সত্যের মতো বদমাশ

তারা দুজন, মা আর ছেলে : মা-র মুখমণ্ডল তৈলাক্ত করুণ ও লম্বিত আর ছেলেটার গোলমুখ বিস্ময় আনন্দ ও কৌতূহলে ভরা, তারা দুজন এক মুষ্টি অথচ সমুদ্রসমান এই গ্রহের মেলার মধ্যে এসে ঢুকলো। এতো লোকজন, আলো হাসি-গান, বাঁশি বাজছে ঐদিকে, কুকী মেয়েদের নাচ দেখার জন্য সাতজন মহাহল্লা করতে করতে পরস্পরের পিঠে চড়ে চলে গেলো। তার পাশ দিয়ে গলাগলি করে শূন্যে তেইশটি বেলুন উড়ছে যেন চাঁদে যাবে; কিন্তু কী এক বিষাদ পেয়ে বসলো ছেলেটিকে।
‘মা, এ কোন রাজা?’ ছেলেটির কণ্ঠে ঝরে পড়লো বিপন্ন বিস্ময়।
‘কেন, এখানেই তুই তো আসতে চেয়েছিলি।’ বিব্রত মা বললেন, ‘আমি তো তোকে এখানেই আনবো বলেছিলাম।’
‘তখন ভেবেছিলাম আমার ভালো লাগবে, কিন্তু এখানে এসে অবধি ভয় লাগছে। এ আমাকে কোথায় নিয়ে এলে, মা? আমি তো চাইনি এখানে আসতে, আমি কখনো চাইনি, কক্ষণো না।’
‘ভয় করিসনে খোকা। দেখছিস না কতো লোকজন ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কতো আলো দেখছিস না, কতো ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে লাফিয়ে উঠছে খুশিতে, খেলা করছে আনন্দে ধুলোর উপর মা-বাপের হাত ধরে, ওরাও তোর মতো বেড়াতে এসেছে মেলায়।’
‘তা তো দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু আমার বুকের মধ্যে ভয় এলে আমি কি করবো, বলো।’ মা-র আর তার শরীরের পশ্চাতে মুক্তি ও প্রতিরোধহীন জন্তুর মতো কী একটা দেখতে পেয়ে শিউরে উঠলো সে, তোমার পিছনে আমার পিছনে ওটা কী?’
‘ওটা ছায়া।’
‘ছায়া? ছায়া কী?’
‘ছায়া সব সময় তোর সঙ্গে-সঙ্গে ঘুরবে, হয় পিছনে না হয় সম্মুখে, ছায়া নেই এরকম কোনো মানুষ আমি দেখিনি। ভয় কি, অমন করে উঠলি কেন?’
‘না মা, আমি ছায়া চাই না।’
‘না চাইলেই তো ও চলে যাবে না। অন্ধকার থেকে আমরা আসি কি না, তাই আমাদের শরীরের সঙ্গে ছায়া জড়িয়ে থাকে। ভয় পাসনে খোকা, এতো লোক কেউ ভয় পায় না, তুই কি সবার থেকে আলাদা হতে পারবি? ছায়াকে আর ফেরত দেয়া যায় না। কিন্তু খোকা, তুই কোনো মানুষ থেকে আলাদা হতে পারবি না, তুই একা একরকম হবি তা হয় না, মানুষ কোনো দিন অসাধারণ হতে পারে না_খামাখা এসব বাজে বকছিস কেন, ভয় পাচ্ছিসই বা কেন? তার চেয়ে দ্যাখ দোকানে দোকানে লাল নীল সবুজ কতো আলো জ্বলছে, বেলুন উড়ছে ফুর্তিতে, ঘুরছে নাগরদোলা। এই দ্যাখ আমাদের পাশে খেলনার দোকান : কতো রকমের পুতুল সাজানো রয়েছে : রিকশা, ট্যাঙ্ িএরোপ্লেন, আম, কাঁঠাল, সাহেব মেম।’
‘ওসব আমাকে কিনে দেবে না মা?’
