কবিতা

মরে গেলি, অরুণেশ ?

মরে গেলি ? সত্যিই মরে গেলি নাকি অরুণেশ ? রূপসী বাংলার খোঁজে আসঙ্গ-উন্মুখ শীতে বেপাড়া-ওপাড়া ঘেঁটে শেষমেশ ঝিলের সবুজ ঝাঁঝরিতে ডুব দিলি ! যবাক্ষারযানে কালো বিষগানে আধভেজা উলুপীর সাপ-রক্ত মিঠেল শীৎকারে হৃদযন্ত্রে দামামা বাজতেই বুক খামচে জলে নেমে গেলি– বাড়িতো পিছনে ছিল, সেদিকে গেলি না কেন ? ডাঙার গেঁজেল হায়নারা যৌবনে ভালোবাসা পেয়েছিল তোর , […]

কবিতা

পপির ফুল

বোঁটায় তোর   গোলাপরঙ   অবন্তিকা শরীরে তোর   সবুজ ঢাকা   অবন্তিকা আঁচড় দিই   আঠা বেরোয়   অবন্তিকা চাটতে দিস   নেশায় পায়   অবন্তিকা টাটিয়ে যাস   পেট খসাস   অবন্তিকা

কবিতা

অন্তরটনিক

বিড়ি ফুঁকিস অবন্তিকা চুমুতে শ্রমের স্বাদ পাই বাংলা টানিস অবন্তিকা নিঃশ্বাসে ঘুমের গন্ধ পাই গুটকা খাস অবন্তিকা জিভেতে রক্তের ছোঁয়া পাই মিছিলে যাস অবন্তিকা ঘামে তোর দিবাস্বপ্ন পাই

কবিতা

কৃত্রিমতা

গাড়ির কাচটা নামা ; গগলস খুলে ওই দ্যাখ সেই সাব-এডিটর তোর অভিনয়ে কৃত্রিমতা আছে লিখে তুলোধনা করেছিল তোকে অবন্তিকা তাকিয়ে রয়েছে তোর পোস্টারের খাঁজে অপলক নাহ, অপলক বলা যুৎসই নয়, গিলছে রে তোর সিলিকন-ঠাসা বুক দুটো। ভুলে গেছে ব্যাটা ওদুটো কৃত্রিম কিন্তু যৌনতার শিল্পবোধে ফেঁসে লটকে পড়েছে তোর বুকের নিজস্ব অভিনয়ে।  

কবিতা

ভয় পেয়োনা

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না— সত্যি বলছি কুস্তি ক’রে তোমার সঙ্গে পারব না। মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই, তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই! মাথায় আমার শিং দেখে ভাই ভয় পেয়েছ কতই না— জানো না মোর মাথার ব্যারাম, কাউকে আমি গুঁতোই না? এস এস গর্তে […]

কবিতা

বুঝিয়ে বলা

ও শ্যামাদাস! আয়তো দেখি, বোস তো দেখি এখেনে, সেই কথাটা বুঝিয়ে দেব পাঁচ মিনিটে, দেখে নে৷ জ্বর হয়েছে? মিথ্যে কথা! ওসব তোদের চালাকি— এই যে বাবা চেঁচাচ্ছিলি, শুনতে পাইনি? কালা কি? মামার ব্যামো? বদ্যি ডাকবি? ডাকিস না হয় বিকেলে না হয় আমি বাৎলে দেব বাঁচবে মামা কি খেলে! আজকে তোকে সেই কথাটা বোঝাবই বোঝাব— না […]

কবিতা

গল্প বলা

“এক যে রাজা”–”থাম্ না দাদা, রাজা নয় সে, রাজ পেয়াদা৷” “তার যে মাতুল”–”মাতুল কি সে?— সবাই জানে সে তার পিশে৷” “তার ছিল এক ছাগল ছানা”— “ছাগলের কি গজায় ডানা?” “একদিন তার ছাতের ‘পরে”— “ছাত কোথা হে টিনের ঘরে?” “বাগানের এক উড়ে মালী”— “মালী নয়তো! মেহের আলী৷” “মনের সাধে গাইছে বেহাগ”— “বেহাগ তো নয়! বসন্ত রাগ৷” […]

কবিতা

বাবুরাম সাপুড়ে

বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস্ বাপুরে? আয় বাবা দেখে যা, দুটো সাপ রেখে যা— যে সাপের চোখ্ নেই, শিং নেই, নোখ্ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশ্‌ঢাঁশ, নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত, সেই সাপ জ্যান্ত গোটা দুই আন্‌ত! তেড়ে মেরে ডাণ্ডা ক’রে দিই […]

কবিতা

সৎপাত্র

শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে— তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে ? জানতে চাও সে কেমন ছেলে ? মন্দ নয় সে পাত্র ভালো রঙ যদিও বেজায় কালো ; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন ; বিদ্যে বুদ্ধি ? বলছি মশাই— ধন্যি ছেলের অধ্যবসায় ! উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে ঘায়েল হয়ে থামল শেষে । […]

কবিতা

রবিবার

মুর্গির দোকানের লাইন মৃত্যুর থেকেও লম্বা। স্যাঁতস্যাঁতে দিন রক্তাক্ত বাতাস স্বপ্ন উদাসীন। প্রতিবাদী মন অর্বাচীনের আবিষ্কার। Critical mind এবে obsolete আপোষবিহীন জীবন আজ onsite call-এ ব্যাস্ত। হিসাবের খাতা মিলিয়ে মিলিয়ে পা ফেলি সাজানো বাগানের মত একটা দিন স্বপ্ন উদাসীন রবিবার।