পথেচলে যেতে যেতে

বন্যা

কেমন আছ । ভাল থাক সেই কামনা সবসময় । লিখি লিখি করে লিখা হয়ে উঠে না । তুমি যা চেয়েছিলে তা জোগাড় করার পর ৬ মাস বিশ্বাস কর বছরের অর্ধেক চলে গেল । পাঠাই পাঠাই করে পাঠানো হয় না । আমি কি আসলেই অলস ছিলাম নাকি অলস হয়ে গেছি । আজ ঠিক করেছি পাঠাবোই অনেক টা আমার প্রয়োজনেই আমি আসলে স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি  দিনের পর দিন ,কি তোমার তাই মনে হয় না ? যদি তা মনে না করো তবে তা তোমার উদারতা ।

তুমি জানতে চেয়েছ বৃষ্টি কেমন হচ্ছে এদিকে ? বৃষ্টি আর গরম দুটোই আছে । আর মাস খানেক পর এ থেকে মুক্তি মিলবে । আস্তে আস্তে হেমন্তের আগমন ঘটবে । তোমাকে কতবার বললাম চলে আস একবার । ঋতুর পরিবর্তন এদশে এত স্পষ্ট চোখে পড়ে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না ।

বেড়াতে যাওয়ার কথা বলতে আমার প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কথা মনে পড়লো (অনিবার্য কারনে নামোল্লেখ করলাম না ) । এবকবার আমি এবং তিনি (অবশ্য আমার সমবয়সী ) একই গাড়িতে করে এক অনুষ্টানে যাচ্ছিলাম । তার  আগের দিন আমি ব্যাংকক হয়ে দেশে ফিরেছিলাম । ব্যাংকক এর কথা হচ্ছিল  । অনেক কথার এক পর্যায়ে তিনি বললেন “ মিতা ,ব্যাংকক বা থাইল্যান্ড  এ একা যেতে হয় আনন্দ করতে হলে ,পরিবার নিয়ে যাওয়া নয় ।“  আমি তাঁর কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম । আমি দেশে ফেরার সময় ব্যাংকক হয়ে দেশে ফিরি এই রুটটা আমার খুব ভালো লাগে । ব্যাংকক থেকে ঢাকা মাত্র ২ ঘন্টার পথ । ব্যাংককে ঢাকার টেম্পোর মতো এক ধরনের গাড়ি আছে একে থাইল্যান্ডের ভাষায় “টুকটুক” বলে । চলার সময় টুক টুক শব্দ হয় বলেই এমন নাম করন । ব্যাংকক শহরে নাইট বাজার আছে । খুবই মজার নামের মতোই বাজারটি রাতেই বসে সেখানে আত্নীয় বা বন্ধুদের এমনকি নিজের জন্য উপহার হিসাবে কেনার বিভিন্ন রকম থাই পন্য পাওয়া যায় । সেখানে তুমি দামাদামী  করতে পারবে(আসলে আমরা দামাদামী করতে অব্যস্ত )  ।  এ ছাড়া নৌকার উপরে ফ্লোটিং মার্কেট ও আছে । আর বৌদ্ব মন্দির তো আছেই । তুমি যদি বৌদ্ব মন্দির দেখতে যাও তো আগে থেকেই তথ্য নিয়ে  যাবে । কিছু কিছু মন্দির দুপুর ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত প্রবেশ নিষিদ্ব থাকে । এবার আমার বন্ধুর কথাই আসি । আনন্দ বা মজা করতে হলে দেশেই করা যায় । তুমি তো জান ঢাকায় আমাকে হোটেলেই থাকতে হয় । ঢাকা শহর এর  অনেক নামী হোটেলেই রাত্রি যাপনের সুবাধে দেখেছি এসব মজা করতে হলে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হয় না । মানি ব্যাগের আকার টা ভালো হলেই সব মিলে অনেকটা বাঘের চোখের মতো । তুমি তো জান আমার ওসবে কোন লোভ নেই । ভালো থাকার জন্য নিজের ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট ।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  How to add a sticky post section in wordpress theme without plugin

আমরা বাঙ্গালীরা বড় ঘরকুনো । ছুটির দিনটা তুমি ঘুমিয়েই কাটিয়ে দাও । অন্য দিনগুলোর চেয়ে ছুটির দিনে আমার তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙ্গে । ঠিক তোমার উল্টো । তুমি পাশে থাকলে হয়তো আমাকে ঘুমিয়েই রাখতে । ছুটির দিনেই আমার যত কাজ বাগানের ফুল থেকে ফল সবজি ওদের সেবা করতেই দিনটা ফুরিয়ে যায় । ওদের দেখা শুনা করতে করতে আমার সেই কথাটিই মনে পড়ে “ সম্পর্ক হচ্ছে ফুল গাছের মতো ,সার পানি দিতে হয় যত্ন করতে হয় না হয় মরে যায় ।“

গত সপ্তাহে গ্রীস্মের ছুটি নিয়েছিলাম ৫ দিন । বাড়ী থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্র তীরবর্তী এক শহরে বেড়াতে গেলাম । এদিক ওদিক ঘুরে একদিন বর্শি দিয়ে মাছ ধরতে গেলাম সমুদ্রে … এমনিতেই বর্শি দিয়ে মাছ ধরতে ভালো লাগে না । বর্শি দিয়ে মাছ ধরতে হলে প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন হয় । আসলে আমার সে রকম ধৈর্য্য নেই। তোমাকে আগে বলেছি কিনা জানি না ,গত বছর এই আগষ্ট মসে পাশের শহরে লেক এ মাছ ধরেছিলাম । একটা রুই মাছ ধরেছিলাম । সেই মাছটা এখনো একুইরিয়ামের মধ্যে বেঁচে আছে । সেই মাছের সাথে আরো কয়েকটি মাছ ধরে ছিলাম । একটির নাম উগুই (এটি জাপানী নাম বাংলা কি আমি জানি না ) । উগুই আসলে

রাক্ষুসে মাছ অন্তত আমার তাই মনে হয়েছে । একই একুইরিয়ামের মধ্যে রুই ,উগুই আর গোল্ড ফিস সব মিলে ৮টি মাছ । ভালোই চলছিল । মাস দুয়েক আগে আমি তিন দিনের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলাম । ফিরে আমি একুইরিয়ামের দিকে তাকিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম তা এই  জীবনে আমি কিছুতেই ভুলতে পারবো না । একটা গোল্ড ফিসের দুটো চোখই নেই । কি বীভৎস দৃশ্য । বেঁচে আছে কিন্তু চোখ দুটো নেই । আমার ধারনা খিদের তাড়নায় উগুই গোল্ড ফিসের চোখ দুটো …। গোল্ড ফিস টি আরো দুই দিন এভাবে বেঁচে ছিল । দোষ আমারই । দুটো একুইরিয়ামের ঝামেলা কমাতে একসাথে করেছিলাম … নিজের মধ্যে এক ধরনের অপরাধ বোধ জন্মাল ।

সম্পর্কিত পোষ্ট =>  বাঙালি হওয়া সহজ নয়

কোন ক্ষিদেই জমিয়ে রাখতে নেই সে মনেরই হোক বা শরীরেই হোক ।

জীবন বড় কঠিন বেঁচে থাকা। তবুও দিন চলে যায় আশায় আশায় । তুমি ভালো থেকো ।

মিতা

২০ আগষ্ট২০১৫

মন্তব্য

মন্তব্য সমুহ

মিতা- এর আরো পোষ্ট দেখুন →
রেটিং করুনঃ
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...