‘দেবো, বাবা, দেবো। কোনটা তোর ভালো লাগে, কোনটা নিতে চাস তুই বল?’
‘আমি সবগুলো চাই।’
‘দূর বোকা সবগুলো কি নেয়া যায়, তাহলে দোকান চলবে কী করে? আচ্ছা ভালো দেখে আমিই একটা জিনিস পছন্দ করে দিচ্ছি তোকে। রেল গাড়ি নিবি, এই রেলগাড়িটা?’
‘নেবো, কিন্তু এই রেলগাড়িটাই বিশেষ করে তোমার পছন্দ হলো কেন মা?_যাকগে সে কথা। আচ্ছা মা, আসল রেলগাড়ি কি ছোটো, এই রেলগাড়ির মতো?’
‘হ্যাঁ, অবিকল এই রকম। এরকমই এঞ্জিন, কামরাগুলো দু-একটা মালগাড়িও আছে, পিছনে গার্ডের ঘর, গার্ডের হাতে সবুজ নিশান দোলে, কামরার জানলায় জানলায় সারি সারি মুখ দেখা যায়। তফাৎ শুধু একটু যে, এই রেলগাড়ি চলতে পারে না, সেই রেলগাড়ি কেবলি চলে, স্টেশনে স্টেশনে থামে অল্পক্ষণ, তারপরই আবার চলা, যে রেলগাড়ি চলতে পারে না সে আর রেলগাড়ি থাকে না_বাতিল হয়ে যায়।’
‘ওমা, দ্যাখো, দ্যাখো, কি সুন্দর নাগরদোলা।’ ছেলেটার মনোযোগ কেড়ে নিয়ে গেলো। নাগরদোলা উঠছে আর পড়ছে কী সুন্দরভাবে ঘুরছে। ‘আমি নাগরদোলায় চড়বো, মা।’
‘না, বাবা, তোমার মতো ছোটো ছেলেমেয়ে কেউ চড়ছে না, দেখছো না? তুমি বড়ো হও, তারপরে চড়ো।’
‘কি মজা, বড়ো হলে আমি নাগরদোলায় চড়বো! একবার উপরে উঠে যাও আকাশে, তারপর শাঁ করে নেমে এসো নিচে। লোকগুলোকে দ্যাখো, মা, উপরের দিকে যখন উঠছে, খুশিতে লাফাচ্ছে যেন, আর নিচে নামার সময় ভয়ে দু’চোখ বুজে ফেলছে। আমি বড়ো হয়ে নাগরদোলায় চড়বো।’
‘যতো মজা ভাবছিস, খোকা, অতো মজা নয়। ওই দ্যাখ, একজন লোক মাটিতে উবু হয়ে বসে বমি করছে।’
‘কেন, মা?’
‘নাগরদোলা ওর সহ্য হয়নি, হয়তো ও মরে যাবে।’
‘ম’রে যাবে। তাহলে আমি কিছুতেই নাগরদোলায় চড়বো না, বুঝলে মা, আমি চড়বো না। কিছুতেই না, আমি মরে যেতে চাই না, পৃথিবী যতো দিন থাকে আমি ততো দিন বেঁচে থাকবো, মা।’
‘তোমাকে ওরা জোর করে নাগরদোলায় তুলে দেবে।’
‘কারা মা? তুমি আমাকে ভয় দেখাচ্ছো?’
‘তোকে আবার আমি ভয় দেখাতে যাবো কেন রে? কিন্তু ওরা ভারি বদ্লোক। ঐ দেখছিস না, নাগরদোলার গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে চারজন লোক, একেকটা কোঠা নেমে এলেই জোরে দিচ্ছে ঠেলে_ওরা।’
‘তাই তো, এখন বুঝতে পারছি; এতোক্ষণ ভাবছিলাম নাগরদোলাটা ঘুরছে কী করে, ও, ওদের চালাকি। কেমন চুপি চুপি ঠেলছে, যেন কেউ দেখতে না পায়। আমি নাগরদোলায় কিছুতেই উঠবো না, তবু ওরা জোর করে তুলে দেবে আমাকে? মা তুমি উত্তর দিচ্ছো না কেন?’
