কবিতা

ট্রাফিক সিগন্যাল

…the Policeman crucified at the crossroads
– Mayakovsky

সব মানুষ না
কেউ কেউ মরে যাবার পর
আকাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে
হতভম্ব ট্রাফিক পুলিশের মতো
তারাদের যাওয়া আসা দেখে

আমি কি এরকম কাউকে চিনতাম
যাকে কেউ যেতে দেখেনি
যাকে চলে যেতে হয়েছিল
অস্পষ্ট চোখে
ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগে

কিছুতেই আমি ভুলে যেতে পারি না
সেই অন্ধকার জলের ঝাপটার
কথা ভাবতে ভাবতে
আকাশের মধ্যে হতভম্ব হয়ে
আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি
আর ঠাণ্ডা চশমার মধ্যে দেখতে পাই
চাঁদ লাল চাঁদ হলদে চাঁদ সবুজ…

নবারুন ভট্টাচার্য
জন্ম : ১৯৪৮-এ, বহরমপুরে | বিজন ভট্টাচার্য ও মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান নবারুন ভট্টাচার্য | পড়াশোনা করেছেন কলকতার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে এবং আশুতোষ কলেজে প্রথমে ভূতত্ত্ব নিয়ে ও পরে সিটি কলেজে ইংরেজী নিয়ে | ১৯৭৩-এ বিদেশি সংস্থায় যোগদান করে ১৯৯১ পর্যন্ত সেখানে চাকরি করেন | কিছুদিন বিষ্ণু দে-র 'সাহিত্যপত্র' সম্পাদনা করেন এবং ২০০৩ থেকে চালাচ্ছেন 'ভাষাবন্ধন' পত্রিকাটি | এর আগে দীর্ঘদিন 'নবান্ন' নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালনা করেছেন | ১৯৬৮-তে 'পরিচয়' পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম ছোটগল্প 'ভাসান' | প্রথম কবিতার বই 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না' ১৯৭২ এবং প্রথম উপন্যাস 'হারবার্ট' (পত্রিকায়প্রকাশ: ১৯৯২)| প্রথম উপন্যাস 'হারবার্ট' এর জন্য নবারুন নরসিংহ দাস (১৯৯৪), বঙ্কিম(১৯৯৬) ও সাহিত্য আকাদেমি(১৯৯৭) পুরুস্কার পেয়েছেন |