতেন না। তবে ঠাকুরদার মৃত্যুর পর গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। এখন তিনি কলকাতায় থাকেন।
Related Articles
বৃদ্ধমঙ্গল
বৃদ্ধমঙ্গল রোজ দেখি একজন বুড়ো লোক বাঁশের মাচায় শুয়ে লিচুগাছ পাহারা দিচ্ছেন । গাছের তলায় এইটুকু তার নিরন্ন আবাস । সারাদিন মশারি টানানো । বুকের পাঁজরে তিনি পা দু’টো গুটিয়ে যদি হঠাৎ বসেন, মনে হবে ঝলসানো চিংড়ি মাছ । আমূল গুটিয়ে আছে মায়ের জঠরে শিশুটির মতো । ঠিক যেন ভ্রুণের আদল । কখন জন্মাবে সেই […]
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রদ্ধাস্পদেষু
আকাশ বাতাস যারযে পার হবে কান্তার সে তো আমার মধ্যে আমার কাঁধের উপরথাকুক তোমার ভারআমি হাঁটতে থাকি বকুল ঝরে ঝরুকআমি হাঁটতে থাকি
ভুলে যাব না
চায়ের দোকান। তুমুল তর্কে চিড় খাচ্ছে টেবিল। হঠাৎ আওয়াজ। মাটিতে পা; হাত আকাশে। মিছিল। দৃষ্টি বদল। হাতে বেঁধেছ হাত। করেছ ঋণী। ভুলে যাইনি। ভুলে যাব না জীবনে কোনদিনই।। পাড় ভাঙছে। ছইয়ের ভেতর আলো দুলছে। হাওয়া। সকাল বেলায় ডাঙায় পৌঁছে বন্দরে চা খাওয়া। গলা মিলিয়ে গেয়েছি গান__ ‘মা’ আমার বন্দিনী’। ভুলে যাইনি। ভুলে যাব না জীবনে […]