‘ঐ দ্যাখ, কী সুন্দর টিয়েপাখি।’
‘তুমি আমাকে ভোলাতে চাচ্ছো?’
‘দূর, তা না। ঐ দ্যাখ, টিয়েপাখিটা কথা বলছে। ওর চারপাশে ভিড় জমে আছে। চল ওদিকে যাই।’
‘বা-বা! কী চমৎকার লাল ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বলছে। কি বলছে, মা?’
‘কেন, বুঝতে পারছিস না? বলছে, সোজা পথে চলো।’
‘সোজা পথে চলো।’ কী আশ্চর্য কথা! ‘সোজা পথে চলো।’ এমন বিশ্রী কথা কেউ কোনো দিন বলেনি।
‘খারাপ কথা কেন, কথাটা তো খুব ভালো। খোকা, এদিকে আয়, তোর কানে কানে বলি : আর কখনো যেন এসব কথা বলিস না, বুঝেছিস? শুনতে পেলে, এখানে যারা ভিড় করে আছে রেগে যাবে তারা। আর ঐ বুড়ো লোকটাও।’
‘শাদা দাড়ির বুড়ো লোকটা আমার দিকে কী ভীষণভাবে তাকিয়ে আছে, দ্যাখো মা, যেন আমার মনের সব কথা জেনে ফেলেছে লোকটা। আমার ভয় লাগছে, লোকটা আমার দিকে অমন করে তাকিয়ে আছে কেন?’
‘ওকে সালাম করো, খোকা। টিয়েপাখিটা বন থেকে এনে উনিই পুষেছেন, কথা বলতে শিখিয়েছেন।’
‘ও, টিয়েপাখি যে কথা বলছিলো, তাহলে এই লোকটার। কথাটা এখন আমার আরো খারাপ লাগছে। ওকে আমি কিছুতেই সালাম করবো না।’
‘জেদ করো না খোকা। কেন সম্মান করবে না ওকে? দেখছো না সবাই ওকে ঘিরে আছে, কথা বলছে।’
‘আশ্চর্য তো, মা। অমন সুন্দর পাখিটাকে ভুলে সবাই কিনা ওর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে, কান দিয়ে যেন ওর কথাগুলো খাচ্ছে।’
‘চোখের ইশারায় তোকে উনি ডাকছেন, খোকা, আয়, ভিড় ঠেলে ভিতরে যাই।’
‘না, মা, আমি যাবো না, তুমি চলে এসো। চলো, এই ভিড় থেকে আমরা পালিয়ে যাই ওদিকে। টিয়েপাখি এমন ভীষণ ফাঁদ পেতে রেখেছে, আমি তা কখনো ভাবিনি। এসো মা।’
‘আমার হাত ধরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস, খোকা?
‘চলো না, ওদিকে পশুশালা দেখা যাচ্ছে। পশুরা এদের চেয়ে অনেক ভালো, তারা কথা বলতে পারে না, আর এরা এমন বদমাশ যে পাখিদেরও কথা বলতে শেখায়। আচ্ছা মা, তুমিই বলো আমার গা ছুঁয়ে, যে পাখি কথা বলতে শেখে, সে কি আর পাখি থাকে? সে তো একটা বদমাশ হয়ে যায়।’
‘খোকা, দেখতে পাচ্ছিস, ওদিকের ওই ছোটো ঘরটায় দুটো বাঘ রয়েছে। তুই তো ওদের ভালো বলছিলি, কিন্তু দ্যাখ, আমরা কতো দূরে রয়েছি, তবুও ওখান থেকে এসে ওদের গায়ের কটু গন্ধ আঘাত করছে আমাদের। ওদিকে ছোটো ছোটো ডালের সঙ্গে চেন দিয়ে বাধা কতো বাঁদর উঠছে বসছে, চুল খুঁটে দিচ্ছে একে অপরের।’
‘ওদিকে কালো মিশমিশে ভালুক। ওদিকে কেমন সুন্দর শিঙ উঁচিয়ে আছে হরিণেরা। আর পাখি, ছোটো ছোটো কাগজের বলের মতো ফুটফুটে পাখি_নাচছে, ঝরছে, একটি মাত্র পাতা নিয়ে বুনে তুলছে।
‘দেখা হলো তো, এবার চলো ফিরে যাই।’
‘আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে, মা!’
