তোমাকে দেখার পর থেকে কীরকম গণ্ডগোল
হয়ে গেলো সমস্ত জীবন,
ওলটপালট হয়ে গেলো সবকিছু-
সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেললাম বুঝ খেই, চিন্তাসূত্র হয়ে গেলো
বিশৃঙ্খল, এলোমেলো;
কেবল তোমারই মুখ দেখি বৃক্ষপত্রে, জ্যোতিস্কমণ্ডলে
উচ্ছল ঝর্নার জলে, বুকশেলফে, পড়ার টেবিলে,
টেলিভিশনের উজ্জ্বল পর্দায়-
এমনকি ডিশ অ্যান্টেনাও ঢেকে দিতে পারেনি তোমার মুখ
রেডিও বা ক্যাসেট খুলেই শুনি তোমার নিবিড় কণ্ঠস্বর।
তোমাকে দেখার পর থেকে কীরকম পাল্টে গেলো
আমার আকাশ
সেখানে এখন শুধু চাঁদের বদলে তুমি ওঠো,
আর একটাই ওঠে সন্ধ্যাতারা, সেও তুমি।
বইগুলো খুলে দেখি সব গ্রন’ জুড়ে শুধু
এই একটাই শব্দ তাতে লেখা-
তোমাকে দেখার পর থেকে অসম্ভব বদলে গেছে
আমার ভূবন
বদলে গেছে জলবায়ু, দিনরাত্রি, ঋতু।
Related Articles
আমি কেবলি স্বপন করেছি বপন
আমি কেবলি স্বপন করেছি বপন বাতাসে— তাই আকাশকুসুম করিনু চয়ন হতাশে। ছায়ার মতন মিলায় ধরণী, কূল নাহি পায় আশার তরণী, মানসপ্রতিমা ভাসিয়া বেড়ায় আকাশে। কিছু বাঁধা পড়িল না শুধু এ বাসনা- বাঁধনে। কেহ নাহি দিল ধরা শুধু এ সুদূর সাধনে। আপনার মনে বসিয়া একেলা অনলশিখায় কী করিনু খেলা, দিনশেষে দেখি ছাই হল সব হুতাশে। আমি […]
এসেছি দাফন ক’রে
কেউ কি শুনতে পাচ্ছে বহুদূর থেকে ভেসে আসা বন – পোড়া হরিণীর আর্তনাদ ? সর্ষেক্ষেত , আশশ্যাওড়ার ঝোপ , মাছরাঙা আর পানকৌড়িময় বিল , প্রান্তর পেরিয়ে – আসা ধ্বনি ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে এ – শহরে রাজপথে , গেরস্ত পাড়ায় , কলোনিতে দেয়ালে দেয়ালে কারাগারে , অত্যন্ত সতর্ক প্রহরীবেষ্টিত ছাউনিতে , পরিখায় কেউ কি শুনতে পাচ্ছে? […]
এই শেষ পায়রা
এই শেষ পায়রা। এই শেষ শান্তির পতাকা। ঘাড়ে পোঁতা। কিন্তু তার ছুঁচালো লোহার দণ্ড ঘাড়ে ঢুকে থামে না–এগোয়। খোঁজে শিরদাঁড়া–ইলেকট্রোড। পায়। ছোঁয়। গর্ত করে আর দিন চলে যায় শতলক্ষ বছরের পার তারপর যারা আসে, তারা দেখে বসে আছে একটু মনুষ্যমূর্তি, কাঁধে পাখি– দুজনই অঙ্গার!


