কবিতা

উঠোন

সুখ আমাকে বলেনি, ‘দুঃখের দিকে যেও না’। দুঃখ আমাকে বলেছিলো, ‘যাও বাপু যাও, আগে সুখের ঘরটাকেই সামলাও’। সুখের একটি উঠোন ছিল। দুঃখের একটি উঠোন ছিল।

থাকুক, যার উঠোন তারই থাকুক। কেবল সেই উঠোনটি ছিল না আমার বুক।

বেড়ে ওঠা
শামস আল মমীন

কিন্ডারগার্টেন ক্লাস।
নরোম নরোম হাত পা গুটিয়ে
গোল হয়ে বসে ওরা..
মন দিয়ে শোনে ঈশপের গল্প।
একটা নরোম ছেলে নিয়মের বেড়া ভেঙে
দাঁড়ায় আমার মুখোমুখি,
মুখ ভার…
হঠাৎ বৃষ্টির মতো
ঝরঝর বলে যায়, ‘ইভান আমাকে বে..বী বলে’
ওর অভিমানী শরম মুখের দিকে
বিস্ময়ে তাকাই, কিছুক্ষণ.. তারপর বলি,
‘তাহলে তুমি কী’
ও হাত উঁচিয়ে মাথা দুলিয়ে ঠোঁট বড় করে বলে,
‘আমি বি…গ বয়’
আচ্ছা! তুমি বি…গ বয়!
‘হ্যাঁ, মা বলে আমি বিগ বয়।’
আমি ওর বেড়ে ওঠা দম্ভ প্রাণ ভরে দেখতে দেখতে
আবারো কাক ও শেয়ালের গল্প বলতে থাকি…

মুহম্মদ নূরুল হুদা
মুহম্মদ নূরুল হুদা
মোহাম্মদ নুরুল হুদা বাংলাদেশের সত্তর দশকের একজন আধুনিক কবি , একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।