এই দেশে জন্মেছি বলেই বিজ্ঞ বাউল, আমি তোমার
আঙ্গুল ধরে টেনেছিলাম ধর্ম ও ফুল
আমি তোমাকে স্পর্শ কোরে বলেছিলাম গভীরতায়
আবার যখোন আসবো, আমি দেখিয়ে দেবো
জল কেন যায় মাটির চিবুক ভিজিয়ে জলের স্রোত কে যায়
চরৈবেতি…
আমি তোমাকে শিখিয়ে দেবো
শিকড় আমার শিকড়, আমি ফুল ফুটিয়ে ফুল ফুটিয়ে
কি কোরে যাই মাটির নীচে মমতা আমি দেখিয়ে দেবো
কি কোরে যাই কি কোরে যাই!
এই দেশে জন্মেছি বলেই ফুল ফোটানোর প্রজ্ঞা আমি
পেয়েছিলাম, অনাবরণ আজ যদিবা হত্যাপ্রবণ
খরায় আমি।
পুড়তে পুড়তে এই ভাবে যাই, এই ভাবে যাই
এই দেশে জন্মেছি বলেই ব্যর্থ বাউল, আমি তবুও বলেছিলাম
চরৈ্বেতি…চরৈবেতি
পুড়তে পুড়তে যেই ভাবে যাই চলেছিলাম চরৈবেতি
পুড়তে পুড়তে সবটা আমার
সবটা জুড়ে শীতল… আমি যেভাবে জল বলেছিলাম!
পুড়তে পুড়তে বলেছিলাম
মাটির চিবুক ভিজিয়ে আমি আমার চোখে বলেছিলাম।
বিচিত্রা : ১৩৮০
Related Articles
ভালোবাসা তিনশতাব্দীর
দু’চোখে কলমির ফুল যেন তুমি বৃষ্টির সে বনঘ্রাণ পেয়ে গেছো, সকালে, সুন্দর বহুকাল বাদে যেন মাছস্পর্শ পাও দাঁতের মাড়ির মধ্যে, নেবুগাছ গন্ধের মতন তীব্র ছেলেখেলা আর মিথ্যে মিথ্যে কথা! বয়স হয়েছে, তবু বৃদ্ধ, তুমি নিজেকে হারাও! অদ্ভূত দুঃখের গন্ধ তোমার শরীরে— বৃদ্ধ, মনঃ ছিলো নাকি তোমার শরীরে বড়ো কষ্ট, বৃদ্ধ, আজ তোমার শরীরে অতিস্বাভাবিকতার হাওয়া […]
পৈতৃক আঙন
গোধূলিগগনে মেঘে ঢেকেছিল তারা, যুদ্ধ ছাড়াই ধ্বংসাবশেষে বাস তোমাকে দেখলে মনে হয় আজীবন বাস্তুহারা, শূন্যতার ভিতরে হিংসতার সন্ত্রাস প্রণয়বশে কিছুই দেবে না জন্মের দেশ, কেটে যায় বেলা, সূর্যাস্তে আকাশকুসুমচয়ন বহমান রক্ত যখন নিঃশেষ ভস্মের ভিতরে মাতৃভূমি, পৈতৃক আঙন জার্মানিপ্রবাসী
মৃত্যুর শরীর ভেঙে
বিদ্যুতেরও সাধ্য নেই রুদ্ধ করে রক্তের প্রবাহ— যেভাবে রাতের ঘরে এলে তুমি দাঁড়ালে যখন শরীরের বস্ত্র ছেড়ে, চুলে ঝড়, যখন উধাও লজ্জার সকল শীল, মরে যাই আমি যে তখন! বিপুল সমুদ্র দেখে ছোট এক জাহাজের মাঝি— ধ্রুবতারা লক্ষ্যহারা, কম্পাসের কাঁটাও বিকল— তখন যে হয় তার হাহাকার, কীভাবে যে বাঁচি— চারদিকে নাচে তার রাক্ষুসীর জল ছলচ্ছল। […]