‘বাড়ি চলো, আমি বানিয়ে দেবো। এখানকার জিনিস খেলে অসুখ করবে। উঃ!’
‘কী হলো মা, পা মাড়িয়ে দিয়েছে? কে তুমি আমার মা-র পা মাড়িয়ে দিলে? ভারি বদমাশ লোক তো তুমি। কখন থেকে দেখছি, তুমি আমাদের পিছু পিছু ঘুরছো। মা বলেছিলো ছায়া, তাই আমি কিছু বলিনি। এখন দেখছি তুমি একটি বদমাশ, শয়তান। আবার পায়ে পায়ে আঁধারে মিলিয়ে যাচ্ছে, দ্যাখো।’
‘ছি খোকা, অমন করে বলতে নেই, উনি একজন ভদ্রলোক।’
‘ভদ্রলোক কাদের বলে, মা, যারা লুকিয়ে লুকিয়ে খারাপ কাজ করে তাদের?’
‘ভদ্রলোক কাদের বলে! আমি… আমি তো ঠিক… ঠিক বলতে পারি না। যারা দামি জামা জুতো পরে, আমি তো দেখি, তাদেরই লোকে ভদ্রলোক বলে, হ্যাঁ, শুধু তাদেরই।’
দেখেছো মা, লোকটা আস্তে আস্তে সরে পড়লো, নিশ্চয়ই বদ মতলবে ঘুরছিলো আমাদের সঙ্গে সঙ্গে। তা তুমি এমন করছো কেন মা, তোমার চোখ-মুখ, আমি কি তোমাকে ব্যথা দিলাম? ও বাবাগো মা-মা-মা মাগো!’
‘ভয় পেয়েছিস বুঝি, খোকা, খোকা! এই তো আমি, তোর মা, খোকা! আমার দিকে তাকা। কী, ভয় পেলি কেন এতো, খোকা?’
‘মা, আমার পায়ের তলায় একটি সাপ মনে হলো।’
‘কই দেখি। ও, এই তো, আরে এ তো কাগজের সাপ; দূর পাগল, ওতো কাগজের; তুই ভেবেছিলি বুঝি সত্যিকার। কেউ হয়তো কিনেছিলো, পড়েটড়ে গেছে কি করে। এই দ্যাখ, কাগজের সাপ আমি ধরে আছি দেখছিস না? ও কামড়াতে পারে না রে।’
‘না মা, ফেলে দাও, ফেলে দাও। হোক কাগজের আমার কেন যেন ভয় লাগছে। কিংবা হয়তো কাগজের বলেই ভয় লাগছে আমার, সত্যিকার সাপ হলে আমার হয়তো একটু ভয় লাগতো না। আমার ভয় লাগছে মা, তুমি ছুড়ে ফেলে দাও ওটাকে। আমি চোখ বুজছি; চোখ বন্ধ করে আমি এক দুই তিন বলবো, তুমি তিন বলার আগেই ফেলে দেবে, তারপর আমি চোখ খুলবো। তারপর আমরা বাড়ি চলে যাবো, আমার কিছুই ভালো লাগছে না, চারিদিক থেকে যেন শুঁড় তুলে আসছে ভয়। মা, আমি চোখ বুজলাম এইবার_তুমি ফ্যালো_এক_কাগজের সাপটাকে তুমি ফেলে দাও ছুড়ে, ফেলে দাও_দুই_ফেলে দিয়েছো তো মা? কাগজটাকে ফেলে দিয়েছো তো? এইবার আমি তিন বলবো, তারপরই চোখ খুলবো, তুমি তাড়াতাড়ি ফেলে দাও, কথা বলছো না কেন মা, এইবার আমি তিন বলেই চোখ খুলবো যে দাও ফেলে_তিন। কই! একি, মা কই! মাকে তো দেখতে পাচ্ছি না মা, মা, মা-গো! কোথায় তুমি মা সাড়া দাও। আমার মা কই, আমার মা কি হারিয়ে গেলো! মা, মা, এতো লোকজনের মধ্যে তুমি কোথায় চলে গেলে, মা। তুমি ছাড়া আমি যে বাঁচবো না, মা। ঈশ আমার মা আর নেই, আমার মা কোথায় হারিয়ে গেছে, হায় ঈশ্বর! মার মুখের পাণ্ডুর আদলটুকুও কী দ্রুত ভুলে যাচ্ছি আমি, আমার কি উপায় হবে, মা, তুমি ফিরে এসো, একবার অন্তত একবার, তোমার মুখ আমি গেঁথে নেবো মনে।