মাথায় মুকুটটা পরিয়ে দিতেই রাজা হয়ে গেলেন তিনি।
আর সিংহাসনে পাছা রেখেই হাঁক পাড়লেন
হালুম।
অমনি মন্ত্রীরা ছুটলো ঘুরঘুট্টি বনে হরিণের মাংস সেকতে
সেনাপতিরা ছুটলো খলখলে সমুদ্রে ফিস-ফ্রাইয়ের খোঁজে
কোতোয়ালরা ছুটলো হাটে-বাজারে যেখান থেকে যা আনা যায় উপড়ে
বরকন্দাজেরা ক্ষেত খামার ল্ড ভণ্ড করে বানালো ফ্রুটল্যলাড।
রাজা সরলেন ব্রেক ফাস্ট।
তারপরেই সিং-দুয়ারে বেজে উঠলো সাত-মণ সোনার ঘন্টা।
এবার রাজদরবার।
আসমুদ্র-হিমাচরের ন্যাংটো, আধ-ন্যাংটো জন্তু-জানোয়ারের ঝাঁক
পিলপিলিয়ে জড়ো হল রাজ-চত্বরে।
মন্ত্রী জানালো, প্রভু!
জনতা হাজির। ওরা প্রসাদ পেতে চায় আপনার অমৃত ভাষণের।
অমনি উত্তরে, দক্ষিণে, পুবে, পশ্চিমে, ঈশানে, নৈঋতে,
গাছে, পাতায়, শিশিরে, শ্মশানে, ধুলোয়, ধোয়ায়, কুয়াশায়
আকাশে, বাতাসে, হাড়ে, মাসে, পেটে, পাঁজরে
গর্জন করে উঠলো, সাড়ে সাতমো অ্যামপ্লিফায়ার
-হালুম।
Related Articles
গুহাবাসী
-চলে যাবে? সময় হয়েছে বুঝি? -সময় হয়নি, তাই চলে যাওয়া ভালো -এসো না এখনো এই গুহার ভিতরে খুঁজি পড়ে আছে কিনা কোনো চুপচাপ আলো -অথবা দু‘জনে চলো বাইরে যাই? -আমার এ নির্বাসন-দণ্ড আজ শেষ হবে? ওসব হেঁয়ালি আমি বুঝি না, তোমাকে সবার মধ্যে চাই -বহূদিন জনারণ্যে কাটিয়েছি, উৎসবে-পরবে পিঁপড়ের মতো আমি খুঁটেখুঁটে জমিয়েছি সুখ উপভোগ […]
মৃত্যুর শরীর ভেঙে
বিদ্যুতেরও সাধ্য নেই রুদ্ধ করে রক্তের প্রবাহ— যেভাবে রাতের ঘরে এলে তুমি দাঁড়ালে যখন শরীরের বস্ত্র ছেড়ে, চুলে ঝড়, যখন উধাও লজ্জার সকল শীল, মরে যাই আমি যে তখন! বিপুল সমুদ্র দেখে ছোট এক জাহাজের মাঝি— ধ্রুবতারা লক্ষ্যহারা, কম্পাসের কাঁটাও বিকল— তখন যে হয় তার হাহাকার, কীভাবে যে বাঁচি— চারদিকে নাচে তার রাক্ষুসীর জল ছলচ্ছল। […]
শুভরাত্রি লেখা মেঘ
প্রেমিকাকে অনুনয় করেছিলে, মৃত্যুর এক বছর আগে একফালি কাগজে শুধু ‘শুভরাত্রি’ লিখে যেন সে পাঠায়, তুমি বালিশের নীচে নিয়ে শোবে । এখন রাত্রির দিকে তাকালেই দেখি তোমার ফুসফুস থেকে জলন্ত কয়লারা বার হয়ে আকাশে আকাশে জ্বলছে! জোছনারা ঠিকরে পড়ছে সকল গাছের পাতা থেকে শুধু ‘শুভরাত্রি’ লেখা এক খণ্ড মেঘ চাঁদের তলায় এসে থেমে গেলো । […]