_এই তো কয়েকজন লোক দেখছি, আরে, এরাই তো নাগরদোলা ঠেলছিলো সেই চারজন লোক। আচ্ছা, তোমরা আমার মা কে দেখছো কি কেউ, খুব ভালো আমার মা-কে, সবচেয়ে সুন্দর আমার মা-কে?’
‘তোর মা-কে পাচ্ছিস না বুঝি’ প্রথমজন বললো।
‘ও, বুঝেছি, এ কাদের কাজ’ দ্বিতীয়জন বললো।
‘তোর মা-কে নিয়ে ওরা খুব মজা লুটছে এখন’ তৃতীয়জন বললো।
‘তুই ভাবিস না কিছু, তোর মা-রও এতে মনে মনে শায় আছে’ চতুর্থজন বললো।
‘কী আজেবাজে কথা বলছো তোমরা। আমার মাকে তোমরা কেউ চেনো না; অতো সুন্দর আমার মাকে তোমরা কি চিনতে পারো?_তোমরা তো বদমাশ! দেখি সরো, মাকে খুঁজে বের করবো।’
‘পয়সা পড়ে গেলে খুঁজে পাওয়া যায়, মানুষ পড়ে গেলে কখনো পাওয়া যায় না’ চতুর্থজন বললো।
‘আমি খুঁজে বের করবো মাকে। তোমরা চারজন চারদিক থেকে ঘিরে আছো কেন আমাকে? সরো, আমি মার কাছে যাবো।’
‘তোর মা-র কাছে তোকে পেঁৗছে দেবার জন্যই তো এসেছি আমরা, চল আমাদের সঙ্গে’ তৃতীয়জন বললো।
‘না, আমি তোমাদের সঙ্গে যাবো না, তোমরা বদমাশ। আমার গা ধরছো কেন তোমরা, দাও ছেড়ে দাও আমাকে।’
‘তোর মা-কে পাইনি, তোকে দিয়েই সেই কাজ চলবে আমাদের’ দ্বিতীয়জন বললো।
‘একি, আমাকে তোমরা কাঁধের উপর তুললে কেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাকে? মা, তোমাকে কারা ধরে নিয়ে গেছে, আমাকেও ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’
‘তোর মাকে পাইনি, তোকে দিয়েই সেই কাজ চলবে আমাদের’ প্রথমজন বললো।
‘ইশ কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে এরা আমাকে, এরা কি সেই নাগরদোলায় জোর করে আমাকে চড়িয়ে দেবে? মা_মা-গো!’
নিরুত্তর চারজন লোক তাকে কবরে যাবার খাটিয়ার চারটি পায়ার মতো বয়ে নিয়ে গেলো।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  জুতার ভিতরে পা

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

আব্দুল মান্নান সৈয়দ- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...